কমেছে গ্যাসের সরবরাহ, বেড়েছে ভোগান্তি
কমেছে গ্যাসের সরবরাহ, বেড়েছে ভোগান্তি
পেট্রোবাংলা জানায়, তিন দিনের ব্যবধানে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৩২ শতাংশ কমে ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। মোট গ্যাস সরবরাহও নেমেছে ২ হাজার ৩০১ মিলিয়ন ঘনফুটে।


দেশে গ্যাসের ঘাটতি মেটাতে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এই সংকট মেটাতে বঙ্গোপসাগরের তলদেশে স্থায়ী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়ার একটি কোম্পানি।

অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে দেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে কোনো ঘাটতি হবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)।

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এলএনজি সরবরাহ করে কাতার। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে গত মার্চ থেকে

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বন্ধ থাকার পর আবার শুরু হয়েছে কার্গো থেকে ভাসমান টার্মিনালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাসের কার্যক্রম। এতে দেশে গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে।
পেট্রোবাংলা জানায়, তিন দিনের ব্যবধানে গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৩২ শতাংশ কমে ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমেছে। মোট গ্যাস সরবরাহও নেমেছে ২ হাজার ৩০১ মিলিয়ন ঘনফুটে।

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি পর্যায়ের (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দুই কার্গো অতিরিক্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)।

চলতি বছরের বাকি সাড়ে তিন মাসের জন্য সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চীনের ইউনিপ্যাক ও পেট্রো চায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে এসব জ্বালানি কেনা হবে।

গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের (জিইএম) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে চালু থাকা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার সবচেয়ে বড় অংশ এশিয়ায়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত ৬ মাসে স্পট মার্কেট থেকে ৩৪ কার্গো এলএনজি কিনেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৩১টিই সরবরাহ করেছে মাত্র ৫টি কোম্পানি। আন্তর্জাতিক সূচকের (জেকেএম) চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করে প্রতি কার্গোতে ৪০ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট।

দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে অক্টোবর থেকে প্রতি মাসে ২ কার্গো করে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না। একই সঙ্গে মক্কা প্যাক্টের সদস্য দেশগুলোর জাহাজও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত বাতিল (ফোর্স মেজর) করেছে কাতারএনার্জি। এর আওতায় ইউরোপ ও এশিয়ার বেশকিছু ক্রেতা দেশের এলএনজি সরবরাহ বাতিল অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে জ্বালানি আমদানিতে মোট ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগস্টের ৩টি ও সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের জন্য ২টি এলএনজি কার্গো কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে চট্টগ্রামের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ)বা এলএনজি টার্মিনাল।

গ্যাস সরবরাহ সংকটে বন্ধ থাকা এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের জন্য নতুন একটি কার্গো রোববার দেশে পৌঁছাতে পারে। তবে কার্গো আসার আগে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

চলমান সংকটের মধ্যেই আবারও কমে গেছে গ্যাস সরবরাহ। প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত বৃহস্পতিবার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও চার দিনের ব্যবধানে তা আবার কমেছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা এলএনজি বহনকারী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাস করা সম্ভব না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি আংশিক সচল হওয়ায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে।

আগুনে বন্ধ হয়ে যাওয়া এলএনজি টার্মিনাল-এফএসআরইউ অবশেষে আংশিক চালু হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যার পর টার্মিনালটি থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
