আগস্টে রপ্তানি আয়ে সুখবর, বড় ভরসা পোশাকেই
আগস্টে রপ্তানি আয়ে সুখবর, বড় ভরসা পোশাকেই
চলতি বছরের আগস্ট মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে পোশাক খাত থেকে। অপ্রচলিত খাতেও প্রবৃদ্ধির হার বেশি।


দেশের তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে বিদেশি কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শক্তিশালী করতে ৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে এসব বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি রেকর্ড ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা এক মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ রপ্তানি।

বিজিএমইএ এর বর্তমান বোর্ডের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর, ২০২৬ ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাটেক্সপোর রজতজয়ন্তী সংস্করণ অনুষ্ঠিত হবে। এটি বিশ্বমঞ্চে কান্ট্রি ব্র্যান্ডিংয়ে বর্তমান বোর্ডের একটি অন্যতম প্রচেষ্টা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে মোট ১ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ সময়ে রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে পোশাক খাত থেকে। অপ্রচলিত খাতেও প্রবৃদ্ধির হার বেশি।

১৯ বছর ধরে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ব্যবসা চালিয়ে আসার পর শেষ পর্যন্ত কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন রাজধানীর মিরপুরের উদ্যোক্তা মাহবুবুল হাসান ফয়সাল। গত বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে তার মালিকানাধীন রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক কারখানা ‘ম্যাট্রিক্স ড্রেসেস’।

তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দেশের উৎপাদন খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। কোথাও আংশিক আবার কোথাও শতভাগ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম উৎস সৌরশক্তি বা সৌরবিদ্যুৎ। শিল্পকারখানায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানো গেলে একদিকে বিদ্যুৎ ব্যয় কমবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো যাবে।

তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতকে আরও টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও বৈশ্বিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সার্কুলার অর্থনীতি বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার পর বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেও অবকাঠামো ও ইউটিলিটি সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও শিল্প-পানির সংকট এবং অবকাঠামো উন্নয়নের ধীরগতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও উৎপাদনে যেতে পারেনি।

সম্প্রতি দেশটির পোশাক ব্র্যান্ড এলপিপি কয়েকজন রপ্তানিকারকের পাওনা সংক্রান্ত জটিলতায় বাংলাদেশে ব্যবসা স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

শ্রমিক অসন্তোষ, ব্যাংকিং খাতের জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সাসটেইনেবল ফিন্যান্স বিভাগ’ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই ‘গ্রিন তহবিলের’ আওতায় সুদ ও মেয়াদের ক্ষেত্রে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ৭ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ইউরোতে নেমে এসেছে।

চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এ নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ।

দেশীয় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি বাড়াতে নগদ সহায়তার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংককে নির্দেশনাটি যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল ও উৎসাহিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানির বিপরীতে মোট ৪৩টি খাতে বিশেষ রপ্তানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আর্থিক সংকট, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, ঋণের উচ্চ সুদ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং নীতি সহায়তার ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা লড়াই করে টিকে আছে, আর কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ আপাতত বন্ধ হলেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতিতে দেশের শিল্প খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্প চাপে পড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাক বাজারে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে, যার সবচেয়ে বড় দায় মেটাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল মেয়াদে বৈশ্বিক এই জোটের পোশাক আমদানি সার্বিকভাবে কমলেও, প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে আশঙ্কাজনক হারে।
