হুথি-সৌদি সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের
হুথি-সৌদি সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের
গত প্রায় এক মাস ধরে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের মধ্যে সংঘাত চলছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নতুন দিকে মোড় নিয়েছে।


ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ইরানের পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করতে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ইসরায়েল ও এর আকাশসীমায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী ক্রুসহ ৩১ দেশের বিমানকর্মীদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েল। এই বিধিনিষেধে বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ইরান, ওমান, সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং নাইজারসহ ৩১টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের তালিকা দেওয়া হয়েছে।

নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়া রাখতে এবং মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার কৌশল পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
গত প্রায় এক মাস ধরে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের মধ্যে সংঘাত চলছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত নতুন দিকে মোড় নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে সামরিক সংঘাত কিংবা যুদ্ধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের মূল্যবান প্রযুক্তি স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মহসিন রেজাই।

চলমান সংঘাত বন্ধে সম্ভাব্য সমঝোতা বা চুক্তির বিষয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে তেহরানকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তুর্কমেনিস্তানের তুর্কমেনবাশিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট এই ঘোষণা দেন।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রথম কোনো বিদেশি বিমান সংস্থার পরিচালিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট তেহরানে নিরাপদে অবতরণ করেছে।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনের আগেই ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যেকোনো মুহূর্তে এ হামলা চালানো হতে পারে। দ্য আটলান্টিক-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পারস্য উপসাগরের সার্বিক নিরাপত্তা এবং চলমান সংঘাত বন্ধে নিজেদের শর্তগুলো জানিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে তেহরান।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি তেলবাহী ট্যাংকারের পথ আটকে সেটিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো বার্তাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে ইরান। কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে চোখ রাখার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পূর্ণ প্রস্তুতিও নিয়ে রাখছে দেশটি।

ইরানের ওপর নজিরবিহীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন দেশটির তেলমন্ত্রী মহসিন পাকনেজাদ। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রবিবার (৪ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার আলী ফাদাভি বলেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটার দূরে সরে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত পুরোপুরি না মানা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে না বলে জানিয়েছে তেহরান।

চলমান সংকট নিরসনে সামরিক আক্রমণ কিংবা একের পর এক নিষেধাজ্ঞা কোনো কাজে আসবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির মতে, চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক আলোচনা, ন্যায়বিচার ও সম্মানের বিকল্প নেই।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে ইরানি কূটনীতিকদের তাড়িয়ে দেওয়ার ওয়াশিংটনের করা দাবি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অষ্টম মাসে এসে বড় দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্যমতে, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব পরিকল্পনা থেকে কার্যত পিছু হটেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝে দেশের সাধারণ মানুষকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইরান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকে তেহরান এ উদ্যোগ নিয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলা নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই এবার মুখ খুলেছেন তার শাশুড়ি তায়্যেবেহ মাহরুযাদেহ।

হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর আগুন ধরে গেছে। এ ঘটনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েকটি যুদ্ধজাহাজে করে এসব সেনাকে ওই অঞ্চলের দিকে নেওয়া হচ্ছে।

ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এক বছর আগে যেসব শর্ত তিনি মেনে নিতেন না, এখনো সেসব শর্ত গ্রহণ করার অবস্থানে নেই।
