মাকে অবহেলা করা হয়নি: দাবি বুয়েট অধ্যাপক ছেলের

মাকে অবহেলা করা হয়নি: দাবি বুয়েট অধ্যাপক ছেলের
সিটিজেন ডেস্ক

রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে প্রবীণ নারী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে মুখ খুলেছেন তার ছোট ছেলে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এ কে এম আশিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার গভীর শোক ও মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তাঁদের কষ্ট আরও বেড়েছে।
বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আশিকুর রহমান বলেন, ঈদের দিন বিকেলে পরিবার নিয়ে মাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তার জন্য খাবার রান্না করে নিয়ে যাই। সময়জ্ঞান কমে যাওয়ায় একটি দেয়ালঘড়িও নিয়ে গিয়েছিলাম এবং সেটি ঘরে টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
গত ৩১ মে রাতে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি তার মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে ওই বাসায় থাকতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ফ্ল্যাটটির অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও নজরে আসে।
নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়, কারণ তার সন্তানদের মধ্যে একজন সরকারের যুগ্ম সচিব এবং আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। এ ঘটনায় বুধবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানান, প্রয়োজনে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
অধ্যাপক আশিকুর রহমান বলেন, অনেকেই মনে করছেন, আমরা মায়ের খোঁজখবর রাখিনি। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়।
তিনি জানান, বাবার মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় তিনি নিজেই মাকে নিজের কাছে রেখেছিলেন। ২০০৯ সালে মাকে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন। বিদেশে অবস্থানের সময় তাকে শাশুড়ির বাসায় রাখা হয়েছিল। পরে আবার নিজের কাছে নিয়ে আসেন। মাঝেমধ্যে নূর জাহান বেগম আত্মীয়স্বজনের বাসাতেও যেতেন। করোনাকালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
আশিকুর রহমানের ভাষ্য, ২০২৪ সাল থেকে তার মা মেয়ের বাসায় বসবাস শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, নূর জাহান বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা অনেক ক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়। যদিও এ বিষয়ে কখনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়নি।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার বোন ফাতিমা নাসরীনও স্বামীর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। নিঃসন্তান জীবন এবং দীর্ঘদিন একা থাকার কারণে তাঁর মানসিক অবস্থারও অবনতি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফ্ল্যাটের নোংরা পরিবেশের ভিডিও প্রসঙ্গে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের কাউকে বাসায় কাজ করতে দিতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার গৃহকর্মীর ব্যবস্থা করলেও সেগুলো বেশিদিন টেকেনি। মায়েরও বাইরের লোকজন নিয়ে নানা ধরনের সন্দেহ ছিল বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, মা ও বোন দুজনের মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেক সময় চাইলেও হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি। জোর করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
ঘটনার দিন সম্পর্কে আশিকুর রহমান জানান, ৩১ মে বিকেলে তার বোন ফোন করে জানান যে মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা হয় এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে মরদেহে পোকা ধরার যে তথ্য পুলিশ জানিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। তার দাবি, তিনি নিজে এমন কিছু দেখেননি।
পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানিয়েছেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহটি বিছানায় ছিল এবং শরীরের কিছু অংশে পচনের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল।
নূর জাহান বেগমের মৃত্যু ও তার বসবাসের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আশিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক বলা যেতে পারে এবং সমালোচনাও হতে পারে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।
এদিকে নূর জাহান বেগমের মেয়ে ফাতিমা নাসরীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহ উদ্ধারের অন্তত এক থেকে দুই দিন আগে নূর জাহান বেগমের মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে প্রবীণ নারী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে মুখ খুলেছেন তার ছোট ছেলে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এ কে এম আশিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার গভীর শোক ও মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তাঁদের কষ্ট আরও বেড়েছে।
বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আশিকুর রহমান বলেন, ঈদের দিন বিকেলে পরিবার নিয়ে মাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তার জন্য খাবার রান্না করে নিয়ে যাই। সময়জ্ঞান কমে যাওয়ায় একটি দেয়ালঘড়িও নিয়ে গিয়েছিলাম এবং সেটি ঘরে টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
গত ৩১ মে রাতে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি তার মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে ওই বাসায় থাকতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ফ্ল্যাটটির অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও নজরে আসে।
নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়, কারণ তার সন্তানদের মধ্যে একজন সরকারের যুগ্ম সচিব এবং আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। এ ঘটনায় বুধবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানান, প্রয়োজনে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
অধ্যাপক আশিকুর রহমান বলেন, অনেকেই মনে করছেন, আমরা মায়ের খোঁজখবর রাখিনি। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়।
তিনি জানান, বাবার মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় তিনি নিজেই মাকে নিজের কাছে রেখেছিলেন। ২০০৯ সালে মাকে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন। বিদেশে অবস্থানের সময় তাকে শাশুড়ির বাসায় রাখা হয়েছিল। পরে আবার নিজের কাছে নিয়ে আসেন। মাঝেমধ্যে নূর জাহান বেগম আত্মীয়স্বজনের বাসাতেও যেতেন। করোনাকালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
আশিকুর রহমানের ভাষ্য, ২০২৪ সাল থেকে তার মা মেয়ের বাসায় বসবাস শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, নূর জাহান বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা অনেক ক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়। যদিও এ বিষয়ে কখনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়নি।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার বোন ফাতিমা নাসরীনও স্বামীর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। নিঃসন্তান জীবন এবং দীর্ঘদিন একা থাকার কারণে তাঁর মানসিক অবস্থারও অবনতি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফ্ল্যাটের নোংরা পরিবেশের ভিডিও প্রসঙ্গে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের কাউকে বাসায় কাজ করতে দিতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার গৃহকর্মীর ব্যবস্থা করলেও সেগুলো বেশিদিন টেকেনি। মায়েরও বাইরের লোকজন নিয়ে নানা ধরনের সন্দেহ ছিল বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, মা ও বোন দুজনের মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেক সময় চাইলেও হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি। জোর করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
ঘটনার দিন সম্পর্কে আশিকুর রহমান জানান, ৩১ মে বিকেলে তার বোন ফোন করে জানান যে মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা হয় এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে মরদেহে পোকা ধরার যে তথ্য পুলিশ জানিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। তার দাবি, তিনি নিজে এমন কিছু দেখেননি।
পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানিয়েছেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহটি বিছানায় ছিল এবং শরীরের কিছু অংশে পচনের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল।
নূর জাহান বেগমের মৃত্যু ও তার বসবাসের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আশিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক বলা যেতে পারে এবং সমালোচনাও হতে পারে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।
এদিকে নূর জাহান বেগমের মেয়ে ফাতিমা নাসরীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহ উদ্ধারের অন্তত এক থেকে দুই দিন আগে নূর জাহান বেগমের মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাকে অবহেলা করা হয়নি: দাবি বুয়েট অধ্যাপক ছেলের
সিটিজেন ডেস্ক

রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে প্রবীণ নারী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে মুখ খুলেছেন তার ছোট ছেলে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক এ কে এম আশিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার গভীর শোক ও মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তাঁদের কষ্ট আরও বেড়েছে।
বুধবার দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আশিকুর রহমান বলেন, ঈদের দিন বিকেলে পরিবার নিয়ে মাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তার জন্য খাবার রান্না করে নিয়ে যাই। সময়জ্ঞান কমে যাওয়ায় একটি দেয়ালঘড়িও নিয়ে গিয়েছিলাম এবং সেটি ঘরে টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
গত ৩১ মে রাতে রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি তার মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে ওই বাসায় থাকতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ফ্ল্যাটটির অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও নজরে আসে।
নূর জাহান বেগমের মৃত্যুর পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পায়, কারণ তার সন্তানদের মধ্যে একজন সরকারের যুগ্ম সচিব এবং আরেকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। এ ঘটনায় বুধবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আবদুল বারী জানান, প্রয়োজনে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
অধ্যাপক আশিকুর রহমান বলেন, অনেকেই মনে করছেন, আমরা মায়ের খোঁজখবর রাখিনি। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়।
তিনি জানান, বাবার মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় তিনি নিজেই মাকে নিজের কাছে রেখেছিলেন। ২০০৯ সালে মাকে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন। বিদেশে অবস্থানের সময় তাকে শাশুড়ির বাসায় রাখা হয়েছিল। পরে আবার নিজের কাছে নিয়ে আসেন। মাঝেমধ্যে নূর জাহান বেগম আত্মীয়স্বজনের বাসাতেও যেতেন। করোনাকালে তার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
আশিকুর রহমানের ভাষ্য, ২০২৪ সাল থেকে তার মা মেয়ের বাসায় বসবাস শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, নূর জাহান বেগমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা অনেক ক্ষেত্রে সিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়। যদিও এ বিষয়ে কখনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয়নি।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার বোন ফাতিমা নাসরীনও স্বামীর মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। নিঃসন্তান জীবন এবং দীর্ঘদিন একা থাকার কারণে তাঁর মানসিক অবস্থারও অবনতি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফ্ল্যাটের নোংরা পরিবেশের ভিডিও প্রসঙ্গে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের কাউকে বাসায় কাজ করতে দিতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার গৃহকর্মীর ব্যবস্থা করলেও সেগুলো বেশিদিন টেকেনি। মায়েরও বাইরের লোকজন নিয়ে নানা ধরনের সন্দেহ ছিল বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, মা ও বোন দুজনের মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনেক সময় চাইলেও হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি। জোর করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
ঘটনার দিন সম্পর্কে আশিকুর রহমান জানান, ৩১ মে বিকেলে তার বোন ফোন করে জানান যে মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা হয় এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে মরদেহে পোকা ধরার যে তথ্য পুলিশ জানিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। তার দাবি, তিনি নিজে এমন কিছু দেখেননি।
পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানিয়েছেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহটি বিছানায় ছিল এবং শরীরের কিছু অংশে পচনের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল।
নূর জাহান বেগমের মৃত্যু ও তার বসবাসের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আশিকুর রহমান বলেন, ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক বলা যেতে পারে এবং সমালোচনাও হতে পারে। তবে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।
এদিকে নূর জাহান বেগমের মেয়ে ফাতিমা নাসরীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহ উদ্ধারের অন্তত এক থেকে দুই দিন আগে নূর জাহান বেগমের মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




