কাল একনেকে যাচ্ছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প
সিটিজেন ডেস্ক

কাল একনেকে যাচ্ছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ২২: ১৭

পদ্মা ব্যারেজ (কাল্পনিক)। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের দেওয়া ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় বহুল আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুমোদন হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেটি অনুমোদনের দায়িত্ব নেয়নি। সব প্রস্তুতি শেষ হলেও গত ৬ এপ্রিল বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করার কথা হলেও পরবর্তীতে তা আর ওঠেনি।
দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষা ও একাধিকবার থেমে যাওয়ার পর অবশেষে আবারও আলোচনায় এসেছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। প্রায় সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পটি ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় উপস্থাপনের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদী ও এর শাখা-প্রশাখার প্রায় ৬২৩টি নদীতে পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রায় ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদ-নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি ওঠে। তবে নানা কারণে এতদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দশকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রকল্পটি এগোয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এটি একনেকে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার, পরে তা স্থগিত হয়। ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি আবারও অগ্রাধিকার পায়।
কী থাকবে প্রথম পর্যায়ে:
পাউবো সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে পদ্মা ব্যারেজ ছাড়াও গড়াই অফটেক স্ট্রাকচার, চন্দনা নদীর মুখে কন্ট্রোল স্ট্রাকচার, নদী খনন ও পানি সংরক্ষণ-সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া গড়াই অংশে হাইড্রোপাওয়ার ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে।
ব্যারেজের কাঠামো ও অবকাঠামো: উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় মূল ব্যারেজ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পে থাকবে— ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ, ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটি ১৮ মিটার প্রশস্ত), ১৮টি আন্ডার স্লুইস গেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত নেভিগেশন লক, দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিশ পাস।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ও বরিশাল অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে। প্রকল্প ব্যয়ের বড় অংশ যাবে অবকাঠামো নির্মাণে, যার পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। অন্যান্য খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে:
হাইড্রোপাওয়ার ও ইলেকট্রিক কাজ: ৭৪৩ কোটি টাকা, গড়াই নদ ড্রেজিং: ১ হাজার ২০৮ কোটি টাকা, হিসনা নদী পুনঃখনন: ১ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা, বাঁধ নির্মাণ: ৭০৬ কোটি টাকা এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন: ২০০ কোটি টাকা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা কমবে এবং সুপেয় পানির সংকট অনেকটাই হ্রাস পাবে। সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ কমে সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় হিসনা, মাথাভাঙ্গা, গড়াই, মধুমতি, চন্দনা, বড়াল ও ইছামতি নদীসহ শত শত নদ-নদী ও খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং নদীপারের কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। গবেষকদের মতে, নদী ব্যবস্থায় পানিপ্রবাহ ফিরলে আঞ্চলিক কৃষি অর্থনীতি ও মৎস্য খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রকল্পে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বছরে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিভিন্ন নদী ব্যবস্থায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৩ মে একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে পরিণত হবে।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের লক্ষ্য
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা। ডিপিপি অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটির প্রস্থ ১৮ মিটার), ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত একটি নেভিগেশন লক, দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিশ পাস এবং ব্যারেজের ওপর দিয়ে একটি রেলওয়ে সেতু। পাশাপাশি প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌসুমে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়াল নদী ব্যবস্থায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা কমবে, সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা পাবে এবং প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটির নকশা প্রণয়নে কাজ করে।
তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায়। ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর পদ্মায় পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি, মৎস্য, নৌচলাচল ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।
ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশ রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। আবার ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিতেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কেননা প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রকল্পটিকে কীভাবে নেবে, তাও ভাবনার বিষয়। পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। অনুমোদন মিললে চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)।

ভারতের দেওয়া ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় বহুল আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুমোদন হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেটি অনুমোদনের দায়িত্ব নেয়নি। সব প্রস্তুতি শেষ হলেও গত ৬ এপ্রিল বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করার কথা হলেও পরবর্তীতে তা আর ওঠেনি।
দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষা ও একাধিকবার থেমে যাওয়ার পর অবশেষে আবারও আলোচনায় এসেছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। প্রায় সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পটি ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় উপস্থাপনের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদী ও এর শাখা-প্রশাখার প্রায় ৬২৩টি নদীতে পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রায় ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদ-নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি ওঠে। তবে নানা কারণে এতদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দশকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রকল্পটি এগোয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এটি একনেকে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার, পরে তা স্থগিত হয়। ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি আবারও অগ্রাধিকার পায়।
কী থাকবে প্রথম পর্যায়ে:
পাউবো সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে পদ্মা ব্যারেজ ছাড়াও গড়াই অফটেক স্ট্রাকচার, চন্দনা নদীর মুখে কন্ট্রোল স্ট্রাকচার, নদী খনন ও পানি সংরক্ষণ-সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া গড়াই অংশে হাইড্রোপাওয়ার ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে।
ব্যারেজের কাঠামো ও অবকাঠামো: উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় মূল ব্যারেজ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পে থাকবে— ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ, ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটি ১৮ মিটার প্রশস্ত), ১৮টি আন্ডার স্লুইস গেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত নেভিগেশন লক, দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিশ পাস।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ও বরিশাল অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে। প্রকল্প ব্যয়ের বড় অংশ যাবে অবকাঠামো নির্মাণে, যার পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। অন্যান্য খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে:
হাইড্রোপাওয়ার ও ইলেকট্রিক কাজ: ৭৪৩ কোটি টাকা, গড়াই নদ ড্রেজিং: ১ হাজার ২০৮ কোটি টাকা, হিসনা নদী পুনঃখনন: ১ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা, বাঁধ নির্মাণ: ৭০৬ কোটি টাকা এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন: ২০০ কোটি টাকা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা কমবে এবং সুপেয় পানির সংকট অনেকটাই হ্রাস পাবে। সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ কমে সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় হিসনা, মাথাভাঙ্গা, গড়াই, মধুমতি, চন্দনা, বড়াল ও ইছামতি নদীসহ শত শত নদ-নদী ও খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং নদীপারের কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। গবেষকদের মতে, নদী ব্যবস্থায় পানিপ্রবাহ ফিরলে আঞ্চলিক কৃষি অর্থনীতি ও মৎস্য খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রকল্পে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বছরে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিভিন্ন নদী ব্যবস্থায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৩ মে একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে পরিণত হবে।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের লক্ষ্য
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা। ডিপিপি অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটির প্রস্থ ১৮ মিটার), ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত একটি নেভিগেশন লক, দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিশ পাস এবং ব্যারেজের ওপর দিয়ে একটি রেলওয়ে সেতু। পাশাপাশি প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌসুমে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়াল নদী ব্যবস্থায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা কমবে, সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা পাবে এবং প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটির নকশা প্রণয়নে কাজ করে।
তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায়। ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর পদ্মায় পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি, মৎস্য, নৌচলাচল ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।
ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশ রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। আবার ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিতেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কেননা প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রকল্পটিকে কীভাবে নেবে, তাও ভাবনার বিষয়। পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। অনুমোদন মিললে চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)।

কাল একনেকে যাচ্ছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ২২: ১৭

পদ্মা ব্যারেজ (কাল্পনিক)। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের দেওয়া ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় বহুল আলোচিত ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুমোদন হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সেটি অনুমোদনের দায়িত্ব নেয়নি। সব প্রস্তুতি শেষ হলেও গত ৬ এপ্রিল বর্তমান সরকারের প্রথম একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করার কথা হলেও পরবর্তীতে তা আর ওঠেনি।
দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষা ও একাধিকবার থেমে যাওয়ার পর অবশেষে আবারও আলোচনায় এসেছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। প্রায় সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকার এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পটি ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় উপস্থাপনের জন্য নির্ধারিত রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদী ও এর শাখা-প্রশাখার প্রায় ৬২৩টি নদীতে পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রায় ৪৭ লাখ ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
১৯৬০-এর দশক থেকেই ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল ও রাজশাহী অঞ্চলের নদ-নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি ওঠে। তবে নানা কারণে এতদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়নি। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দশকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রকল্পটি এগোয়নি। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এটি একনেকে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেয় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার, পরে তা স্থগিত হয়। ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটি আবারও অগ্রাধিকার পায়।
কী থাকবে প্রথম পর্যায়ে:
পাউবো সূত্রে জানা যায়, প্রথম পর্যায়ে পদ্মা ব্যারেজ ছাড়াও গড়াই অফটেক স্ট্রাকচার, চন্দনা নদীর মুখে কন্ট্রোল স্ট্রাকচার, নদী খনন ও পানি সংরক্ষণ-সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া গড়াই অংশে হাইড্রোপাওয়ার ব্যবস্থার পরিকল্পনাও রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানির প্রবাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে।
ব্যারেজের কাঠামো ও অবকাঠামো: উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী, রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় মূল ব্যারেজ নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পে থাকবে— ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ, ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটি ১৮ মিটার প্রশস্ত), ১৮টি আন্ডার স্লুইস গেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত নেভিগেশন লক, দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিশ পাস।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা ও বরিশাল অঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের আশা করা হচ্ছে। প্রকল্প ব্যয়ের বড় অংশ যাবে অবকাঠামো নির্মাণে, যার পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। অন্যান্য খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে:
হাইড্রোপাওয়ার ও ইলেকট্রিক কাজ: ৭৪৩ কোটি টাকা, গড়াই নদ ড্রেজিং: ১ হাজার ২০৮ কোটি টাকা, হিসনা নদী পুনঃখনন: ১ হাজার ৩৪১ কোটি টাকা, বাঁধ নির্মাণ: ৭০৬ কোটি টাকা এবং অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন: ২০০ কোটি টাকা।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা কমবে এবং সুপেয় পানির সংকট অনেকটাই হ্রাস পাবে। সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অঞ্চলে লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশ কমে সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় হিসনা, মাথাভাঙ্গা, গড়াই, মধুমতি, চন্দনা, বড়াল ও ইছামতি নদীসহ শত শত নদ-নদী ও খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে একাধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং নদীপারের কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন। গবেষকদের মতে, নদী ব্যবস্থায় পানিপ্রবাহ ফিরলে আঞ্চলিক কৃষি অর্থনীতি ও মৎস্য খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রকল্পে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বছরে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিভিন্ন নদী ব্যবস্থায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৩ মে একনেক সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে পরিণত হবে।
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের লক্ষ্য
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা। ডিপিপি অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটির প্রস্থ ১৮ মিটার), ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট, ১৪ মিটার প্রশস্ত একটি নেভিগেশন লক, দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিশ পাস এবং ব্যারেজের ওপর দিয়ে একটি রেলওয়ে সেতু। পাশাপাশি প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌসুমে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়াল নদী ব্যবস্থায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা কমবে, সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র রক্ষা পাবে এবং প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটির নকশা প্রণয়নে কাজ করে।
তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ সংক্রান্ত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায়। ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর পদ্মায় পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এতে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কৃষি, মৎস্য, নৌচলাচল ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।
ফারাক্কা বাঁধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশ রক্ষায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। আবার ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিতেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। কেননা প্রতিবেশী দেশ ভারত প্রকল্পটিকে কীভাবে নেবে, তাও ভাবনার বিষয়। পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। অনুমোদন মিললে চলতি বছর থেকে শুরু করে ২০৩৩ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)।
/এমআর/




