শিরোনাম

সমুদ্রের তলদেশে বায়ুশক্তিচালিত ডেটাসেন্টার চালু চীনের

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
সমুদ্রের তলদেশে বায়ুশক্তিচালিত ডেটাসেন্টার চালু চীনের
সমুদ্রের তলদেশে চীনের ডেটাসেন্টার। কোলাজ: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত উত্থানের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় সমুদ্রের তলদেশে বিশ্বের প্রথম বায়ুশক্তিচালিত ডেটাসেন্টার চালু করেছে চীন। সাংহাই উপকূল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে এবং পানির ১০ মিটার গভীরে অবস্থিত এ পরিবেশবান্ধব ডেটাসেন্টারটি মে মাসে তার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে।

হাইক্লাউড টেকনোলজি এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশনের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত সাংহাই লিংগাং সমুদ্রগর্ভস্থ ডেটাসেন্টার প্রদর্শনী প্রকল্প-এর ধারণক্ষমতা ২৪ মেগাওয়াট। প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ইউয়ান (১৭৭ মিলিয়ন পাউন্ড) বিনিয়োগে তৈরি এ কেন্দ্রটির মূল শক্তি সরবরাহ আসে নিকটবর্তী একটি অফশোর উইন্ডফার্ম থেকে।

প্রাকৃতিক শীতলীকরণ ব্যবস্থার কারণে ডেটাসেন্টারটি সাধারণ স্থলভিত্তিক ডেটাসেন্টারের তুলনায় বিদ্যুৎ খরচ এক-পঞ্চমাংশের বেশি কমিয়ে দেয়। প্রচলিত ডেটাসেন্টারে সার্ভার ঠান্ডা রাখতেই মোট বিদ্যুতের ২৫% থেকে ৪০% খরচ হয়, যা এখানে সাশ্রয় হচ্ছে। পাশাপাশি এটি বিপুল পরিমাণ মিঠা জলের অপচয় রোধ করবে। সম্প্রতি জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয় এক প্রতিবেদনে সতর্ক করেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ ডেটাসেন্টারগুলোর পানির ব্যবহার ৯.৩ ট্রিলিয়ন লিটারে পৌঁছাতে পারে, যা সাব-সাহারান আফ্রিকার ১৩০ কোটি মানুষের বার্ষিক পানির চাহিদার সমান।

এর আগে ২০১৮ সালে মাইক্রোসফট স্কটল্যান্ডে এমন একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প শুরু করলেও তা পরে স্থবির হয়ে পড়ে। তবে চীন দ্রুত এ প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রয়োগে সফল হয়েছে। ২০২৩ সালে হাইনানে জলের নিচে প্রথম বাণিজ্যিক ডেটাসেন্টার চালুর পর, সাংহাইয়ে এ উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বায়ুশক্তিচালিত প্রথম কেন্দ্র স্থাপন করল দেশটি। ২০৩০ সালের মধ্যে এআই পরিকাঠামোয় শতভাগ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছে চীন সরকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর পানির নিচের ই ডেটাসেন্টারের তাপীয় প্রভাব অত্যন্ত সামান্য এবং তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণযোগ্য।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এমএকে/