২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় কমেছে ০.৫৮ শতাংশ
২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আয় কমেছে ০.৫৮ শতাংশ
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এ নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান ধরে রাখার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশ।

দেশীয় বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি বাড়াতে নগদ সহায়তার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংককে নির্দেশনাটি যথাযথভাবে অনুসরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল ও উৎসাহিত করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানির বিপরীতে মোট ৪৩টি খাতে বিশেষ রপ্তানি প্রণোদনা ও নগদ সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আর্থিক সংকট, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, ঋণের উচ্চ সুদ, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং নীতি সহায়তার ঘাটতির কারণে অনেক কারখানা লড়াই করে টিকে আছে, আর কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ আপাতত বন্ধ হলেও এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ঘাটতিতে দেশের শিল্প খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্প চাপে পড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পোশাক বাজারে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে, যার সবচেয়ে বড় দায় মেটাতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল মেয়াদে বৈশ্বিক এই জোটের পোশাক আমদানি সার্বিকভাবে কমলেও, প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে আশঙ্কাজনক হারে।

চলমান মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট তীব্র বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে একটি নতুন ঋণ ও সহায়তা কর্মসূচির আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্যভুক্ত পোশাক কারখানার প্রায় শতভাগ এপ্রিল মাসের বেতন পরিশোধ করেছে।

খন্দকার মুক্তাদির বলেন, চীনের শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।

রপ্তানি ভলিউমেও পতন দেখা গেছে। মার্চে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ কোটি ২৭ লাখ পিস পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ কম। বছরের প্রথম ৩ মাসে মোট ভলিউম কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ।

বিশ্বের শিল্প মানচিত্রে বাংলাদেশ আজ শুধু একটি নাম নয়, বরং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী রোল মডেল। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে টেকসই আগামীর পথে আরও চার ধাপ এগিয়ে গেল লাল-সবুজের পোশাক শিল্প।

আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ জ্বালানিশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তৈরি পোশাক খাতের বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ স্থগিত করতে শুরু করেছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী।

আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম (পারভেজ) চৌধুরী এ কথা বলেন।

সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য ডিজিটাল রিফান্ড সিস্টেম ‘কেপ’ নামের একটি বিশেষ ডিজিটাল পোর্টাল চালু করা হয়েছে |

চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস ও বিদ্যুৎ না পাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সেইসঙ্গে রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ধস। এ যেন দেশের অর্থনীতির এক বৈপরীত্যের চিত্র।

ইউরোপের বাজারে পোশাক খাতে রপ্তানি এক বছরেই ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে গেছে। পণ্যের গড় দাম কমেছে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।

গত শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলের বেশির ভাগ আকাশপথই বন্ধ। এতে বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর দুবাইও কয়েক দিনের জন্য কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়।

ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের জন্য মেয়াদি ঋণ সুবিধা নিতে পারবে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠান। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সর্বশেষ তিন মাসের গড়ের সমপরিমাণ ঋণ দেওয়া যাবে। বাজারভিত্তিক সুদে ব্যাংকগুলো এ ঋণ পাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতারা এ অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সুতা আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ক আরোপের জোরালো দাবি জানালেও, এর তীব্র বিরোধিতা করছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)।
