শিরোনাম

হরমুজে বহুজাতিক মিশনে যুদ্ধবিমান ও রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য

সিটিজেন ডেস্ক
হরমুজে বহুজাতিক মিশনে যুদ্ধবিমান ও রণতরী পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য
ব্রিটিশ রণতরী। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত বহুজাতিক মিশনে ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও রণতরী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

মঙ্গলবার (১২ মে) প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এক ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে এই প্যাকেজটি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে নৌ-মাইন শনাক্ত ও অপসারণের জন্য স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, ড্রোন বোট এবং আকাশপথে টহলের জন্য টাইফুন জেট।

এই মিশনে আরও ৪০টির বেশি দেশ জড়িত রয়েছে, পরিস্থিতি অনুকূলে এলে অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন হিলি।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যমান প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে ১,০০০ জনেরও বেশি ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে ড্রোন-প্রতিরোধী দল এবং দ্রুতগতির জেট স্কোয়াড্রনও আছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, গত মাসে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে ঘোষিত এই বহুজাতিক মিশনটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক। এর লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, ‘আমাদের মিত্রদের সঙ্গে এই বহুজাতিক মিশনটি হবে প্রতিরক্ষামূলক, স্বাধীন ও বিশ্বাসযোগ্য।’

এই পরিকল্পনার অধীনে ইতোমধ্যে বিমান প্রতিরক্ষা বিধ্বংসী জাহাজ এইচএমএস ড্রাগন পাঠানো হয়েছে। প্রণালিটি সুরক্ষিত করার জন্য এটি ‘যেকোনো অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকবে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রণালিতে অভিযানের প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আরেকটি ব্রিটিশ জাহাজ আরএফএ লাইম বে-কে নতুন সরঞ্জাম দিয়ে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাইন শনাক্তকারী ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত ১১৫ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার) নতুন তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কয়েক মাস ধরে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তেহরানকে তাদের শর্তে রাজি করাতে চাপ সৃষ্টি করছে। এরই অংশ হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে ওয়াশিংটন, তবে এতে ক্ষুব্ধ হয়েছে ইরান।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে পরিবহন করা হয়। এটি অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

এপ্রিল মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এটি ‘মারাত্মক লাইফ সাপোর্টে’ আছে। যে কোনো সময় তিনি ইরানে আবার হামলা চালাতে পারেন।

সূত্র: বিবিসি

/জেএইচ/