‘নতুন কার্ড’ নিয়ে প্রস্তুত ইরান
‘নতুন কার্ড’ নিয়ে প্রস্তুত ইরান
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবেন এমন সম্ভাবনা ‘খুবই কম’ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে তিনি বোমা হামলা পুনরায় শুরু করার হুমকি দিয়েছেন।


যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

২০২৫ সালের ৭ মে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া চার দিনের সেই যুদ্ধের এক বছর পরও দুই দেশই নিজেদের কৌশলগত বিজয়ের দাবি করছে। তবে সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি এই সংঘাত উন্মোচন করেছে উভয় দেশের নানা দুর্বলতা, যা এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায়নি।

যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। আপনাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। উত্তর ইসরায়েলের জনপদগুলো থেকে সরাসরি ও পরোক্ষ হুমকি দূর করতে হবে।

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সাম্রাজ্যবাদী আধিপত্য ও গণহত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংগীতভিত্তিক আয়োজন ‘নো ওয়ার নো এম্পায়ার’।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবেন এমন সম্ভাবনা ‘খুবই কম’ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে তিনি বোমা হামলা পুনরায় শুরু করার হুমকি দিয়েছেন।

এর আগে ট্রাম্প নিজেকে যিশু খ্রিস্টের রূপে উপস্থাপন করা একটি ছবি শেয়ার করেন। যেটাকে ঘিরে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। পরে তিনি ছবিটা মুছে ফেলেন।

আমি ৮টি যুদ্ধ থামিয়েছি। আর যদি ইরান ও লেবানন যুক্ত করি তাহলে তা দাঁড়াবে ১০টিতে। এতে লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে।

‘তারে দ্যাশে আইন্যা মাটি দিবার চাই। আপনারা আমার মাইয়াড্যারে আনবার ব্যবস্থা কইরা দ্যান।’ কান্নারত অবস্থায় কথাগুলো বলছিলেন লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত নারী শ্রমিক দিপালী আক্তারের বাবা মোফাজ্জেল হোসেন।

ইরানে আঘাত হানার প্রস্তুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজগুলোতে অস্ত্রশস্ত্র তোলা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ‘দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট’ পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এমন কথা বলেন।

শুরুতে যেখানে যুদ্ধবিরতির পক্ষে সমর্থন ছিল কম, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই মনোভাব দ্রুত বদলেছে। এটি ইঙ্গিত দেয়, অধিকাংশ ইসরায়েলি স্বল্পমেয়াদি সংঘাতই প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাদের অবস্থানও পরিবর্তিত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারী দেশগুলোকে তাদের পণ্য পাঠানোর জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে। বেশিরভাগ দেশ তেলের দৈনিক উত্তোলন অনেকাংশে হ্রাসও করেছে। আর এই সংকটের পুরো সদ্ব্যবহার করছে ইরান।

উগান্ডার সামরিক বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক- এমনটাই তারা চান। তবে তিনি জানান, ইসরায়েল যদি পরাজয়ের মুখে পড়ে, তাহলে দেশটির পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেবে উগান্ডা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলছে এমন দাবি করলেও তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর খাতাম আল আনবিয়া।

ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে তার অপারেশনকে আরও শক্তিশালী করতে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে।

উপসাগরীয় দেশ এবং জর্ডান ও মিশরের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যেন ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে এই সংকট থেকে বের করে আনার জন্য একটি সমাধান প্রস্তাব করা যায়। যাতে সব পক্ষের সম্মান রক্ষা পায়।

ন্যাটো বা উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা ১৯৪৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য হলো ‘ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আশা প্রকাশ করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের এভিয়েশন খাত, প্রবাসী কর্মীর জীবনসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৪৭৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

তেহরানের ভারতীয় রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাথালি শনিবার (১৪ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে কতগুলো জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা তিনি স্পষ্ট করেননি।

সাক্ষাৎকারে এর কিছুক্ষণ আগে তিনি ইঙ্গিত দেন যে এই সংঘাত হয়তো খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হতে খুব বেশি সময় লাগবে বলে তিনি মনে করেন না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্রই সবাইকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা সুরক্ষিত স্থানে প্রবেশ করতে হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হবে।

এই অভিযানের লক্ষ্য কেবল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করা বা সরকারকে দুর্বল করা নয়; বরং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে ইসলামিক রিপাবলিকের শাসনের অবসান ঘটে।

মূল উদ্বেগ এখন যুদ্ধ কতদিন চলবে তা নিয়ে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশে বোমা হামলা চালিয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মার্কিন জনগণের জীবনে সরাসরি তেমন প্রভাব পড়েনি।
