শিরোনাম

২৩ আগস্ট আসতে পারে এক্সিলারেটের এলএনজি কার্গো

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
২৩ আগস্ট আসতে পারে এক্সিলারেটের এলএনজি কার্গো
সাগরে ভাসমান এলএনজিবাহী কার্গো

গ্যাস সরবরাহ সংকটে বন্ধ থাকা এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের জন্য নতুন একটি কার্গো রবিবার দেশে পৌঁছাতে পারে। তবে কার্গো আসার আগে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের উন্নতির সম্ভাবনা নেই।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পেট্রোবাংলার পরিচালক (প্রোডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট) মো. শোয়েব এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এক্সিলারেটের টার্মিনালের জন্য পরবর্তী এলএনজি কার্গো রোববার আসার কথা রয়েছে। তবে কার্গো পৌঁছানোর পর এলএনজি খালাস করে গ্যাসে রূপান্তর ও সরবরাহের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগবে। ফলে কার্গো পৌঁছালেই টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় চলে আসবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে সামিটের টার্মিনালের জন্য আনা একটি এলএনজি কার্গো এসে পৌঁছেছে। এতে ওই টার্মিনালের মজুত বাড়লেও সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ আপাতত নেই। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানান, সামিটের টার্মিনালটি এরই মধ্যে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় প্রতিদিন প্রায় ৫৭ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরের পর এক্সিলারেটের টার্মিনালে সরবরাহযোগ্য এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যায়। এরপর জাতীয় গ্রিডে ওই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

চাহিদার তুলনায় গ্যাসের ঘাটতি

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৫৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসছিল ১৬২ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট। সব মিলিয়ে সরবরাহ ছিল ২১৯ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট।

দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সে হিসাবে ওই সময় মোট চাহিদার মাত্র ৫৭ দশমিক ৮ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। ঘাটতি ছিল প্রায় ১৬০ কোটি ঘনফুট।

বুধবার একই সময়ে এলএনজি থেকে সরবরাহ ছিল ৫৬ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট। এক দিনের ব্যবধানে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ বেড়েছে মাত্র ৮০ লাখ ঘনফুট বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ।

দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু বৃহস্পতিবার সরবরাহ ছিল সেই সক্ষমতার প্রায় ৫২ শতাংশ।

আগুনের পর থেকেই টানাপোড়েন

গত ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ আগস্ট টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু করা হয়।

এরপর কারিগরি সমস্যা ও এলএনজি কার্গোর সংকটের কারণে টার্মিনালটির সরবরাহ কয়েক দফা কমেছে-বাড়েছে। সর্বশেষ বুধবার মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আবারও সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়েছে।

পেট্রোবাংলার ১৯ থেকে ২০ আগস্টের ২৪ ঘণ্টার হিসাবে দেখা যায়, দেশে এলএনজি সরবরাহ হয়েছে গড়ে ৫৮ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। আগের ২৪ ঘণ্টায় এ পরিমাণ ছিল ৬২ কোটি ৬৬ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ এক দিনে এলএনজি সরবরাহ কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ।

দেশীয় গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে মোট দৈনিক গড় সরবরাহও কমেছে। আগের ২২৬ কোটি ৩৮ লাখ ঘনফুট থেকে তা নেমে এসেছে ২২২ কোটি ৪৪ লাখ ঘনফুটে। এক দিনে মোট সরবরাহ কমেছে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ঘনফুট।

বিদ্যুৎকেন্দ্রেও গ্যাসের সংকট

গ্যাসের ঘাটতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ১৯ থেকে ২০ আগস্টের ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর গ্যাসের চাহিদা ছিল ২৫২ কোটি ৪৯ লাখ ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ৯৩ কোটি ৩৪ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার প্রায় ৩৭ শতাংশ গ্যাস পেয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো।

এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ ছিল ৯৫ কোটি ঘনফুট। এক দিনের ব্যবধানে সরবরাহ কমেছে ২ কোটি ২২ লাখ ঘনফুট।

লোডশেডিংও বেড়েছে

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের ঘণ্টাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৬৭৯ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৪ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে ঘাটতি বা লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ২৯৭ মেগাওয়াট।

আগের দিন একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট এবং সরবরাহ ছিল ১৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৮০৪ মেগাওয়াট।

বৃহস্পতিবার বিকাল পাঁচটায় মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। আগের দিন একই সময়ে উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট।

তবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ১১২ মেগাওয়াট। বিপরীতে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন বেড়েছে ৭২২ মেগাওয়াট। ফলে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে অগ্রগতি দেখা গেছে, তার বড় অংশই এসেছে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে।

/এমআর/