শিরোনাম

হরমুজ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে ইরানের সঙ্গে চুক্তি পাকিস্তান-ইরাকের

সিটিজেন ডেস্ক
হরমুজ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে ইরানের সঙ্গে চুক্তি পাকিস্তান-ইরাকের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ইরানের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরাক ও পাকিস্তান। আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথটির নিয়ন্ত্রণ এখন কার্যত তেহরানের হাতে থাকায়, নিজেদের ধসে পড়া অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশ দুটি এ কৌশলগত পথে হাঁটছে। বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি নির্ভরযোগ্য সূত্র রয়টার্সকে এতথ্য নিশ্চিত করেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে এ অঞ্চল থেকে জ্বালানি রপ্তানি ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখলেও তেহরান শুরুতেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ না করে বরং সেখানে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়েছে। অক্সফোর্ড ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি স্টাডিজের গবেষক ক্লদিও স্টয়ারের মতে, হরমুজ এখন আর কোনো নিরপেক্ষ নৌপথ নয়, বরং এটি একটি নিয়ন্ত্রিত করিডরে পরিণত হয়েছে।

সাধারণত ইরাকের মোট অপরিশোধিত তেলের সিংহভাগই এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছায়। বর্তমানে প্রণালিটি কার্যত অবরুদ্ধ থাকায় ইরাক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে, কারণ দেশটির জাতীয় বাজেটের প্রায় ৯৫ শতাংশই আসে তেল বিক্রির অর্থ থেকে। বাগদাদ ও তেহরানের মধ্যে সম্পাদিত এক গোপন চুক্তির আওতায় রবিবার (১০ মে) ইরাকের দুটি বিশাল ট্যাংকার প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরাকি কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, তেহরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তারা আরও জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন, কারণ ইরাকের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থকেও আঘাত করবে।

অন্যদিকে, তীব্র জ্বালানি সংকটে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানও ইরানের সঙ্গে অনুরূপ একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা করেছে। এ চুক্তির ফলে কাতারের এলএনজি বহনকারী দুটি ট্যাংকার এখন পাকিস্তানের দিকে যাচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন প্রচণ্ড গরমে পাকিস্তানে বিদ্যুতের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় এবং জ্বালানি আমদানিতে স্থবিরতা আসায় দেশটিতে তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। শিল্প খাতের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, কাতার সরাসরি এ দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে অংশ না নিলেও তারা পাকিস্তানে জ্বালানি পাঠানোর আগে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জাহাজ চলাচলের এ বিশেষ অনুমতির জন্য ইরাক বা পাকিস্তান ইরান কিংবা দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) সরাসরি কোনো অর্থ প্রদান করেনি। রয়টার্সের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পাকিস্তান, কাতার ও ইরাক সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিরাপত্তার খাতিরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আলোচনার অগ্রগতি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/