দরপত্রেও পাওয়া যায়নি এলএনজি, কাটছে না গ্যাস সংকট
দরপত্রেও পাওয়া যায়নি এলএনজি, কাটছে না গ্যাস সংকট
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগস্টের ৩টি ও সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের জন্য ২টি এলএনজি কার্গো কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়।


দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানি ও সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহনাবাদি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) বহনকারী বাংলাদেশি জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না। একই সঙ্গে মক্কা প্যাক্টের সদস্য দেশগুলোর জাহাজও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ থাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত বাতিল (ফোর্স মেজর) করেছে কাতারএনার্জি। এর আওতায় ইউরোপ ও এশিয়ার বেশকিছু ক্রেতা দেশের এলএনজি সরবরাহ বাতিল অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে জ্বালানি আমদানিতে মোট ১০ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগস্টের ৩টি ও সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের জন্য ২টি এলএনজি কার্গো কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে চট্টগ্রামের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ)বা এলএনজি টার্মিনাল।

গ্যাস সরবরাহ সংকটে বন্ধ থাকা এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের জন্য নতুন একটি কার্গো রোববার দেশে পৌঁছাতে পারে। তবে কার্গো আসার আগে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

চলমান সংকটের মধ্যেই আবারও কমে গেছে গ্যাস সরবরাহ। প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত বৃহস্পতিবার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও চার দিনের ব্যবধানে তা আবার কমেছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা এলএনজি বহনকারী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাস করা সম্ভব না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি আংশিক সচল হওয়ায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে।

আগুনে বন্ধ হয়ে যাওয়া এলএনজি টার্মিনাল-এফএসআরইউ অবশেষে আংশিক চালু হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যার পর টার্মিনালটি থেকে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

দেশের গ্যাস খাত উৎপাদন সংকট, আমদানি সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। অন্যদিকে, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লেও সেই চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত অবকাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সারা দেশে তীব্র গ্যাস–সংকট চলছে। অনেক এলাকায় রান্নার চুলায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, একইসঙ্গে কমেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় এক কার্গো তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল ক্রয় করা হবে।

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দীর্ঘমেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

গত এক সপ্তাহ ধরে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে গ্রাহক।

মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহককে গ্যাসের স্বল্পচাপের সমস্যায় ভুগতে হবে।

সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে সারা দেশ। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত দেশের আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্পসহ সব শ্রেণির গ্রাহক গ্যাসের স্বল্পচাপের সমস্যায় পড়তে পারেন।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প কারখানায় ব্যবহারের জন্য সরকার বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, এর ফলে এলএনজির দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে বাংলাদেশে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) অবকাঠামো সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্পট মার্কেট থেকে আরও ৩ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে যাচ্ছে সরকার।
