শিরোনাম

সুদের হার কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
সুদের হার কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের
মঙ্গলবার বিসিআই’র একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত

দেশের উৎপাদনশীল খাতের চাকা সচল রাখতে এবং বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের কাছে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)।

মঙ্গলবার (১২ মে) বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা গভর্ণরের কাছে এক চিঠিতে শিল্পের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি তুলে ধরে সহায়তা চান।

বিসিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, কোভিড-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত জ্বালানি সংকট, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি (২৭৪ শতাংশ), ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার (৯-১৫ শতাংশ) এবং টাকার অবমূল্যায়নের ফলে শিল্প মালিকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত চলতি মূলধনের অভাবে খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন ও সুদের হার হ্রাস বিসিআই তাদের প্রস্তাবে মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির সুবিধার্থে ১২ বছর মেয়াদী (২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ) দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দিয়েছে। দেশের পুঁজিবাজার এখনো পরিপক্ক না হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বিকল্প অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করার অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি বর্তমান ১৪-১৫ শতাংশ সুদের হার কমিয়ে ১১-১২ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বিসিআই-এর মতে, ৪-৫ শতাংশ স্প্রেড ব্যবসায়ীদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা ও সিআইবি সংশোধন বর্তমান বিআরপিডি সার্কুলার অনুযায়ী ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা ৩ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস করার প্রস্তাব দিয়েছে বিসিআই। এছাড়া, সিআইবি রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রুপের পরিবর্তে প্রতিটি কোম্পানিকে পৃথক সত্তা হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো গ্রুপের একটি কোম্পানি বা একজন পরিচালক খেলাপি হলে গ্রুপের অন্য সফল কোম্পানিগুলোরও ব্যাংক সুবিধা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা শিল্পের বিকাশে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি মূলধন ও রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) ব্যবসায়ীরা এলসি সীমার অতিরিক্ত বকেয়া অংশকে দীর্ঘমেয়াদী ঋণে রূপান্তর করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এছাড়া, ইডিএফ সুবিধার সীমা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালার (ফেব্রুয়ারি সার্কুলার নং ২১, ২০২২) প্রয়োজনীয় সংশোধন চাওয়া হয়েছে। বিসিআই বলছে, কোনো গ্রাহক বকেয়া পরিশোধ করে নিয়মিত হলে তাকে পুনরায় সুবিধা পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

ব্যাংকিং চার্জ ও অন্যান্য দাবি প্রতিবেদনে ব্যাংকগুলোর ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সুদ গণনার পরিবর্তে ষাণ্মাসিক ভিত্তিতে সুদ ধার্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দণ্ড সুদ প্রত্যাহার, চক্রবৃদ্ধি হারের পরিবর্তে সরল হারে সুদ গণনা এবং ব্যাংকিং ফি ও চার্জ উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর দাবি জানানো হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের জন্য অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজ করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার এবং জেলাভিত্তিক পাইলট প্রকল্প গ্রহণেরও পরামর্শ দিয়েছে বিসিআই।

/এমআর/