‘মাইয়াড্যারে দ্যাশে আইন্যা মাটি দিবার চাই’: লেবাননে নিহত দিপালীর বাবা

‘মাইয়াড্যারে দ্যাশে আইন্যা মাটি দিবার চাই’: লেবাননে নিহত দিপালীর বাবা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর

ছোটবেলা থেকেই পরিবারে ছিল অভাব-অনটন। না খেয়ে কাটিয়েছেন অনেক রাত। দুর্গম চরাঞ্চলে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে কোনো রকমে টিকে ছিলেন অদম্য সাহসী নারী দিপালী আক্তার। জীবন বাঁচাতে পদ্মা থেকে মাছ ধরে কিংবা চরের কাশবন থেকে কাশফুল এনে বিক্রি করতেন।
বাবা, দুই ভাই আর দুই বোনের সংসারের দুঃখ ঘোচাতে পাড়ি জমান বিদেশে।সেখানে গিয়ে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনেন। দুই বোনের বিয়েও দেন, কিন্তু নিজে বিয়ে করেননি। বাড়িতে চকচকে টিনের ঘর দিয়েছেন। সেখানে বসবাস করছেন তার বাবা, ভাই-বোনেরা। সারা জীবন সংসারের অভাব, দরিদ্রতা ঘুচাতে যিনি বিদেশের মাটিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেছেন সেই দিপালী আক্তারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। দীপালীকে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা পরিবার।
‘তারে দ্যাশে আইন্যা মাটি দিবার চাই। আপনারা আমার মাইয়াড্যারে আনবার ব্যবস্থা কইরা দ্যান।’ কান্নারত অবস্থায় কথাগুলো বলছিলেন লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত নারী শ্রমিক দিপালী আক্তারের বাবা মোফাজ্জেল হোসেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন দিপালী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে মারা যান। শুক্রবার এক শোকবার্তায় দিপালী মৃত্যুর খবর জানায় লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস।
দিপালী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব শালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জল ওরফে মোকা শেখের মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে চতুর্থ ছিলেন দিপালী। লেবাননে গৃহকর্মী হিসেবে একটি পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি।
পরিবারের দুঃখ ঘোচাতে ১৯ বছর বয়সে ২০১১ সালে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে প্রথমবার লেবাননে যান দিপালী। সেখানে দীর্ঘদিন থাকার পর ২০১৮ সালে দেশে ফিরে আসেন দিপালী। ২০২৩ সালে আবার লেবাননে যান তিনি। বিদেশে যাওয়ার পর দেশে প্রতি মাসে টাকা পাঠাতেন।
বৈরুতের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলের বিমান হামলা চালালে দিপালী আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে মারা যান।

ঘটনার দিন বুধবার দিপালীর সঙ্গে স্বজনদের শেষবার কথা হয় বলে জানান ছোট বোন লাইজু। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে তার বোন বেশ কষ্টে ছিলেন। দুইবেলা রুটি খেয়ে দিন কাটাতেন। যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেই বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যান জীবন বাঁচাতে।
লাইজু বলেন, দিপালী তাকে ফোন করে বলেন, যে বাড়িতে কাজ করেন সেই বাড়ির সদস্যসহ তিনি অন্য এলাকায় গেছেন। আগে যেখানে ছিলেন সেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতা বেশি। কিছুদিন এখানে থাকার পর যুদ্ধ বন্ধ হলে আগের জায়গায় যাবেন। দিপালী খুব কষ্টে আছেন বলে ফোনে জানান। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বইনের মুখখান শেষবারের মতো দেখবার চাই। আমাগো সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমার বইনের লাশটা দেশে আনবার ব্যবস্থা কইরা দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফালু বলেন, পরিবারটি খুব অসচ্ছল। মেয়েটি অনেক কষ্ট করে বিদেশে গিয়ে কাজ করছিল। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই দ্রুত মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ছোটবেলা থেকেই পরিবারে ছিল অভাব-অনটন। না খেয়ে কাটিয়েছেন অনেক রাত। দুর্গম চরাঞ্চলে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে কোনো রকমে টিকে ছিলেন অদম্য সাহসী নারী দিপালী আক্তার। জীবন বাঁচাতে পদ্মা থেকে মাছ ধরে কিংবা চরের কাশবন থেকে কাশফুল এনে বিক্রি করতেন।
বাবা, দুই ভাই আর দুই বোনের সংসারের দুঃখ ঘোচাতে পাড়ি জমান বিদেশে।সেখানে গিয়ে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনেন। দুই বোনের বিয়েও দেন, কিন্তু নিজে বিয়ে করেননি। বাড়িতে চকচকে টিনের ঘর দিয়েছেন। সেখানে বসবাস করছেন তার বাবা, ভাই-বোনেরা। সারা জীবন সংসারের অভাব, দরিদ্রতা ঘুচাতে যিনি বিদেশের মাটিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেছেন সেই দিপালী আক্তারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। দীপালীকে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা পরিবার।
‘তারে দ্যাশে আইন্যা মাটি দিবার চাই। আপনারা আমার মাইয়াড্যারে আনবার ব্যবস্থা কইরা দ্যান।’ কান্নারত অবস্থায় কথাগুলো বলছিলেন লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত নারী শ্রমিক দিপালী আক্তারের বাবা মোফাজ্জেল হোসেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন দিপালী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে মারা যান। শুক্রবার এক শোকবার্তায় দিপালী মৃত্যুর খবর জানায় লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস।
দিপালী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব শালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জল ওরফে মোকা শেখের মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে চতুর্থ ছিলেন দিপালী। লেবাননে গৃহকর্মী হিসেবে একটি পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি।
পরিবারের দুঃখ ঘোচাতে ১৯ বছর বয়সে ২০১১ সালে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে প্রথমবার লেবাননে যান দিপালী। সেখানে দীর্ঘদিন থাকার পর ২০১৮ সালে দেশে ফিরে আসেন দিপালী। ২০২৩ সালে আবার লেবাননে যান তিনি। বিদেশে যাওয়ার পর দেশে প্রতি মাসে টাকা পাঠাতেন।
বৈরুতের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলের বিমান হামলা চালালে দিপালী আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে মারা যান।

ঘটনার দিন বুধবার দিপালীর সঙ্গে স্বজনদের শেষবার কথা হয় বলে জানান ছোট বোন লাইজু। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে তার বোন বেশ কষ্টে ছিলেন। দুইবেলা রুটি খেয়ে দিন কাটাতেন। যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেই বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যান জীবন বাঁচাতে।
লাইজু বলেন, দিপালী তাকে ফোন করে বলেন, যে বাড়িতে কাজ করেন সেই বাড়ির সদস্যসহ তিনি অন্য এলাকায় গেছেন। আগে যেখানে ছিলেন সেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতা বেশি। কিছুদিন এখানে থাকার পর যুদ্ধ বন্ধ হলে আগের জায়গায় যাবেন। দিপালী খুব কষ্টে আছেন বলে ফোনে জানান। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বইনের মুখখান শেষবারের মতো দেখবার চাই। আমাগো সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমার বইনের লাশটা দেশে আনবার ব্যবস্থা কইরা দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফালু বলেন, পরিবারটি খুব অসচ্ছল। মেয়েটি অনেক কষ্ট করে বিদেশে গিয়ে কাজ করছিল। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই দ্রুত মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

‘মাইয়াড্যারে দ্যাশে আইন্যা মাটি দিবার চাই’: লেবাননে নিহত দিপালীর বাবা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর

ছোটবেলা থেকেই পরিবারে ছিল অভাব-অনটন। না খেয়ে কাটিয়েছেন অনেক রাত। দুর্গম চরাঞ্চলে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে কোনো রকমে টিকে ছিলেন অদম্য সাহসী নারী দিপালী আক্তার। জীবন বাঁচাতে পদ্মা থেকে মাছ ধরে কিংবা চরের কাশবন থেকে কাশফুল এনে বিক্রি করতেন।
বাবা, দুই ভাই আর দুই বোনের সংসারের দুঃখ ঘোচাতে পাড়ি জমান বিদেশে।সেখানে গিয়ে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনেন। দুই বোনের বিয়েও দেন, কিন্তু নিজে বিয়ে করেননি। বাড়িতে চকচকে টিনের ঘর দিয়েছেন। সেখানে বসবাস করছেন তার বাবা, ভাই-বোনেরা। সারা জীবন সংসারের অভাব, দরিদ্রতা ঘুচাতে যিনি বিদেশের মাটিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে অর্থ উপার্জন করেছেন সেই দিপালী আক্তারের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। দীপালীকে হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা পরিবার।
‘তারে দ্যাশে আইন্যা মাটি দিবার চাই। আপনারা আমার মাইয়াড্যারে আনবার ব্যবস্থা কইরা দ্যান।’ কান্নারত অবস্থায় কথাগুলো বলছিলেন লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত নারী শ্রমিক দিপালী আক্তারের বাবা মোফাজ্জেল হোসেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন দিপালী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে মারা যান। শুক্রবার এক শোকবার্তায় দিপালী মৃত্যুর খবর জানায় লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস।
দিপালী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের পূর্ব শালেপুর গ্রামের শেখ মোফাজ্জল ওরফে মোকা শেখের মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে চতুর্থ ছিলেন দিপালী। লেবাননে গৃহকর্মী হিসেবে একটি পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি।
পরিবারের দুঃখ ঘোচাতে ১৯ বছর বয়সে ২০১১ সালে গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে প্রথমবার লেবাননে যান দিপালী। সেখানে দীর্ঘদিন থাকার পর ২০১৮ সালে দেশে ফিরে আসেন দিপালী। ২০২৩ সালে আবার লেবাননে যান তিনি। বিদেশে যাওয়ার পর দেশে প্রতি মাসে টাকা পাঠাতেন।
বৈরুতের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলের বিমান হামলা চালালে দিপালী আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে মারা যান।

ঘটনার দিন বুধবার দিপালীর সঙ্গে স্বজনদের শেষবার কথা হয় বলে জানান ছোট বোন লাইজু। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে তার বোন বেশ কষ্টে ছিলেন। দুইবেলা রুটি খেয়ে দিন কাটাতেন। যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেই বাড়ি থেকে অন্যত্র চলে যান জীবন বাঁচাতে।
লাইজু বলেন, দিপালী তাকে ফোন করে বলেন, যে বাড়িতে কাজ করেন সেই বাড়ির সদস্যসহ তিনি অন্য এলাকায় গেছেন। আগে যেখানে ছিলেন সেখানে যুদ্ধের ভয়াবহতা বেশি। কিছুদিন এখানে থাকার পর যুদ্ধ বন্ধ হলে আগের জায়গায় যাবেন। দিপালী খুব কষ্টে আছেন বলে ফোনে জানান। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বইনের মুখখান শেষবারের মতো দেখবার চাই। আমাগো সরকারের কাছে দাবি জানাই, আমার বইনের লাশটা দেশে আনবার ব্যবস্থা কইরা দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফালু বলেন, পরিবারটি খুব অসচ্ছল। মেয়েটি অনেক কষ্ট করে বিদেশে গিয়ে কাজ করছিল। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই দ্রুত মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হোক।
চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ বলেন, নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।




