নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধে ইসলামী ব্যাংকে অচলাবস্থা

নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধে ইসলামী ব্যাংকে অচলাবস্থা
রাশেদ রুবেল

নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকটির কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন চেয়ারমান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে খুরশীদ আলমকে। কিন্তু তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিকে মেনে নিতে পারেনি একটি পক্ষ। তারা তার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।
তবে গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপের পক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগে বিএনপি সরকারের সমর্থন রয়েছে।
ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে আন্দোলন ও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ চলতে থাকলে ব্যাংকটির ওপর গ্রাহকের আস্থা কমতে থাকবে এবং একপর্যায়ে ব্যাংকটি কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। তবে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবির আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী যে সমর্থন দিচ্ছে-সে বিষয়টি স্পষ্ট। কারণ, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে গ্রাহক ফোরামের দাবিগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন খুরশীদ আলম। গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে জোবায়েদুর রহমানের পদত্যাগের পর খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি
নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের অপসারণসহ ৭ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। বুধবার (৩ জুন) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শেষে সংগঠনটি জানায়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। আন্দোলনকারীদের ৭টি দাবির মধ্যে রয়েছে খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল, লুটপাটে জড়িত কাউকে ব্যাংকের বোর্ডে না রাখা, ব্যাংক রেজোল্যুশন অ্যাক্ট থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলমের সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থ আদায়, এস আলমকে সব ব্যাংক থেকে বহিষ্কার এবং ইসলামী ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের টাকা লুটকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
বিক্ষোভের প্রথম দিন যা ঘটেছিল
সোমবার (১ জুন) ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম অফিস এবং বোর্ড মিটিং করার কথা ছিল খুরশীদ আলমের। সকাল থেকেই তিনি যেন অফিস করতে না পারেন সেজন্য ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে কয়েক শ মানুষ আন্দোলন শুরু করেন। তারা ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আইডি কার্ড যাচাই করেন বলে জানিয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। আন্দোলনকারীদের অনেকেই একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক বলে অভিযোগ ওই কর্মকর্তাদের। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে আনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে জলকামান নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচি চলাকালেই বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইনে বোর্ড মিটিং করার অনুমতি দেয়। এরপর কর্মকর্তারা যাতে ওই অনলাইন মিটিংয়ে যোগ না দিতে পারে সেজন্য আন্দোলকারীরা তাদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছেন এবং হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নানাভাবে চেষ্টা করার পরও আন্দোলনকারীরা ব্যাংকের বোর্ড মিটিং বন্ধ করতে পারেনি। রাত সাড়ে ৯টায় ওই মিটিং হয়। ওই মিটিংয়ে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমও অংশ নেন। তবে আন্দোলনের প্রথম দিনে সাধারন গ্রাহকেরা ৮০০ কোটি টাকার মতো আমানত তুলে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ
‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর অভিযোগ, এস আলম গ্রুপ এবং তাদের সহযোগীরা ব্যাংকিং খাতে নতুন করে ষড়যন্ত্র ও লুটপাটের পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাংকটিতে খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য নতুন পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগের দাবি করেছে গ্রাহক ফোরাম।
তবে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া আইনসম্মত। এসব ধারা ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেয়।
এদিকে গ্রাহক ফোরাম দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানায়, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এস আলম গ্রুপ ২২ জন বেনামি শেয়ারহোল্ডার ও কিছু কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের ৭২ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ছাড়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও এস আলম গ্রুপের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ সত্য হলে ব্যাংকটিতে গ্রুপটির প্রকৃত শেয়ার প্রায় ৮১.৯২ শতাংশ হবে। এসব সম্পদ জব্দ করার দাবি করেন তারা।
এই পরিস্থিতিতে গ্রাহক ফোরাম ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ ও এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেওয়া প্রায় ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণ আদায়ের দাবি জানিয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের বিষয়ে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক একটি ভালো ব্যাংক। এর বিপুলসংখ্যক গ্রাহক আছে। ব্যাংকটি নিয়ে অচলাবস্থা ভালো কোনো ফল বয়ে আনবে না। এর প্রভাব ব্যাংকিং খাতের ওপর পড়বে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ আইনসম্মত ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। এ নিয়োগকে রাজনৈতিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে তিনি বোর্ড মিটিং করেছেন। তিনিই ব্যাংকিং কার্যক্রম চলমান রাখবেন। এস আলমের সঙ্গে তার (বর্তমান চেয়ারম্যানের) সম্পৃক্ততা নেই।’

নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকটির কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন চেয়ারমান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে খুরশীদ আলমকে। কিন্তু তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিকে মেনে নিতে পারেনি একটি পক্ষ। তারা তার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।
তবে গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপের পক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগে বিএনপি সরকারের সমর্থন রয়েছে।
ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে আন্দোলন ও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ চলতে থাকলে ব্যাংকটির ওপর গ্রাহকের আস্থা কমতে থাকবে এবং একপর্যায়ে ব্যাংকটি কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। তবে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবির আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী যে সমর্থন দিচ্ছে-সে বিষয়টি স্পষ্ট। কারণ, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে গ্রাহক ফোরামের দাবিগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন খুরশীদ আলম। গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে জোবায়েদুর রহমানের পদত্যাগের পর খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি
নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের অপসারণসহ ৭ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। বুধবার (৩ জুন) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শেষে সংগঠনটি জানায়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। আন্দোলনকারীদের ৭টি দাবির মধ্যে রয়েছে খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল, লুটপাটে জড়িত কাউকে ব্যাংকের বোর্ডে না রাখা, ব্যাংক রেজোল্যুশন অ্যাক্ট থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলমের সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থ আদায়, এস আলমকে সব ব্যাংক থেকে বহিষ্কার এবং ইসলামী ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের টাকা লুটকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
বিক্ষোভের প্রথম দিন যা ঘটেছিল
সোমবার (১ জুন) ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম অফিস এবং বোর্ড মিটিং করার কথা ছিল খুরশীদ আলমের। সকাল থেকেই তিনি যেন অফিস করতে না পারেন সেজন্য ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে কয়েক শ মানুষ আন্দোলন শুরু করেন। তারা ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আইডি কার্ড যাচাই করেন বলে জানিয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। আন্দোলনকারীদের অনেকেই একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক বলে অভিযোগ ওই কর্মকর্তাদের। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে আনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে জলকামান নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচি চলাকালেই বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইনে বোর্ড মিটিং করার অনুমতি দেয়। এরপর কর্মকর্তারা যাতে ওই অনলাইন মিটিংয়ে যোগ না দিতে পারে সেজন্য আন্দোলকারীরা তাদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছেন এবং হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নানাভাবে চেষ্টা করার পরও আন্দোলনকারীরা ব্যাংকের বোর্ড মিটিং বন্ধ করতে পারেনি। রাত সাড়ে ৯টায় ওই মিটিং হয়। ওই মিটিংয়ে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমও অংশ নেন। তবে আন্দোলনের প্রথম দিনে সাধারন গ্রাহকেরা ৮০০ কোটি টাকার মতো আমানত তুলে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ
‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর অভিযোগ, এস আলম গ্রুপ এবং তাদের সহযোগীরা ব্যাংকিং খাতে নতুন করে ষড়যন্ত্র ও লুটপাটের পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাংকটিতে খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য নতুন পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগের দাবি করেছে গ্রাহক ফোরাম।
তবে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া আইনসম্মত। এসব ধারা ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেয়।
এদিকে গ্রাহক ফোরাম দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানায়, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এস আলম গ্রুপ ২২ জন বেনামি শেয়ারহোল্ডার ও কিছু কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের ৭২ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ছাড়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও এস আলম গ্রুপের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ সত্য হলে ব্যাংকটিতে গ্রুপটির প্রকৃত শেয়ার প্রায় ৮১.৯২ শতাংশ হবে। এসব সম্পদ জব্দ করার দাবি করেন তারা।
এই পরিস্থিতিতে গ্রাহক ফোরাম ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ ও এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেওয়া প্রায় ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণ আদায়ের দাবি জানিয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের বিষয়ে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক একটি ভালো ব্যাংক। এর বিপুলসংখ্যক গ্রাহক আছে। ব্যাংকটি নিয়ে অচলাবস্থা ভালো কোনো ফল বয়ে আনবে না। এর প্রভাব ব্যাংকিং খাতের ওপর পড়বে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ আইনসম্মত ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। এ নিয়োগকে রাজনৈতিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে তিনি বোর্ড মিটিং করেছেন। তিনিই ব্যাংকিং কার্যক্রম চলমান রাখবেন। এস আলমের সঙ্গে তার (বর্তমান চেয়ারম্যানের) সম্পৃক্ততা নেই।’

নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধে ইসলামী ব্যাংকে অচলাবস্থা
রাশেদ রুবেল

নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকটির কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন চেয়ারমান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে খুরশীদ আলমকে। কিন্তু তাকে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিকে মেনে নিতে পারেনি একটি পক্ষ। তারা তার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।
তবে গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গ্রুপের পক্ষে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে। এই নিয়োগে বিএনপি সরকারের সমর্থন রয়েছে।
ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে আন্দোলন ও নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ চলতে থাকলে ব্যাংকটির ওপর গ্রাহকের আস্থা কমতে থাকবে এবং একপর্যায়ে ব্যাংকটি কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। তবে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ ৭ দফা দাবির আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী যে সমর্থন দিচ্ছে-সে বিষয়টি স্পষ্ট। কারণ, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে গ্রাহক ফোরামের দাবিগুলোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গর্ভনরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন খুরশীদ আলম। গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে জোবায়েদুর রহমানের পদত্যাগের পর খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি
নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের অপসারণসহ ৭ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। বুধবার (৩ জুন) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শেষে সংগঠনটি জানায়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। আন্দোলনকারীদের ৭টি দাবির মধ্যে রয়েছে খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল, লুটপাটে জড়িত কাউকে ব্যাংকের বোর্ডে না রাখা, ব্যাংক রেজোল্যুশন অ্যাক্ট থেকে ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলমের সম্পত্তি বিক্রি করে লুট করা অর্থ আদায়, এস আলমকে সব ব্যাংক থেকে বহিষ্কার এবং ইসলামী ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের টাকা লুটকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
বিক্ষোভের প্রথম দিন যা ঘটেছিল
সোমবার (১ জুন) ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম অফিস এবং বোর্ড মিটিং করার কথা ছিল খুরশীদ আলমের। সকাল থেকেই তিনি যেন অফিস করতে না পারেন সেজন্য ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে কয়েক শ মানুষ আন্দোলন শুরু করেন। তারা ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আইডি কার্ড যাচাই করেন বলে জানিয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। আন্দোলনকারীদের অনেকেই একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক বলে অভিযোগ ওই কর্মকর্তাদের। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে আনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে জলকামান নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচি চলাকালেই বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইনে বোর্ড মিটিং করার অনুমতি দেয়। এরপর কর্মকর্তারা যাতে ওই অনলাইন মিটিংয়ে যোগ না দিতে পারে সেজন্য আন্দোলকারীরা তাদের মুঠোফোন কেড়ে নিয়েছেন এবং হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নানাভাবে চেষ্টা করার পরও আন্দোলনকারীরা ব্যাংকের বোর্ড মিটিং বন্ধ করতে পারেনি। রাত সাড়ে ৯টায় ওই মিটিং হয়। ওই মিটিংয়ে নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমও অংশ নেন। তবে আন্দোলনের প্রথম দিনে সাধারন গ্রাহকেরা ৮০০ কোটি টাকার মতো আমানত তুলে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
গ্রাহক ফোরামের অভিযোগ
‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর অভিযোগ, এস আলম গ্রুপ এবং তাদের সহযোগীরা ব্যাংকিং খাতে নতুন করে ষড়যন্ত্র ও লুটপাটের পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাংকটিতে খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এজন্য নতুন পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগের দাবি করেছে গ্রাহক ফোরাম।
তবে ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ও ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া আইনসম্মত। এসব ধারা ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেয়।
এদিকে গ্রাহক ফোরাম দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানায়, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে এস আলম গ্রুপ ২২ জন বেনামি শেয়ারহোল্ডার ও কিছু কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের ৭২ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণে নেয়। এ ছাড়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও এস আলম গ্রুপের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ সত্য হলে ব্যাংকটিতে গ্রুপটির প্রকৃত শেয়ার প্রায় ৮১.৯২ শতাংশ হবে। এসব সম্পদ জব্দ করার দাবি করেন তারা।
এই পরিস্থিতিতে গ্রাহক ফোরাম ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপ ও এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেওয়া প্রায় ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি ঋণ আদায়ের দাবি জানিয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের বিষয়ে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক একটি ভালো ব্যাংক। এর বিপুলসংখ্যক গ্রাহক আছে। ব্যাংকটি নিয়ে অচলাবস্থা ভালো কোনো ফল বয়ে আনবে না। এর প্রভাব ব্যাংকিং খাতের ওপর পড়বে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ আইনসম্মত ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। এ নিয়োগকে রাজনৈতিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। ইতোমধ্যে তিনি বোর্ড মিটিং করেছেন। তিনিই ব্যাংকিং কার্যক্রম চলমান রাখবেন। এস আলমের সঙ্গে তার (বর্তমান চেয়ারম্যানের) সম্পৃক্ততা নেই।’




