শিরোনাম

হামে শিশুমৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
হামে শিশুমৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে: ব্যারিস্টার ফুয়াদ
সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ অন্যান্য উপস্থিতি। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

হামে মৃত্যুবরণ করা প্রতিটি শিশুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, ‘দেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সর্বদলীয় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জরুরি টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। যাতে বুকের ধন হারানো পরিবারগুলো মনে করেন তারা একা নয়, রাষ্ট্র তার পাশে রয়েছে। প্রতিটি ছোট্ট সোনামণিদের মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে, এ দায় থেকে আমরা কেউ মুক্ত নই।’

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামসহ স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ এসব কথা বলেন।

পাশাপাশি হাম নিয়ে বিভিন্ন মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য, অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, এই সংকটকে রাজনৈতিক দোষারোপের হাতিয়ার না বানিয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ, জনস্বাস্থ্য বাস্তবতা এবং কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বহুদিন ধরেই ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে শুধু বাংলাদেশ নয়, প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যও সেই বাস্তবতাকেই নির্দেশ করে।

তিনি আরোও বলেন, করোনাকালে যেখানে শহরকেন্দ্রিক উচ্চবিত্ত ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেখানে বর্তমান হাম পরিস্থিতিতে মূলত দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। অপুষ্টি, ভিটামিন ঘাটতি, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

হামের এই অস্বাভাবিক বিস্তার শুধুই স্বাভাবিক সংক্রমণ নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো কারণ রয়েছে– সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন তোলা হয়। এ সময় পরিকল্পিত ভাইরাস বিস্তার, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, কিংবা মাঠপর্যায়ের চিকিৎসা ও টিকাদান ব্যবস্থায় অদক্ষতা বা অনিচ্ছা– এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান জানান, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘ আন্দোলন, তথ্য আপলোডে অনিয়ম এবং মাঠপর্যায়ে একাধিকবার টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে হামের টিকাদান কাভারেজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সরকার ৯০ শতাংশের বেশি টিকাদান নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হামের হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের জন্য প্রয়োজন কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ কার্যকর টিকাকভারেজ। কিন্তু বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে দেশে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সবসময়ই বিদ্যমান ছিল।

এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে, অর্থাৎ তারা টিকা গ্রহণের উপযুক্ত হওয়ার আগেই আক্রান্ত হচ্ছে। এর পেছনে মায়েদের পর্যাপ্ত ইমিউনিটি না থাকা, অপুষ্টি এবং সমাজে হার্ড ইমিউনিটির ঘাটতিকে দায়ী করা হয়।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে রেখে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করতে হবে। টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি নিরাপত্তা, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করাতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশবাসীকে অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি হাম প্রতিরোধে সচেতনতা, সময়মতো টিকাদান এবং জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানানো হয়েছে।

/জেএইচ/