সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিলাসবহুল দুই ফ্ল্যাট ক্রোক

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিলাসবহুল দুই ফ্ল্যাট ক্রোক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এবার বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে অবস্থিত তার মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুটের দুটি বিশাল ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ফ্ল্যাট দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গুলশান ২-এর ফ্ল্যাটটিতে এসে পৌঁছায় জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটি খোলা হয়।
জানা গেছে, গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে ফ্ল্যাট দুটির অবস্থান। এর মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট ও বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট। দুইটি ফ্ল্যাটের মোট আয়তন ৭ হাজার ৫৭৯ বর্গফুট। ফ্ল্যাট দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮ কোটি টাকা, যা সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের অবৈধ সম্পদের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে ফ্ল্যাটটি থেকে মূল্যবান আসবাবপত্র বা সম্পদ আগেই সরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছে দুদক টিম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা, গুলশান থানা পুলিশের যৌথ টিম গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে সব সামগ্রী, মালামালের ইনভেন্টরি তৈরির কাজ করছে।’
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর এই ফ্ল্যাট দুটি ক্রোকের আদেশ দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত। আদালতের আদেশে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ফ্ল্যাট দুটির নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এগুলো তালাবন্ধ থাকার কারণে তিনি সেখানে ঢুকতে পারছিলেন না। পরে দুদকের করা আরেকটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ এপ্রিল তালা খুলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাকে ওই ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ ও মালামালের তালিকা তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ভবনটির ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেনকেও নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের আবেদনে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেয় আদালত।
এদিকে, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের বিশাল সম্পত্তির সঠিক নিয়ন্ত্রণ, দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা, সার্বিক তদারকি এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের ‘সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট’-এর পরিচালককে অফিসিয়াল রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে এই অবৈধ সম্পদ যেন কোনোভাবে হাতবদল বা এর রূপান্তর না ঘটতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই রিসিভারের দায়িত্ব প্রদান।
তালা ভেঙে প্রবেশের আইনি প্রস্তুতি
যেহেতু ফ্ল্যাট দুটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং অভিযোগসংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারির পর থেকে অনুপস্থিত, তাই আইনি জটিলতা এড়াতে এবং বিনা বাধায় প্রবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। আদালতের গত এপ্রিল মাসের তিন নম্বর আদেশের প্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের বিচার শাখা থেকে গত ১১ মে একটি বিশেষ অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশ মূলে গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো. নিলয় রহমানকে এই অভিযানের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতেই তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও ভেতরের মালামাল জব্দের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রবিবার রিসিভারের দখলে নেওয়ার এই মূল প্রক্রিয়াটির সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুদকের উপপরিচালক ও টিম লিডার মো. মশিউর রহমানের সই করা এক অতি গোপনীয় ও জরুরি দাপ্তরিক পত্রে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। অভিযানটি যেন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং আইনানুগভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা
হাই-প্রোফাইল এই অভিযানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে বিশেষ চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
বিশেষ করে, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনারের (অপারেশন) দৃষ্টি আকর্ষণ করে আজ সকাল থেকেই গুলশানের ওই ভবনের চারপাশে ও ফ্ল্যাটের প্রবেশদ্বারে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রয়োজনীয় জনবল, তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং ভবনের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার জনাব ইমরান হোসেনের উপস্থিতিতে এই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এবার বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে অবস্থিত তার মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুটের দুটি বিশাল ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ফ্ল্যাট দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গুলশান ২-এর ফ্ল্যাটটিতে এসে পৌঁছায় জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটি খোলা হয়।
জানা গেছে, গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে ফ্ল্যাট দুটির অবস্থান। এর মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট ও বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট। দুইটি ফ্ল্যাটের মোট আয়তন ৭ হাজার ৫৭৯ বর্গফুট। ফ্ল্যাট দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮ কোটি টাকা, যা সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের অবৈধ সম্পদের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে ফ্ল্যাটটি থেকে মূল্যবান আসবাবপত্র বা সম্পদ আগেই সরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছে দুদক টিম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা, গুলশান থানা পুলিশের যৌথ টিম গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে সব সামগ্রী, মালামালের ইনভেন্টরি তৈরির কাজ করছে।’
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর এই ফ্ল্যাট দুটি ক্রোকের আদেশ দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত। আদালতের আদেশে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ফ্ল্যাট দুটির নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এগুলো তালাবন্ধ থাকার কারণে তিনি সেখানে ঢুকতে পারছিলেন না। পরে দুদকের করা আরেকটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ এপ্রিল তালা খুলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাকে ওই ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ ও মালামালের তালিকা তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ভবনটির ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেনকেও নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের আবেদনে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেয় আদালত।
এদিকে, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের বিশাল সম্পত্তির সঠিক নিয়ন্ত্রণ, দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা, সার্বিক তদারকি এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের ‘সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট’-এর পরিচালককে অফিসিয়াল রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে এই অবৈধ সম্পদ যেন কোনোভাবে হাতবদল বা এর রূপান্তর না ঘটতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই রিসিভারের দায়িত্ব প্রদান।
তালা ভেঙে প্রবেশের আইনি প্রস্তুতি
যেহেতু ফ্ল্যাট দুটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং অভিযোগসংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারির পর থেকে অনুপস্থিত, তাই আইনি জটিলতা এড়াতে এবং বিনা বাধায় প্রবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। আদালতের গত এপ্রিল মাসের তিন নম্বর আদেশের প্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের বিচার শাখা থেকে গত ১১ মে একটি বিশেষ অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশ মূলে গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো. নিলয় রহমানকে এই অভিযানের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতেই তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও ভেতরের মালামাল জব্দের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রবিবার রিসিভারের দখলে নেওয়ার এই মূল প্রক্রিয়াটির সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুদকের উপপরিচালক ও টিম লিডার মো. মশিউর রহমানের সই করা এক অতি গোপনীয় ও জরুরি দাপ্তরিক পত্রে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। অভিযানটি যেন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং আইনানুগভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা
হাই-প্রোফাইল এই অভিযানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে বিশেষ চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
বিশেষ করে, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনারের (অপারেশন) দৃষ্টি আকর্ষণ করে আজ সকাল থেকেই গুলশানের ওই ভবনের চারপাশে ও ফ্ল্যাটের প্রবেশদ্বারে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রয়োজনীয় জনবল, তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং ভবনের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার জনাব ইমরান হোসেনের উপস্থিতিতে এই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বিলাসবহুল দুই ফ্ল্যাট ক্রোক
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এবার বড় ধরনের আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে অবস্থিত তার মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুটের দুটি বিশাল ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। ফ্ল্যাট দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গুলশান ২-এর ফ্ল্যাটটিতে এসে পৌঁছায় জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটি খোলা হয়।
জানা গেছে, গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে ফ্ল্যাট দুটির অবস্থান। এর মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট ও বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট। দুইটি ফ্ল্যাটের মোট আয়তন ৭ হাজার ৫৭৯ বর্গফুট। ফ্ল্যাট দুটির আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮ কোটি টাকা, যা সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের অবৈধ সম্পদের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে ফ্ল্যাটটি থেকে মূল্যবান আসবাবপত্র বা সম্পদ আগেই সরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছে দুদক টিম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা, গুলশান থানা পুলিশের যৌথ টিম গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে সব সামগ্রী, মালামালের ইনভেন্টরি তৈরির কাজ করছে।’
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর এই ফ্ল্যাট দুটি ক্রোকের আদেশ দেন ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত। আদালতের আদেশে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে ফ্ল্যাট দুটির নিয়ন্ত্রণে নেয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে এগুলো তালাবন্ধ থাকার কারণে তিনি সেখানে ঢুকতে পারছিলেন না। পরে দুদকের করা আরেকটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ এপ্রিল তালা খুলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাকে ওই ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ ও মালামালের তালিকা তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং ভবনটির ব্যবস্থাপক ইমরান হোসেনকেও নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের আবেদনে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেয় আদালত।
এদিকে, বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশ মোতাবেক, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের বিশাল সম্পত্তির সঠিক নিয়ন্ত্রণ, দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনা, সার্বিক তদারকি এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের ‘সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট’-এর পরিচালককে অফিসিয়াল রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে এই অবৈধ সম্পদ যেন কোনোভাবে হাতবদল বা এর রূপান্তর না ঘটতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই রিসিভারের দায়িত্ব প্রদান।
তালা ভেঙে প্রবেশের আইনি প্রস্তুতি
যেহেতু ফ্ল্যাট দুটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং অভিযোগসংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারির পর থেকে অনুপস্থিত, তাই আইনি জটিলতা এড়াতে এবং বিনা বাধায় প্রবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। আদালতের গত এপ্রিল মাসের তিন নম্বর আদেশের প্রেক্ষিতে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ের বিচার শাখা থেকে গত ১১ মে একটি বিশেষ অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশ মূলে গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মো. নিলয় রহমানকে এই অভিযানের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতেই তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে প্রবেশ ও ভেতরের মালামাল জব্দের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রবিবার রিসিভারের দখলে নেওয়ার এই মূল প্রক্রিয়াটির সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুদকের উপপরিচালক ও টিম লিডার মো. মশিউর রহমানের সই করা এক অতি গোপনীয় ও জরুরি দাপ্তরিক পত্রে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। অভিযানটি যেন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং আইনানুগভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা
হাই-প্রোফাইল এই অভিযানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে বিশেষ চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পুলিশ ফোর্স মোতায়েনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
বিশেষ করে, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনারের (অপারেশন) দৃষ্টি আকর্ষণ করে আজ সকাল থেকেই গুলশানের ওই ভবনের চারপাশে ও ফ্ল্যাটের প্রবেশদ্বারে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের প্রয়োজনীয় জনবল, তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং ভবনের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার জনাব ইমরান হোসেনের উপস্থিতিতে এই পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজের এডমিন গ্রেপ্তার







