নতুন পে-স্কেলে কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ

নতুন পে-স্কেলে কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
জুবায়ের আহমেদ

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন এই বেতনকাঠামোয় সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের কোটি কোটি মানুষের আয় বাড়ানোর কোনো সমান্তরাল বেতনকাঠামো নেই। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তির খবরের মধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে উঠেছে কঠিন বাস্তব এক প্রশ্ন। আর সেটি হচ্ছে-একই বাজারে যাদের আয় বাড়ছে না, তারা জীবনযাত্রার ব্যয় কীভাবে সামলাবেন।
আর এই প্রশ্নের উত্তরই যেন খোঁজ করছিলেন, রাজধানীর মতিঝিলের একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মী রাকিব হোসেন। কথার ফাঁকে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের এই প্রতিবেদকে জানান, মাত্র ৩২ হাজার টাকায় চার সদস্যের সংসার চালাতে হয়। গত কয়েক বছর ধরে বেতন এক জায়গায় আটকে থাকলেও বেড়েছে বাসাভাড়া, বাজার খরচ, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসার ব্যয়। তাই সংসারের হিসাব কষতে গিয়ে অনেক প্রয়োজনই বাদ দিতে হয় তাকে।
নতুন পে-স্কেলের খবর শুনে রাকিবের প্রতিক্রিয়া, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো দরকার ছিল। কিন্তু আমাদেরও তো সংসার আছে। এখন যদি ব্যবসায়ীরা বেতন বাড়ার খবরে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়, তাহলে আমরা কীভাবে সেই বাড়তি দামে কিনবো? আমাদের তাহলে খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে!’
রাকিবের এই বাস্তবতাই নতুন পে-স্কেল ঘিরে তৈরি হওয়া বৃহত্তর সংকটের প্রতিচ্ছবি। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং প্রথম থেকে দশম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। তবে পুরো কাঠামো একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়কে যৌক্তিক মনে করছেন অর্থনীতিবিদরাও। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত এক দশকের বেশি সময়ে মূল্যস্ফীতি সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি ছিল। ফলে নতুন পে-স্কেলকে তিনি ইতিবাচক ও সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে—এই আয় সমন্বয়ের বাইরে থাকা বিশাল জনগোষ্ঠী।
সম্প্রতি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরু চাল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি প্রায় ২০০ টাকা, এক ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি চিনি ১২০ টাকা এবং মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের দামও প্রায় ২০০ টাকা লিটার। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি কমার পরও সাধারণ মানুষের বাস্তব ব্যয় কমেনি।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) –এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হানের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপে দেশের সবাই পিষ্ট। সরকারি কর্মচারীরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও বাকি জনগণের জন্যও মূল্যস্ফীতি কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে আরও বেশি পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থার কথাও বলেন তিনি।
তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি বা পণ্যের দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক। তিনি বলেন, পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হওয়ায় বেসরকারি খাতে তাৎক্ষণিক বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং রপ্তানি সংকট, জ্বালানি সমস্যা ও ব্যবসায়িক মন্দায় থাকা বেসরকারি খাতের জন্য প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘২৪ লাখ মানুষের আয় বাড়ানোর সঙ্গে যদি কোটি কোটি মানুষের আয় স্থির থাকে, তাহলে নতুন পে-স্কেল শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের স্বস্তির খবর হয়েই থাকবে না - এটি আয়-বৈষম্য ও ক্রয়ক্ষমতার ব্যবধানের নতুন প্রশ্নও সামনে আনবে।’
তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা অন্য মানুষগুলোর আয় ও ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখাও জরুরি। কারণ বাজারে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীর জন্য আলাদা মূল্য নেই। সবাইকে একই দামে চাল ডিম-তেল-ডাল কিনতে হয়। একই ভাড়ায় বাসা নিতে হয়।

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন এই বেতনকাঠামোয় সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের কোটি কোটি মানুষের আয় বাড়ানোর কোনো সমান্তরাল বেতনকাঠামো নেই। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তির খবরের মধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে উঠেছে কঠিন বাস্তব এক প্রশ্ন। আর সেটি হচ্ছে-একই বাজারে যাদের আয় বাড়ছে না, তারা জীবনযাত্রার ব্যয় কীভাবে সামলাবেন।
আর এই প্রশ্নের উত্তরই যেন খোঁজ করছিলেন, রাজধানীর মতিঝিলের একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মী রাকিব হোসেন। কথার ফাঁকে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের এই প্রতিবেদকে জানান, মাত্র ৩২ হাজার টাকায় চার সদস্যের সংসার চালাতে হয়। গত কয়েক বছর ধরে বেতন এক জায়গায় আটকে থাকলেও বেড়েছে বাসাভাড়া, বাজার খরচ, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসার ব্যয়। তাই সংসারের হিসাব কষতে গিয়ে অনেক প্রয়োজনই বাদ দিতে হয় তাকে।
নতুন পে-স্কেলের খবর শুনে রাকিবের প্রতিক্রিয়া, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো দরকার ছিল। কিন্তু আমাদেরও তো সংসার আছে। এখন যদি ব্যবসায়ীরা বেতন বাড়ার খবরে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়, তাহলে আমরা কীভাবে সেই বাড়তি দামে কিনবো? আমাদের তাহলে খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে!’
রাকিবের এই বাস্তবতাই নতুন পে-স্কেল ঘিরে তৈরি হওয়া বৃহত্তর সংকটের প্রতিচ্ছবি। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং প্রথম থেকে দশম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। তবে পুরো কাঠামো একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়কে যৌক্তিক মনে করছেন অর্থনীতিবিদরাও। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত এক দশকের বেশি সময়ে মূল্যস্ফীতি সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি ছিল। ফলে নতুন পে-স্কেলকে তিনি ইতিবাচক ও সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে—এই আয় সমন্বয়ের বাইরে থাকা বিশাল জনগোষ্ঠী।
সম্প্রতি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরু চাল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি প্রায় ২০০ টাকা, এক ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি চিনি ১২০ টাকা এবং মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের দামও প্রায় ২০০ টাকা লিটার। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি কমার পরও সাধারণ মানুষের বাস্তব ব্যয় কমেনি।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) –এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হানের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপে দেশের সবাই পিষ্ট। সরকারি কর্মচারীরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও বাকি জনগণের জন্যও মূল্যস্ফীতি কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে আরও বেশি পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থার কথাও বলেন তিনি।
তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি বা পণ্যের দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক। তিনি বলেন, পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হওয়ায় বেসরকারি খাতে তাৎক্ষণিক বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং রপ্তানি সংকট, জ্বালানি সমস্যা ও ব্যবসায়িক মন্দায় থাকা বেসরকারি খাতের জন্য প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘২৪ লাখ মানুষের আয় বাড়ানোর সঙ্গে যদি কোটি কোটি মানুষের আয় স্থির থাকে, তাহলে নতুন পে-স্কেল শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের স্বস্তির খবর হয়েই থাকবে না - এটি আয়-বৈষম্য ও ক্রয়ক্ষমতার ব্যবধানের নতুন প্রশ্নও সামনে আনবে।’
তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা অন্য মানুষগুলোর আয় ও ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখাও জরুরি। কারণ বাজারে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীর জন্য আলাদা মূল্য নেই। সবাইকে একই দামে চাল ডিম-তেল-ডাল কিনতে হয়। একই ভাড়ায় বাসা নিতে হয়।

নতুন পে-স্কেলে কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ
জুবায়ের আহমেদ

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন এই বেতনকাঠামোয় সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু একই সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা বেসরকারি চাকরিজীবী, শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের কোটি কোটি মানুষের আয় বাড়ানোর কোনো সমান্তরাল বেতনকাঠামো নেই। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য স্বস্তির খবরের মধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে উঠেছে কঠিন বাস্তব এক প্রশ্ন। আর সেটি হচ্ছে-একই বাজারে যাদের আয় বাড়ছে না, তারা জীবনযাত্রার ব্যয় কীভাবে সামলাবেন।
আর এই প্রশ্নের উত্তরই যেন খোঁজ করছিলেন, রাজধানীর মতিঝিলের একটি চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মী রাকিব হোসেন। কথার ফাঁকে তিনি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরের এই প্রতিবেদকে জানান, মাত্র ৩২ হাজার টাকায় চার সদস্যের সংসার চালাতে হয়। গত কয়েক বছর ধরে বেতন এক জায়গায় আটকে থাকলেও বেড়েছে বাসাভাড়া, বাজার খরচ, সন্তানের পড়াশোনা ও চিকিৎসার ব্যয়। তাই সংসারের হিসাব কষতে গিয়ে অনেক প্রয়োজনই বাদ দিতে হয় তাকে।
নতুন পে-স্কেলের খবর শুনে রাকিবের প্রতিক্রিয়া, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানো দরকার ছিল। কিন্তু আমাদেরও তো সংসার আছে। এখন যদি ব্যবসায়ীরা বেতন বাড়ার খবরে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়, তাহলে আমরা কীভাবে সেই বাড়তি দামে কিনবো? আমাদের তাহলে খাওয়া কমিয়ে দিতে হবে!’
রাকিবের এই বাস্তবতাই নতুন পে-স্কেল ঘিরে তৈরি হওয়া বৃহত্তর সংকটের প্রতিচ্ছবি। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং প্রথম থেকে দশম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। তবে পুরো কাঠামো একসঙ্গে বাস্তবায়ন না করে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়কে যৌক্তিক মনে করছেন অর্থনীতিবিদরাও। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, গত এক দশকের বেশি সময়ে মূল্যস্ফীতি সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি ছিল। ফলে নতুন পে-স্কেলকে তিনি ইতিবাচক ও সাহসী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে—এই আয় সমন্বয়ের বাইরে থাকা বিশাল জনগোষ্ঠী।
সম্প্রতি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরু চাল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি প্রায় ২০০ টাকা, এক ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি চিনি ১২০ টাকা এবং মসুর ডাল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভোজ্যতেলের দামও প্রায় ২০০ টাকা লিটার। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি কমার পরও সাধারণ মানুষের বাস্তব ব্যয় কমেনি।
সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) –এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হানের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপে দেশের সবাই পিষ্ট। সরকারি কর্মচারীরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও বাকি জনগণের জন্যও মূল্যস্ফীতি কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে আরও বেশি পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থার কথাও বলেন তিনি।
তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতি বা পণ্যের দাম বাড়ার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক। তিনি বলেন, পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হওয়ায় বেসরকারি খাতে তাৎক্ষণিক বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং রপ্তানি সংকট, জ্বালানি সমস্যা ও ব্যবসায়িক মন্দায় থাকা বেসরকারি খাতের জন্য প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘২৪ লাখ মানুষের আয় বাড়ানোর সঙ্গে যদি কোটি কোটি মানুষের আয় স্থির থাকে, তাহলে নতুন পে-স্কেল শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের স্বস্তির খবর হয়েই থাকবে না - এটি আয়-বৈষম্য ও ক্রয়ক্ষমতার ব্যবধানের নতুন প্রশ্নও সামনে আনবে।’
তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যেমন প্রয়োজনীয়, তেমনি মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা অন্য মানুষগুলোর আয় ও ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখাও জরুরি। কারণ বাজারে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীর জন্য আলাদা মূল্য নেই। সবাইকে একই দামে চাল ডিম-তেল-ডাল কিনতে হয়। একই ভাড়ায় বাসা নিতে হয়।









