বৃষ্টিতে চড়া সবজির দাম, কাঁচামরিচে ডাবল সেঞ্চুরি
বৃষ্টিতে চড়া সবজির দাম, কাঁচামরিচে ডাবল সেঞ্চুরি
টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে সবজির দাম। বর্তমানে বাজারে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে।


সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজ, মরিচসহ কিছু সবজির দাম কমলেও বাজারের সার্বিক অবস্থা স্বস্তিদায়ক নয়। টমেটো ও গাজরে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে

বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব কাটতে শুরু করায় কিছুটা কমেছে কাঁচা মরিচ ও সবজির দাম। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে মুরগিসহ বেশকিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ফেরেনি স্বস্তি ।

বৃষ্টির ধাক্কায় সবজির বাজারে আগুন

সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই মাছের দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা। তবে স্বস্তির খবর হলো সবজি ও মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।
টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে সবজির দাম। বর্তমানে বাজারে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে।

অতিবৃষ্টির কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় হু হু করে বাড়ছে সবজির দাম। বর্তমানে বাজারে বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার ওপরে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও সবজির দাম বেড়েছে। এতে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেড়েছে মুরগির দাম। তবে মাছ ও সবজির দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি।

সবজি, মাছ, মুরগিসহ সবকিছুর দাম বাড়তেই আছে। দাম কমানোর কোনো উদ্যোগ দেখছি না। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার চালাতে কষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের আয় না বাড়লেও, ঠিকই ব্যয় বাড়ছে।

রাজধানীর দুই কাঁচাবাজারে মূল্য পরিস্থিতিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। কারওয়ান বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম কিছুটা কমেছে। ডিম ও গরুর মাংসের বাজারেও মিলেছে স্বস্তি।

রাজধানীর খুচরা বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে পোলাউ ও আটাশ চালের দাম কোরবানির ঈদের পর থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একইসঙ্গে মাছ ও বেশ কিছু সবজির দামও বেড়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা থাকলেও রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোয় এখনো তেমন কোনো দৃশ্যমান প্রভাব পড়েনি।

কারওয়ানবাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও জিগাতলায় তা ৯০ থেকে ১০০ টাকায় উঠেছে। করলা ৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০০ টাকা, ৭০ টাকার পটোল হয়েছে ৯০ টাকা।

সরবরাহ সংকট, টানা বৃষ্টি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সবজি, মাছ ও মুরগির বাজারে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে রুই মাছ ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৬০, কই মাছ ১৪০, পাঙ্গাস মাছ ২০০ টাকা এবং পাবদা মাছ ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাক-সবজি থেকে শুরু করে চাল, ডাল, মাছ-মাংসসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই এখন ঊর্ধ্বমুখী। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে এসে রীতিমতো হা-হুতাশ করছে ক্রেতারা।

ঈদুল ফিতরের আগে থেকে শুরু হওয়া ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা এখন অব্যহত রয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে পাম তেলের দামও। তেলের দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজারে উত্তাপ ছড়াচ্ছে মাংস ও সবজি।

লেবুর দাম শুনে থমকে গেলেন এক ক্রেতা। ছোট আকারের লেবুর হালি ১০০ টাকার নিচে নেই, মাঝারি ও বড় লেবু বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।

বাজারগুলোতে কিছু সবজির দোকান খোলা ছিল। তবে সেগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্রেতা কম দেখা গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়েছে সবজি, পেঁয়াজ ও মুরগির দামে।
