শিরোনাম

আবারও কমেছে গ্যাসের সরবরাহ, নেপথ্যে কী

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
আবারও কমেছে গ্যাসের সরবরাহ, নেপথ্যে কী
গ্যাসের জন্য যানবাহনের দীর্ঘসারি

চলমান সংকটের মধ্যেই আবারও কমে গেছে গ্যাস সরবরাহ। প্রায় দুই সপ্তাহ পর গত বৃহস্পতিবার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও চার দিনের ব্যবধানে তা আবার কমেছে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমদানি করা এলএনজি বহনকারী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাস করা সম্ভব না হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি নিয়ে আসা জাহাজটি টার্মিনালে ভেড়ানো যাচ্ছে না। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বুধবার (১২ আগস্ট) থেকে সরবরাহ আবারও বাড়তে পারে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, এলএনজি বহনকারী কার্গোটি টার্মিনালের কাছাকাছি অবস্থান করছে। কিন্তু সমুদ্র উত্তাল থাকায় সেটিকে টার্মিনালে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে জ্বালানি বিভাগ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে।

দেশে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল (এফএসআরইউ) রয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে, সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট।

গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে জাতীয় গ্যাস সরবরাহে। সংকট বাড়ায় আবাসিক গ্রাহকদের রান্না থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার উৎপাদন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস নিতে যানবাহনের দীর্ঘ সারিও দেখা দেয়।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার রয়েছে। প্রতিটির সক্ষমতা দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট। অগ্নিকাণ্ডে একটি বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অন্যটি অক্ষত ছিল। সেই বয়লার ব্যবহার করে গত বৃহস্পতিবার থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটিও পুনরায় চালুর জন্য মেরামতের কাজ চলছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য বর্তমানে সচল বয়লারটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। ফলে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে। এরপর সরবরাহ চালু হলেও তা একবারে স্বাভাবিক হবে না; ধাপে ধাপে বাড়াতে হবে।

এ কারণে গ্যাসের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে এমন ছুটির দিনে বয়লারটির পরীক্ষা ও চালুর কাজ করার পরিকল্পনা করছে পেট্রোবাংলা। এক্সিলারেট এনার্জিকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি পাওয়ার পর জ্বালানি বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে চলতি সপ্তাহে এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে টার্মিনালটি থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করে চাহিদা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সামিটের টার্মিনালকে কয়েক দিন সক্ষমতার চেয়েও বেশি গ্যাস সরবরাহ করতে হয়েছে। টানা চার দিন ধরে সামিট প্রতিদিন প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছে। পরে সরবরাহের পরিমাণ কমিয়ে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি ঘনফুটে রাখা হয়। এর ফলে দেশে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২১৫ কোটি ঘনফুটে।

এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিকভাবে চালু হওয়ার পর সরবরাহ কিছুটা বেড়ে ২৪৫ কোটি ঘনফুট ছাড়িয়েছে। এতে কয়েক দিনের জন্য পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছিলো। কিন্তু মাত্র চার দিন পরই আবার কমেছে সরবরাহ। সোমবার (১০ আগস্ট) এলএনজি নিয়ে একটি নতুন জাহাজ দেশে পৌঁছালেও সমুদ্রে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেটি থেকে এলএনজি খালাস করা সম্ভব হয়নি। ফলে সামিটের টার্মিনাল থেকেও দৈনিক সরবরাহ প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুট কমে গেছে।

/এসবি/