শিরোনাম

সংকট মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা চাইল বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংকট মোকাবিলায় আর্থিক সহায়তা চাইল বিজিএমইএ
বিজিএমইএ ছবি: সংগৃহীত

দেশের পোশাক খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তুলে ধরে রপ্তানি সচল রাখতে সরকারের কাছে জরুরি আর্থিক সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএর নেতারা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নেতারা এ অনুরোধ জানান।

প্রতিনিধিদলে বিজিএমইএর সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং পরিচালক ফয়সাল সামাদ ছিলেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী।

এ সময় বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতায় পোশাকশিল্প এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর- এই তিন মাসে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় তৈরি পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

তারা জানান, গত এক বছরে বিভিন্ন কারণে, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, পণ্যের মূল্য কমে যাওয়া, ক্রয় আদেশ কম পাওয়াসহ নানা কারণে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

প্রতিনিধিদল অর্থ সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, সরকারি ছুটি এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কর্ম দিবসের সংখ্যা অনেক কমে আসবে। ৬০ দিনের মধ্যে কারখানা মাত্র ৩৫ দিন খোলা থাকলেও মার্চ মাসে নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি বোনাস এবং অগ্রিম বেতন মিলিয়ে কারখানাগুলোকে প্রায় দ্বিগুণ মজুরি পরিশোধ করতে হবে।

এতে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) প্রতিষ্ঠানগুলো। এ পরিস্থিতিতে সঠিক সময়ে ব্যাংকিং সহায়তা না পেলে এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদেরকে মজুরি ও উৎসব ভাতা পরিশোধ করা এবং উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হবে না। এতে এ শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

বৈঠকে বিজিএমইএ নেতারা এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের জন্য দুটি সুনির্দিষ্ট অনুরোধ জানান। এগুলো হচ্ছে লিয়েনব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রক্রিয়াধীন থাকা বকেয়া নগদ সহায়তার আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে অর্থ ছাড়করণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া এবং আসন্ন ঈদ ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস নিশ্চিত করতে ৬ মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে ঋণ হিসেবে দেওয়া।

অর্থ সচিব বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

/বিবি/