শিরোনাম

পাওয়া যায়নি এলএনজি, সহসাই কাটছে না গ্যাস সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
পাওয়া যায়নি এলএনজি, সহসাই কাটছে না গ্যাস সংকট
এলএনজি

গত এক মাসের অধিক সময় ধরে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে বন্ধ হয়ে গেছে শত শত কারখানা। কাজ না থাকায় অলস সময় পার করছেন অনেক শ্রমিক। পাশাপাশি বাসাবাড়ি ও সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এমতাবস্থায় এক কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ক্রয়াদেশ দেওয়া হয়। তবে চাহিদামতো এলএনজি পাওয়া যাচ্ছে না। একটি কার্গোও এলএনজি দেশে আসেনি। এতে বিপাকে পড়েছে সরকার। এদিকে আগস্টের জন্য ৩ কার্গো এলএনজি কিনতে তিন দফায় দরপত্র ডাকা হয়। তবে পাওয়া গেছে দুটি। ফলে বাড়ছে না গ্যাসের সরবরাহ, সহসাই কাটছে না সংকট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগস্টের ৩টি ও সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের জন্য ২টি এলএনজি কার্গো কিনতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে পাওয়া গেছে ৪টি। এর মধ্যে তিনটি কার্গো এলএনজি ২২, ২৪ ও ২৫.৩১ ডলার দাম দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)। অন্য ১টি কার্গোয় ২৪ ডলারের কম দাম দিয়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় সৌদি আরামকো। বকি একটি কার্গোতে আরও বেশি দাম আসায় সেটি কেনার সিদ্ধান্ত বাদ দিয়েছে সরকার। সেপ্টেম্বরের জন্য আরও ৩টি কার্গো কিনতে ২২ আগস্ট দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এর আগে দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচন করা ৩টি এলএনজি কার্গোর অনুমোদন দেয়নি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ওই তিনটির দাম ছিল ২০ থেকে সাড়ে ২১ ডলারের মধ্যে। এখন প্রতি দরপত্রেই এলএনজির দাম বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও ইউরোপে বাড়তি চাহিদার কারণে এলএনজির দাম বেড়েছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের। গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

আমদানির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ১ ডলার বাড়লে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হয় ৪১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এখন ৪ ডলার বাড়তি দামেও এলএনজি কিনতে হয়েছে। ফলে এক কার্গো এলএনজিতে সরকারের বাড়তি খরচ অন্তত ১৬৫ কোটি টাকা।

দেশে গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি করা হয়। আমদানির এলএনজি সরবরাহে মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, যার দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট। অন্যটি দেশি কোম্পানি সামিটের, যার সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ আগস্ট আগুন লেগে এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেয়। টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকটের পর ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে। তবে এলএনজির নতুন কার্গো না থাকায় ১৯ আগস্ট এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সামিটের টার্মিনাল থেকে সক্ষমতার বেশি হারে সরবরাহ করা হয়। এরপর নতুন করে দরপত্র ডেকে কেনা একটি কার্গো শনিবার বঙ্গোপসাগরে পৌঁছায়। ওই দিন বিকালে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট। এতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। তবে পরের এলএনজি কার্গো আসার অনিশ্চয়তায় সরবরাহ সীমিত রাখা হচ্ছে। এতে গ্যাস-সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও সময় লাগতে পারে।

জানা গেছে, জুলাইয়ে ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি হলেও অগ্নিদুর্ঘটনার পর আমদানি লক্ষ্য কমাতে হয়। আগস্টে মোট ৯ কার্গো এলএনজি আসার কথা থাকলেও এসেছে ৪টি। স্বল্পমেয়াদি চুক্তির অধীন সৌদি আরামকোর জাহাজ এলেও তা স্থানান্তরের উপযোগী নয় বলে খালাস করা যায়নি। আর সরাসরি কেনা ৪টি কার্গোর একটিও না আসায় জরুরি দরপত্রের মাধ্যমে বেশি দামে গত শনিবার একটি কার্গো আনা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হতো ১০৫ কোটি ঘনফুট। বাকিটা দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন করা হয়। তবে প্রায় এক মাস ধরেই চাহিদার অর্ধেক এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে। বর্তমানে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পুরোপুরি থামলে হরমুজ প্রণালি স্বাভবিক হবে। ফলে জ্বালানি অস্থিরতা কমতে পারে। আপাতত জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ করা যেতে পারে।

/জেএইচ/