শিরোনাম

নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ১২ লাখ মানুষ: ইউনিসেফ

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
নতুন করে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ১২ লাখ মানুষ: ইউনিসেফ
ইউনিসেফ লোগো।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক মন্দায় বাংলাদেশে নতুন করে আরও অন্তত ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সংস্থাটির ‘দরিদ্র পরিবারের শিশুদের ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দাভাবের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়েছে। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যেমন চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শাকসবজি, মাছ ও মাংসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে আর্থিক চাপে পড়েছে দেশের সীমিত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো। এমন পরিস্থিতি অনেক পরিবারকে নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী ১৬৭টি দেশের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে– হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিপর্যয় নেমে কারণে আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বৃদ্ধির ভয়াবহ চিত্র। যেখানে বাংলাদেশসহ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো বাহ্যিক ধাক্কার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এই সংকটের তীব্রতা অনেক বেশি দেখা গেছে।

সার্বিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ইউনিসেফ বাংলাদেশসহ বিশ্বনেতাদের প্রতি সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে, দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য নগদ অর্থ সহায়তা বাড়ানো এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি যেসব দেশ ঋণের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে, তাদের ঋণ পরিশোধ সাময়িকভাবে স্থগিত করে সেই অর্থ মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে গত কয়েক দশকের কষ্টার্জিত উন্নয়ন অগ্রগতি সম্পূর্ণ ভেস্তে যাবে। এতে লাখ লাখ শিশুর ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়বে।

গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল জানান, যুদ্ধক্ষেত্রের সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূরের দেশের সাধারণ মানুষ ও শিশুরা আজ এই সংঘাতের মাশুল গুনছে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে দরিদ্র পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্য ও শিক্ষার ব্যয় মেটাতে পারছে না। ফলে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটি তাদের পুরো জীবনের ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

/এফআর/