শিরোনাম

গ্যাস-সংকটের সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং, ভোগান্তিতে গ্রাহক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্যাস-সংকটের সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং, ভোগান্তিতে গ্রাহক
গ্যাস সংকট ও লোডশেডিং

গত এক সপ্তাহ ধরে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে গ্রাহক।

রবিবার (২৬ জুলাই) দেশে ঘণ্টায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের অভিযোগ বেশি পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে আগুন ধরে যায়। ফলে সেখান জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। পিডিবি সূত্র বলেছে, গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার পর থেকে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। ফলে লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাস সরবরাহ ঠিক না হলে বিদ্যুতের সংকটও দূর হবে না।

শুক্রবার বিকাল থেকে ওই টার্মিনালে মেরামতকাজ শুরু হয়েছে। তবে এটা কবে নাগাদ ঠিক হবে, তা জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশে দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। তবে দেশীয় উৎস ও আমদানি থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। এই ঘাটতির মধ্যে একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গ্যাস-সংকট তীব্র হয়েছে। শনিবার সব মিলিয়ে ২ হাজার ১৫১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হয়েছে।

গ্যাস সংকটের কারণে দিনের বেশিরভাগ সময় বাসাবাড়িতে জ্বলছে না গ্যাসের চুলা। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের জন্য দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি। অনেক শিল্পকারখানায় উৎপাদন বন্ধ অথবা ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে কয়েকটি বন্ধ হয়েছে।

গ্যাস-সংকটে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহক এবং সিএনজিচালিত যানবাহনের মালিক-চালকেরা। সরেজমিনে দেখা গেছে যাত্রাবাড়ী, সাইনবোর্ড, রায়েরবাগ, শ্যামপুর, মাতুয়াইল ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও অনেক চালক পর্যাপ্ত গ্যাস পাননি। একইসঙ্গে আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপে রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।

উত্তরা থেকে গ্যাস নিতে আসা প্রাইভেটকার চালক আল-আমিন বলেন, উত্তরায় গ্যাস না পেয়ে রায়েরবাগের ইউনাইটেড সিএনজি স্টেশনে এসেছেন। কিন্তু সেখানেও দীর্ঘ লাইনে অন্তত এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

উবারচালক জাকির হোসেন বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস না পাওয়ায় তিনি মাতুয়াইলের একটি স্টেশনে আসেন। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাত্র আড়াইশ টাকার গ্যাস পেয়েছেন, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে সাত থেকে আটশ টাকার গ্যাস নেওয়া যেত।

অটোরিকশাচালক শুক্কুর আলী জানান, আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র ১২০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন। আগে একই সময়ে আড়াইশ থেকে তিনশ টাকার গ্যাস নেওয়া সম্ভব হতো।

এদিকে আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাস-সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। শনিরআখড়া, জুরাইন, পলাশপুর ও স্মৃতিধারা এলাকায় কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। কেউ শুকনো খাবার খাচ্ছেন, কেউ বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।

পলাশপুরের বাসিন্দা আমজাদ শিকদার বলেন, গত এক বছর ধরেই গ্যাস-সংকট চলছে। আগে গভীর রাতে কিছু সময় গ্যাস মিললেও গত চার–পাঁচ দিন ধরে সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নিয়মিত রান্না ও খাবার গ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।

স্মৃতিধারা এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, কয়েক দিন ধরে একেবারেই গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে হোটেলের খাবার খেতে হচ্ছে, এতে অসুস্থও হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, দ্রুত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে এবং নগরজীবনে এর প্রভাব আরও গভীর হবে।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিচালক (কারিগরি) পরিতোষ সূত্রধর বলেন, গ্যাস-সংকট দেখা দেওয়ার পর লোডশেডিংও কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে রবিবার দিনভর প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট হারে লোডশেডিং দিতে হয়েছে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায়। বৃষ্টি থেমে রোদ ওঠার পর লোডশেডিং বাড়তে শুরু করে। বেলা ৩টার দিকে লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তা জ্যোতিষ চন্দ্র রায় জানান, তাদের আওতাধীন এলাকায় সামান্য লোডশেডিং রয়েছে।

/জেএইচ/