যেসব কারণে বিপদে সিটি গ্রুপ

যেসব কারণে বিপদে সিটি গ্রুপ
মরিয়ম সেঁজুতি

দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার যে কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী দখল করে রেখেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম সিটি গ্রুপ। তীর তেল, সান চিনি, ন্যাচারাল আটা—এমন পরিচিত অনেক ব্যান্ডের পণ্য বাজারে সরবরাহ করে এই প্রতিষ্ঠান।
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই প্রতিষ্ঠান কখনো ঋণখেলাপি হয়নি । প্রথমবারের মতো আর্থিক চাপে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিশেষ নীতিসহায়তা চেয়েছে।
দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রয়াত ফজলুর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা এ শিল্পগোষ্ঠীর অধীনে ৪০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান আছে। বৈশ্বিক ও স্থানীয় নানা সংকটের কারণে গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে সিটি গ্রুপ। এতে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ শ্রেণীকরণ (খেলাপি) না দেখানোর অনুরোধ জানায় তারা। এ ছাড়া তারা নতুন কার্যকর মূলধন সহায়তা, কম সুদে ঋণ, ঋণপত্র (এলসি) সুবিধা, জরিমানা সুদ মওকুফ এবং বড় অঙ্কের ঋণসীমা ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে।
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে বিপর্যস্ত
বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের কাছে পাঠানো চিঠিতে সিটি গ্রুপ জানিয়েছে, গত চার বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার প্রায় ৪২ শতাংশ অবমূল্যায়ন এবং ঋণের সুদের হার এক লাফে ৪-৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় তাদের নগদ প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত ছয়টি বিশাল কারখানা গ্যাস সংযোগের অভাবে অলস পড়ে আছে। এসব কারখানায় উৎপাদন শুরু করতে না পারায় এই বিপুল বিনিয়োগ থেকে কোনো আয় আসছে না।
সিটি গ্রুপের ব্যবসার বড় অংশই ভোগ্যপণ্য আমদানি নির্ভর। পণ্যের কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খোলাসহ বৈদেশিক বাণিজ্যের অনেক কিছুই ডলারে করতে হয়। আর ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

চার বছর আগে যেখানে এক ডলারের দাম ছিল প্রায় ৮৬ টাকা, এখন তা ১২২ টাকার কাছাকাছি। ফলে আমদানি খরচ হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যায়। একই টাকার সীমায় এখন আগের তুলনায় অনেক কম পরিমাণ পণ্য আমদানি করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে বেড়েছে ব্যাংক ঋণের সুদ। ডলারে নেওয়া ঋণের সুদ ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে এলসি খোলার বাড়তি খরচ, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ডলার সংকট এবং গ্যাস সংযোগ না পাওয়ার সমস্যা।
গ্রুপটির দাবি, তারা দেশের বাজারের প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোজ্যতেল, ৪০ শতাংশ চিনি এবং ২৫ শতাংশ আটা সরবরাহ করে। এই শিল্পগোষ্ঠীর বার্ষিক ব্যবসার (টার্ন ওভার) পরিমাণ প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটিতে সরাসরি কাজ করেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।
উত্তরণের পথ
এই আর্থিক সংকট কাটাতে সিটি গ্রুপ বেশকিছু উদ্যোগও নিয়েছে। এর মধ্যে আছে শিল্পগোষ্ঠীর অপ্রধান কিছু ব্যবসা বিক্রি, বিদেশি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা এবং কিছু ইউনিট শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা।
সিটি গ্রুপ এখন কঠিন সময় পার করছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা দিলে ডলার সংকট, সুদের চাপ, গ্যাস সংকট ও ব্যাংকিং সমস্যা কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব বলে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠানো ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার যে কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী দখল করে রেখেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম সিটি গ্রুপ। তীর তেল, সান চিনি, ন্যাচারাল আটা—এমন পরিচিত অনেক ব্যান্ডের পণ্য বাজারে সরবরাহ করে এই প্রতিষ্ঠান।
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই প্রতিষ্ঠান কখনো ঋণখেলাপি হয়নি । প্রথমবারের মতো আর্থিক চাপে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিশেষ নীতিসহায়তা চেয়েছে।
দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রয়াত ফজলুর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা এ শিল্পগোষ্ঠীর অধীনে ৪০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান আছে। বৈশ্বিক ও স্থানীয় নানা সংকটের কারণে গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে সিটি গ্রুপ। এতে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ শ্রেণীকরণ (খেলাপি) না দেখানোর অনুরোধ জানায় তারা। এ ছাড়া তারা নতুন কার্যকর মূলধন সহায়তা, কম সুদে ঋণ, ঋণপত্র (এলসি) সুবিধা, জরিমানা সুদ মওকুফ এবং বড় অঙ্কের ঋণসীমা ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে।
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে বিপর্যস্ত
বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের কাছে পাঠানো চিঠিতে সিটি গ্রুপ জানিয়েছে, গত চার বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার প্রায় ৪২ শতাংশ অবমূল্যায়ন এবং ঋণের সুদের হার এক লাফে ৪-৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় তাদের নগদ প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত ছয়টি বিশাল কারখানা গ্যাস সংযোগের অভাবে অলস পড়ে আছে। এসব কারখানায় উৎপাদন শুরু করতে না পারায় এই বিপুল বিনিয়োগ থেকে কোনো আয় আসছে না।
সিটি গ্রুপের ব্যবসার বড় অংশই ভোগ্যপণ্য আমদানি নির্ভর। পণ্যের কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খোলাসহ বৈদেশিক বাণিজ্যের অনেক কিছুই ডলারে করতে হয়। আর ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

চার বছর আগে যেখানে এক ডলারের দাম ছিল প্রায় ৮৬ টাকা, এখন তা ১২২ টাকার কাছাকাছি। ফলে আমদানি খরচ হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যায়। একই টাকার সীমায় এখন আগের তুলনায় অনেক কম পরিমাণ পণ্য আমদানি করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে বেড়েছে ব্যাংক ঋণের সুদ। ডলারে নেওয়া ঋণের সুদ ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে এলসি খোলার বাড়তি খরচ, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ডলার সংকট এবং গ্যাস সংযোগ না পাওয়ার সমস্যা।
গ্রুপটির দাবি, তারা দেশের বাজারের প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোজ্যতেল, ৪০ শতাংশ চিনি এবং ২৫ শতাংশ আটা সরবরাহ করে। এই শিল্পগোষ্ঠীর বার্ষিক ব্যবসার (টার্ন ওভার) পরিমাণ প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটিতে সরাসরি কাজ করেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।
উত্তরণের পথ
এই আর্থিক সংকট কাটাতে সিটি গ্রুপ বেশকিছু উদ্যোগও নিয়েছে। এর মধ্যে আছে শিল্পগোষ্ঠীর অপ্রধান কিছু ব্যবসা বিক্রি, বিদেশি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা এবং কিছু ইউনিট শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা।
সিটি গ্রুপ এখন কঠিন সময় পার করছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা দিলে ডলার সংকট, সুদের চাপ, গ্যাস সংকট ও ব্যাংকিং সমস্যা কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব বলে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠানো ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।

যেসব কারণে বিপদে সিটি গ্রুপ
মরিয়ম সেঁজুতি

দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজার যে কয়েকটি শিল্পগোষ্ঠী দখল করে রেখেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম সিটি গ্রুপ। তীর তেল, সান চিনি, ন্যাচারাল আটা—এমন পরিচিত অনেক ব্যান্ডের পণ্য বাজারে সরবরাহ করে এই প্রতিষ্ঠান।
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই প্রতিষ্ঠান কখনো ঋণখেলাপি হয়নি । প্রথমবারের মতো আর্থিক চাপে পড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিশেষ নীতিসহায়তা চেয়েছে।
দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী প্রয়াত ফজলুর রহমানের হাতে গড়ে ওঠা এ শিল্পগোষ্ঠীর অধীনে ৪০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান আছে। বৈশ্বিক ও স্থানীয় নানা সংকটের কারণে গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কমে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে সিটি গ্রুপ। এতে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ শ্রেণীকরণ (খেলাপি) না দেখানোর অনুরোধ জানায় তারা। এ ছাড়া তারা নতুন কার্যকর মূলধন সহায়তা, কম সুদে ঋণ, ঋণপত্র (এলসি) সুবিধা, জরিমানা সুদ মওকুফ এবং বড় অঙ্কের ঋণসীমা ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছে।
বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটে বিপর্যস্ত
বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরের কাছে পাঠানো চিঠিতে সিটি গ্রুপ জানিয়েছে, গত চার বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার প্রায় ৪২ শতাংশ অবমূল্যায়ন এবং ঋণের সুদের হার এক লাফে ৪-৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় তাদের নগদ প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।
এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত ছয়টি বিশাল কারখানা গ্যাস সংযোগের অভাবে অলস পড়ে আছে। এসব কারখানায় উৎপাদন শুরু করতে না পারায় এই বিপুল বিনিয়োগ থেকে কোনো আয় আসছে না।
সিটি গ্রুপের ব্যবসার বড় অংশই ভোগ্যপণ্য আমদানি নির্ভর। পণ্যের কাঁচামাল আমদানির জন্য এলসি খোলাসহ বৈদেশিক বাণিজ্যের অনেক কিছুই ডলারে করতে হয়। আর ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

চার বছর আগে যেখানে এক ডলারের দাম ছিল প্রায় ৮৬ টাকা, এখন তা ১২২ টাকার কাছাকাছি। ফলে আমদানি খরচ হঠাৎ করেই অনেক বেড়ে যায়। একই টাকার সীমায় এখন আগের তুলনায় অনেক কম পরিমাণ পণ্য আমদানি করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে বেড়েছে ব্যাংক ঋণের সুদ। ডলারে নেওয়া ঋণের সুদ ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছেছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে এলসি খোলার বাড়তি খরচ, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট, ডলার সংকট এবং গ্যাস সংযোগ না পাওয়ার সমস্যা।
গ্রুপটির দাবি, তারা দেশের বাজারের প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোজ্যতেল, ৪০ শতাংশ চিনি এবং ২৫ শতাংশ আটা সরবরাহ করে। এই শিল্পগোষ্ঠীর বার্ষিক ব্যবসার (টার্ন ওভার) পরিমাণ প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটিতে সরাসরি কাজ করেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।
উত্তরণের পথ
এই আর্থিক সংকট কাটাতে সিটি গ্রুপ বেশকিছু উদ্যোগও নিয়েছে। এর মধ্যে আছে শিল্পগোষ্ঠীর অপ্রধান কিছু ব্যবসা বিক্রি, বিদেশি বিনিয়োগ আনার চেষ্টা এবং কিছু ইউনিট শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা।
সিটি গ্রুপ এখন কঠিন সময় পার করছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সহায়তা দিলে ডলার সংকট, সুদের চাপ, গ্যাস সংকট ও ব্যাংকিং সমস্যা কাটিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব বলে তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে পাঠানো ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।




