শিরোনাম

৪ কোটি পরিবারকে পেনশন স্কিমে আনা হবে: অর্থমন্ত্রী

সিটিজেন ডেস্ক
৪ কোটি পরিবারকে পেনশন স্কিমে আনা হবে: অর্থমন্ত্রী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে অন্তত একজনকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

একইসঙ্গে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামানসহ কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অর্থ সচিব ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহজশর্তে ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে চাঁদা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সভায় অবহিত করা হয়।

সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ সুরাতুজ্জামান জানান, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চারটি স্কিমে (প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা) মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন। মোট জমা ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মোট বিনিয়োগ (মুনাফাসহ) ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

পেনশন স্কিমকে জনসাধারণের কাছে আরও আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করতে অর্থমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। এগুলো হলো- ধর্মীয় মূল্যবোধ বিবেচনায় দ্রুত শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু করা হবে। এছাড়া নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা প্রদানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে সরকার। ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অঙ্গীকার। ২০৫০ সাল নাগাদ দেশে নির্ভরশীল বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে, যা মোকাবিলায় সর্বজনীন পেনশনই একমাত্র টেকসই সমাধান।

সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশের এই মহতী উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহজশর্তে ঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

/এমআর/