
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কৌশলগত সম্পর্ক নতুন করে মূল্যায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

জেট ফুয়েলের মূল্য দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকলে ইউরোপের বেশ কিছু বিমান সংস্থা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন রায়ানএয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল ওলিয়ারি।

সমাজবিজ্ঞানী ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা খুব কম ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক ফল বয়ে আনে। অনেক সময় এগুলো সরকারের আচরণ বদলাতে ব্যর্থ হয়, বরং সাধারণ নাগরিকদের ওপরই এর নেতিবাচক প্রভাব বেশি পড়ে।

অন্য দেশের ওপর নিজেদের নীতি চাপিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে মন্তব্য করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত উপসাগরীয় শীর্ষ সম্মেলনকে আঞ্চলিক ঐক্যের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ আল থানি। তিনি বলেন, এই সম্মেলন বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর অভিন্ন অবস্থানকে তুলে ধরেছে এবং পারস্পরিক সমন্বয় ও পরামর্শ জোরদারের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় দুই মাস আগে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধকে পরিণত হয়েছে। স্বভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হলেও বর্তমানে এর কার্যক্রম মার

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে ইরান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি করেন।

ভারতের শীর্ষ তিন বিমান পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো ও স্পাইসজেট সরকারকে সতর্ক করে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের বিমান শিল্প ‘কার্যক্রম বন্ধের’ দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যেতে পারে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই সিদ্ধান্তকে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে এই সিদ্ধান্তে সৌদি আরব চাপের মুখে পড়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে সৌদি আরবের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির রিয়াদে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী ওয়ালিদ বিন আবদুল করিম আল খুরেইজির সঙ্গে বৈঠকে এ সংহতি প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) পর্যালোচনা সম্মেলনে ইরানকে সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে।

নেবেনজিয়া বলেন, ‘এমনভাবে ইরানের ওপর সম্পূর্ণ দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যেন ইরানই প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়েছে।’

বর্তমান ‘অত্যন্ত অস্থিতিশীল’ পরিস্থিতিতে উপকূলীয় নিরাপত্তা ও নিরাপদ নৌ-চলাচলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এ পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।

সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ট্যাঙ্কারটি অবরোধ অমান্য করে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা সফল করতে ব্রিটিশ সরকার কাজ করছে।

বিশ্বের নবীনতম দেশ দক্ষিণ সুদানে পরিবহন অবকাঠামো এখনও দুর্বল এবং বিমান খাতের নিরাপত্তা রেকর্ড ভালো নয়। ২০১১ সালে স্বাধীনতার পরবর্তী এক দশকে দেশটিতে ৫৫টির বেশি বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে।

ইরানের নতুন প্রস্তাব নিয়ে নিজের নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প।

নিউইয়র্কে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইরান সংকট নিয়ে কড়া অবস্থান তুলে ধরেছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো। তার মতে, তেহরানের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য ছাড় এবং নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান এখন ‘আন্তরিক’ মনোভাব দেখাচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তির মূল শর্ত হতে হবে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখা।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রস্থান কৌশল চোখে পড়ছে না।