শিরোনাম

স্বত্ব কিনতে পারেনি বিটিভি, ফুটবল বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা

সিটিজেন ডেস্ক
স্বত্ব কিনতে পারেনি বিটিভি, ফুটবল বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে অনিশ্চয়তা
ছবি: সংগৃহীত

আর মাত্র এক মাস পরই পর্দা উঠতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। তবে ফুটবলপ্রেমী বাংলাদেশে এখনো খেলা দেখা নিয়ে কাটেনি অনিশ্চয়তা। দেশের মানুষ আদৌ টেলিভিশন বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপ দেখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্ন।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি এখনো ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে পারেনি। একইভাবে দেশের কোনো বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্মও এখন পর্যন্ত স্বত্ব অর্জনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়ছে।

২০২২ সালের বিশ্বকাপ বাংলাদেশে সম্প্রচার করেছিল বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাগরিক টিভি। চ্যানেলটির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান কামরুজ্জামান বাবু জানিয়েছেন, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী অনুমোদন ছাড়া বিদেশি কোনো চ্যানেল অন্য দেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করতে পারে না। অর্থাৎ বাংলাদেশে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বত্ব না কিনলে দর্শকদের জন্য খেলা দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। তার দাবি, এখন পর্যন্ত দেশের কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রচার স্বত্ব নেয়নি।

এবার বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড। বাংলাদেশি টেলিভিশন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের কাছ থেকেই সম্প্রচার অধিকার কিনতে হবে।

বিটিভির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ স্প্রিংবক প্রায় ১৫১ কোটি টাকা দাবি করেছে। করসহ সেই অঙ্ক প্রায় ২০০ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। শর্ত অনুযায়ী, মোট অর্থের অর্ধেক ১০ মের মধ্যে এবং বাকি অংশ ১০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই প্যাকেজের আওতায় উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানসহ মোট ১০৪টি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার এবং হাইলাইটস দেখানোর সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশে সাধারণত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনে থাকে। পরে বিজ্ঞাপন থেকে আয় করে সেই বিনিয়োগের অর্থ তুলে আনার চেষ্টা করা হয়। তবে এবার বেসরকারি খাতে আগ্রহ তুলনামূলক কম।

বিটিভি সূত্র বলছে, ২০১৮ সালে ‘প্যাকেজ নীতিমালা’র আওতায় বিনা খরচে বিশ্বকাপ সম্প্রচার করেছিল তারা। কিন্তু ২০২২ সালে সেই নীতিমালা বাতিল হয়ে গেলে শেষ মুহূর্তে সরকারের বিশেষ বরাদ্দে প্রায় ৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে স্বত্ব কিনেছিল বিটিভি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে স্প্রিংবক সরাসরি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে বিষয়টি বিটিভির কাছে পাঠানো হয়। গত এপ্রিল মাসে বিটিভি আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্য জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি ১৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব দেয়।

এত বড় ব্যয়ভার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিটিভিকে সরাসরি ফিফার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে বিনা মূল্যে বা বিশেষ ব্যবস্থায় সম্প্রচারের সুযোগ পাওয়া যায়। বিটিভি এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ফিফাকে অন্তত দুটি ই-মেইল পাঠালেও এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পায়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু বাংলাদেশ নয়; ভারত ও চীনেও সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফিফা জানিয়েছে, দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এ বিষয়ে আপাতত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের অনাগ্রহের পেছনে কয়েকটি কারণ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এবার অধিকাংশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় গভীর রাত কিংবা ভোরে। ফলে দর্শকসংখ্যা কমে যেতে পারে। পাশাপাশি দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বিপুল বিজ্ঞাপন আয় পাওয়ার সম্ভাবনাও কম।

২০২২ সালে বিশ্বকাপের ডিজিটাল স্ট্রিমিং করেছিল ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবারও তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসির খান চৌধুরী বলেছেন, বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা হবে।

অন্যদিকে স্প্রিংবকের পক্ষ থেকেও মূল্য নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারাও ফিফার কাছ থেকে উচ্চমূল্যে এই স্বত্ব কিনেছে। তবু বাংলাদেশের দর্শকদের কথা বিবেচনায় রেখে গ্রহণযোগ্য মুনাফায় স্বত্ব হস্তান্তরে তারা আগ্রহী।

বিশ্বকাপ মাঠে গড়াতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী দর্শক সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া আসর থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ফাহাদ করিম বলেন, বাংলাদেশ একটি ফুটবলপ্রেমী দেশ। এখানে বিশ্বকাপ দেখানো হবে না—এটা কল্পনাও করা যায় না। সরকার কিংবা বেসরকারি যেকোনো উদ্যোগেই হোক, দেশের মানুষকে বিশ্বকাপ দেখানোর ব্যবস্থা করতেই হবে।

/এমআর/