সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা ইরানের
সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা ইরানের
সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। যা প্রায় চার মাসের মধ্যে উপসাগরীয় দেশটির ওপর তেহরানের প্রথম সরাসরি হামলা।


ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ স্পষ্টভাবে তেহরানকে জানিয়ে দিয়েছে, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবেই বিবেচনা করবে।

যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সবগুলোই লঙ্ঘন ও স্থগিত করেছে। তাই তেহরানও তাদের দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি ও চুক্তির বাস্তবায়ন স্থগিত করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি।

কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন সেনাদের একটি অবস্থানেও হামলার দাবি করেছে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানের জবাবে বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। যা প্রায় চার মাসের মধ্যে উপসাগরীয় দেশটির ওপর তেহরানের প্রথম সরাসরি হামলা।

ইরানে গতকাল শুক্রবার টানা সপ্তম রাতের মতো হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। টানা ষষ্ঠ দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী একটি কমান্ড সেন্টার, ওমানে মার্কিন রাডার স্থাপনা এবং কুয়েতে অস্ত্রের গুদাম ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থাকে নিশানা করে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরানের দক্ষিণ উপকূলসহ বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ৩৮ জন নিহত এবং ৪০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জবাবে ইরানে সামরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার টানা ষষ্ঠ রাতের মতো হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এদিকে ইরান বলেছে, তারা শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা জোরদার এবং তেহরান লোহিত সাগরের রপ্তানি পথ বন্ধ করার জন্য ইয়েমেনের হুথিদের প্রস্তুত থাকতে বলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

কুয়েতে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মেহর নিউজ এজেন্সি।

সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত এক সপ্তাহ ধরে অভিযান চালালেও টানা দ্বিতীয় রাতের মতো ইরানের বেসামরিক এলাকাতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোতে হামলা করলে আঞ্চলিক অবকাঠামো ‘গুঁড়ো’ করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছে ইরান।

হরমুজ প্রণালি ইরানের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন দশেটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি আকবর ভেলায়তি। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের কোনো শক্তিই ইরানের মালিকানা থেকে হরমুজ প্রণালি কেড়ে নিতে পারবে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে মার্কিন রাডার ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার অভিযোগে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দিবাগত রাতে দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর পর মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ দফার হামলা সম্পন্ন করেছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং গৃহবন্দি থাকার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।

ইরানের সব বন্দরে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরোপ করায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

সামরিক সংঘাত, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দখলের মার্কিন হুমকির মুখে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

তেহরান আলোচনায় না বসলে ইরানের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
