সিএনএন’র বিশ্লেষণ
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: আধুনিক রণকৌশল নিয়ে সতর্ক হচ্ছে চীন
সিটিজেন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: আধুনিক রণকৌশল নিয়ে সতর্ক হচ্ছে চীন
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১৭: ২৮

ছবি: এআই
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও আধুনিক রণকৌশল নতুন করে মূল্যায়ন করছে বেইজিং। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি থেকে অর্জিত শিক্ষা ভবিষ্যতে তাইওয়ান ইস্যুসহ সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতে চীনের জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলার শুরুতেই মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের অসংখ্য কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যাতে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এ ভয়াবহ তান্ডবে বাদ যায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় একটি স্কুলে অন্তত ১৭০ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়, যা গোটা দেশকে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও দমে যায়নি ইরান। তারা তৎক্ষণাৎ ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। এ পাল্টাপাল্টি হামলায় গোটা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নেয়। একইসঙ্গে ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দেয়।
টানা ৩৯ দিন ধরে চলা যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। এরপর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পরবর্তীতে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একক সিদ্ধান্তে সেটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির চেষ্টা চললেও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত থেকে চীনের মতো পরাশক্তিগুলো বড় ধরনের শিক্ষা নিচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে চীনের সামনে নতুন এক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষের রূপ কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে বেইজিং এখন অনেক বেশি সতর্ক। চীনের সাবেক বিমানবাহিনী কর্নেল ফু চিয়ানশাওয়ের মতে, এ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো শুধু আক্রমণাত্মক শক্তি বাড়ালেই হবে না, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও সমান শক্তিশালী করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান তুলনামূলক কম প্রযুক্তির শাহেদ ড্রোন ও সাশ্রয়ী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো উন্মোচিত করতে সক্ষম হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রভাণ্ডারে ব্যাপক উন্নতি করেছে। ব্রিটিশ থিংকট্যাঙ্ক রুসির তথ্য অনুযায়ী, চীন দ্রুতগতিতে পঞ্চম প্রজন্মের জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে এবং বি-২১ এর মতো দীর্ঘপাল্লার বোমারু বিমান তৈরির কাজ চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত নয়। তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতে চীন একদিকে যেমন উচ্চপ্রযুক্তির নির্ভুল হামলা চালাতে চায়, অন্যদিকে ইরানের মতো বিপুল সংখ্যক ড্রোনের ব্যবহারকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা গবেষক চিয়েহ চুংয়ের মতে, ড্রোন ও রকেটের ঝাঁক ভবিষ্যতে চীনা অভিযানে মূল ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, চীন বছরে প্রায় ১০০ কোটি যুদ্ধড্রোন উৎপাদন করার সক্ষমতা রাখে, যা যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন ব্যবহারের ফলে আক্রমণকারী পক্ষের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সস্তা ড্রোন দিয়ে দামী যুদ্ধজাহাজ বা বিমান ধ্বংস করার কৌশলটি ইরান যুদ্ধে সফলভাবে দেখা গেছে। তবে অস্ত্রের পাশাপাশি বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভাব চীনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ১৯৭৯ সালের পর চীন কোনো বড় যুদ্ধে অংশ নেয়নি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘ সময় লড়াই করে দ্রুত কৌশল বদলের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। চীনা বিশ্লেষক সং জংপিংয়ের মতে, ইরান সংঘাত বেইজিংকে দেখাচ্ছে যে প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি কতটা জটিল হতে পারে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধ প্রমাণ করেছে আঞ্চলিক সংঘাত কত দ্রুত বৈশ্বিক সংকট তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগরের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য এক সতর্কবার্তা।
সূত্র: সিএনএন

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও আধুনিক রণকৌশল নতুন করে মূল্যায়ন করছে বেইজিং। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি থেকে অর্জিত শিক্ষা ভবিষ্যতে তাইওয়ান ইস্যুসহ সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতে চীনের জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলার শুরুতেই মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের অসংখ্য কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যাতে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এ ভয়াবহ তান্ডবে বাদ যায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় একটি স্কুলে অন্তত ১৭০ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়, যা গোটা দেশকে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও দমে যায়নি ইরান। তারা তৎক্ষণাৎ ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। এ পাল্টাপাল্টি হামলায় গোটা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নেয়। একইসঙ্গে ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দেয়।
টানা ৩৯ দিন ধরে চলা যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। এরপর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পরবর্তীতে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একক সিদ্ধান্তে সেটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির চেষ্টা চললেও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত থেকে চীনের মতো পরাশক্তিগুলো বড় ধরনের শিক্ষা নিচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে চীনের সামনে নতুন এক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষের রূপ কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে বেইজিং এখন অনেক বেশি সতর্ক। চীনের সাবেক বিমানবাহিনী কর্নেল ফু চিয়ানশাওয়ের মতে, এ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো শুধু আক্রমণাত্মক শক্তি বাড়ালেই হবে না, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও সমান শক্তিশালী করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান তুলনামূলক কম প্রযুক্তির শাহেদ ড্রোন ও সাশ্রয়ী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো উন্মোচিত করতে সক্ষম হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রভাণ্ডারে ব্যাপক উন্নতি করেছে। ব্রিটিশ থিংকট্যাঙ্ক রুসির তথ্য অনুযায়ী, চীন দ্রুতগতিতে পঞ্চম প্রজন্মের জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে এবং বি-২১ এর মতো দীর্ঘপাল্লার বোমারু বিমান তৈরির কাজ চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত নয়। তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতে চীন একদিকে যেমন উচ্চপ্রযুক্তির নির্ভুল হামলা চালাতে চায়, অন্যদিকে ইরানের মতো বিপুল সংখ্যক ড্রোনের ব্যবহারকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা গবেষক চিয়েহ চুংয়ের মতে, ড্রোন ও রকেটের ঝাঁক ভবিষ্যতে চীনা অভিযানে মূল ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, চীন বছরে প্রায় ১০০ কোটি যুদ্ধড্রোন উৎপাদন করার সক্ষমতা রাখে, যা যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন ব্যবহারের ফলে আক্রমণকারী পক্ষের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সস্তা ড্রোন দিয়ে দামী যুদ্ধজাহাজ বা বিমান ধ্বংস করার কৌশলটি ইরান যুদ্ধে সফলভাবে দেখা গেছে। তবে অস্ত্রের পাশাপাশি বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভাব চীনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ১৯৭৯ সালের পর চীন কোনো বড় যুদ্ধে অংশ নেয়নি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘ সময় লড়াই করে দ্রুত কৌশল বদলের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। চীনা বিশ্লেষক সং জংপিংয়ের মতে, ইরান সংঘাত বেইজিংকে দেখাচ্ছে যে প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি কতটা জটিল হতে পারে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধ প্রমাণ করেছে আঞ্চলিক সংঘাত কত দ্রুত বৈশ্বিক সংকট তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগরের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য এক সতর্কবার্তা।
সূত্র: সিএনএন

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: আধুনিক রণকৌশল নিয়ে সতর্ক হচ্ছে চীন
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১৭: ২৮

ছবি: এআই
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও আধুনিক রণকৌশল নতুন করে মূল্যায়ন করছে বেইজিং। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি থেকে অর্জিত শিক্ষা ভবিষ্যতে তাইওয়ান ইস্যুসহ সম্ভাব্য যেকোনো সংঘাতে চীনের জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলার শুরুতেই মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের অসংখ্য কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে, যাতে দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এ ভয়াবহ তান্ডবে বাদ যায়নি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় একটি স্কুলে অন্তত ১৭০ জন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়, যা গোটা দেশকে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে। তবে এমন পরিস্থিতিতেও দমে যায়নি ইরান। তারা তৎক্ষণাৎ ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। এ পাল্টাপাল্টি হামলায় গোটা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধক্ষেত্রে রূপ নেয়। একইসঙ্গে ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দেয়।
টানা ৩৯ দিন ধরে চলা যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। এরপর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পরবর্তীতে সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একক সিদ্ধান্তে সেটিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে দেন। বর্তমানে পাকিস্তানের মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির চেষ্টা চললেও পরিস্থিতির কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত থেকে চীনের মতো পরাশক্তিগুলো বড় ধরনের শিক্ষা নিচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এ যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশল সম্পর্কে চীনের সামনে নতুন এক বাস্তবতা তুলে ধরেছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব্য সংঘর্ষের রূপ কেমন হতে পারে, সে বিষয়ে বেইজিং এখন অনেক বেশি সতর্ক। চীনের সাবেক বিমানবাহিনী কর্নেল ফু চিয়ানশাওয়ের মতে, এ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো শুধু আক্রমণাত্মক শক্তি বাড়ালেই হবে না, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও সমান শক্তিশালী করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান তুলনামূলক কম প্রযুক্তির শাহেদ ড্রোন ও সাশ্রয়ী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো উন্মোচিত করতে সক্ষম হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রভাণ্ডারে ব্যাপক উন্নতি করেছে। ব্রিটিশ থিংকট্যাঙ্ক রুসির তথ্য অনুযায়ী, চীন দ্রুতগতিতে পঞ্চম প্রজন্মের জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে এবং বি-২১ এর মতো দীর্ঘপাল্লার বোমারু বিমান তৈরির কাজ চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত নয়। তাইওয়ানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতে চীন একদিকে যেমন উচ্চপ্রযুক্তির নির্ভুল হামলা চালাতে চায়, অন্যদিকে ইরানের মতো বিপুল সংখ্যক ড্রোনের ব্যবহারকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা গবেষক চিয়েহ চুংয়ের মতে, ড্রোন ও রকেটের ঝাঁক ভবিষ্যতে চীনা অভিযানে মূল ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, চীন বছরে প্রায় ১০০ কোটি যুদ্ধড্রোন উৎপাদন করার সক্ষমতা রাখে, যা যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন ব্যবহারের ফলে আক্রমণকারী পক্ষের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সস্তা ড্রোন দিয়ে দামী যুদ্ধজাহাজ বা বিমান ধ্বংস করার কৌশলটি ইরান যুদ্ধে সফলভাবে দেখা গেছে। তবে অস্ত্রের পাশাপাশি বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতার অভাব চীনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ১৯৭৯ সালের পর চীন কোনো বড় যুদ্ধে অংশ নেয়নি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা ইরাক ও আফগানিস্তানে দীর্ঘ সময় লড়াই করে দ্রুত কৌশল বদলের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। চীনা বিশ্লেষক সং জংপিংয়ের মতে, ইরান সংঘাত বেইজিংকে দেখাচ্ছে যে প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি কতটা জটিল হতে পারে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধ প্রমাণ করেছে আঞ্চলিক সংঘাত কত দ্রুত বৈশ্বিক সংকট তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে তাইওয়ান বা দক্ষিণ চীন সাগরের যেকোনো পরিস্থিতির জন্য এক সতর্কবার্তা।
সূত্র: সিএনএন
/এমএকে/

নিজের হাতে গড়া সামরিক নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারালেন শি জিনপিং
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে চীনের ভূমিকা কী


