ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট হামলা
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর পাল্টা রকেট হামলা
এর আগে লেবানন থেকে ছোড়া একটি রকেট আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম।


গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মোট ৩৯টি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেটে উত্তর ইসরায়েলের জনগোষ্ঠীর জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের গভীরে অগ্রসর হতে থাকা ইসরায়েলি সেনাদেরও একটি ব্যয়বহুল লড়াইয়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

লেবাননভিত্তিক রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম ঘোষণা করেছেন, ‘যতদিন প্রাণ থাকবে, ততদিন প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।’ আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, ‘ইসরায়েলি শত্রু স্থলযুদ্ধে কার্যত পরাজিত হয়েছে এবং তারা পূর্ণমাত্রার স্থল আক্রমণ চালাতে সক্ষম হয়নি।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং পাকিস্তানে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
এর আগে লেবানন থেকে ছোড়া একটি রকেট আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানের কাছে এখনো ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম এমন এক হাজারের বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল–১২ এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের অবকাঠামোতে কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য ‘জাহান্নামের দরজা’ খুলে দেওয়া হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ইউনিট।

জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস বলেন, আমরা এমন একটি বৃহত্তর যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে আছি, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করবে এবং বিশ্বব্যাপী নাটকীয় প্রভাব ফেলবে।’

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে আল-মালিকিয়া ও ইয়ারাউন বসতিতে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া হয়।

দক্ষিণ লেবাননে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা বাফার জোন তৈরি করলে সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম কমানো সম্ভব হবে এবং দেশটির উত্তরাঞ্চলের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৩ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন আপন ভাই-বোন। শনিবার (২৮ মার্চ) একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় তাদের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে দুজনের ছবি প্রকাশ করেছে ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিকল্পনা করেছেন যুদ্ধ ‘আরও কিছু সময়’ চালিয়ে যেতে, যেন ইরানের বর্তমান সরকারকে ব্যাপকভাবে দুর্বল করা যায়।

ইরানে অভিযানের পাশাপাশি লেবাননেও স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বর্তমানে তারা লেবাননের ভূখণ্ডের আরও গভীরে ঢোকার চেষ্টা করছে।

বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, সেখানে তারা ‘কঠোর সামরিক অভিযান’ চালাতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হিজবুল্লাহর হামলায় এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কৌশল নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

এছাড়া তেল আবিবের উত্তরে ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি স্থাপনাতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে গোষ্ঠিটি।

বার্তায় কাসেম লিখেছেন, ‘আপনার নির্বাচনের জন্য আমরা আপনাকে অভিনন্দন জানাই এবং আপনার নেতৃত্বের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি।’

সোমবার (২ মার্চ) রাজধানী বৈরুতের প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদে মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন নাওয়াফ। সেই বৈঠকে চেয়ারম্যান ছিলেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন।

উত্তর ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর।

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লেবাননে হেজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রাজধানী বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ওপর ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সরাসরি তদারকি বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলআরাবিয়া।
