শিরোনাম

ইরানে নতুন অভিযান অপারেশন স্লেজহ্যামারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানে নতুন অভিযান অপারেশন স্লেজহ্যামারের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

তেহরানের সঙ্গে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন স্লেজহ্যামার নামে এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার (১২ মে) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি পুনরায় বড় আকারের যুদ্ধ অভিযান শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন, তবে মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযানের শিরোনাম অপারেশন এপিক ফিউরি পরিবর্তন করে নতুন এই নামের ব্যাপারে আলোচনা করছেন। প্রশাসনের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান এ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, স্থবির কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার জেরে ইরানের সঙ্গে আবারও সরাসরি সংঘাত শুরু হতে পারে।

প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার মতে, অভিযানের নতুন নাম ব্যবহার করার পেছনে আইনি কৌশলও কাজ করছে। তারা মনে করছেন, একটি ভিন্ন নাম ব্যবহার করলে হোয়াইট হাউসের পক্ষে যুক্তি দেওয়া সহজ হবে, নবায়িত এই অভিযানটি ১৯৭৩ সালের যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব অনুযায়ী একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র সামরিক পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, এ প্রস্তাব অনুযায়ী মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া একজন রাষ্ট্রপতি একটি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরান সংঘাত বন্ধ করে আলোচনায় বসতে সম্মত হওয়ার মাধ্যমেই মূলত অপারেশন এপিক ফিউরি সমাপ্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা এবং উপস্থিতির ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি । ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালানোর পর থেকেই আঞ্চলিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। এর প্রতিবাদে তেহরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল বন্ধ করে দেয়।

পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। আলোচনার এ অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তেহরান যে প্রস্তাব জমা দিয়েছে, ট্রাম্প সেটিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ইরানের সংসদীয় স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরানের ১৪-দফা প্রস্তাবে বর্ণিত ইরানি জনগণের নায্য অধিকার মেনে নেওয়া ছাড়া ওয়াশিংটনের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

/এমএকে/