শিরোনাম

নির্বাচনের ছুটি ও রমজানের প্রভাব বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচনের ছুটি ও রমজানের প্রভাব বাজারে
বাজারে ক্রেতা কম। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে রাজধানীতে চলছে ছুটির আমেজ। নির্বাচনের জন্য বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে টানা চার দিনের ছুটি ও ভোট দিতে রাজধানী ছেড়ে অনেক মানুষ চলে গেছেন গ্রামে। এর প্রভাবে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পণ্যবাহী যান চলাচল সীমিত থাকা এবং পাইকারি আড়তগুলোতে কার্যক্রম আংশিক বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ সবজি সরবরাহ নেই। ফলে বেড়েছে দাম। সেই সঙ্গে আসন্ন রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দামের ঊর্ধ্বগতিতে দেখা দিয়েছে ক্রেতা অসন্তোষ। তবে নতুন সরকারের কাছে নিত্যপণ্যের বাজারমূল্যে লাগাম টেনে ধরার প্রত্যাশা সাধারণ ক্রেতাদের।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দেখা গেছে, রাজধানীর বেশির ভাগ বাজার ছিল প্রায় ক্রেতাশূন্য; বন্ধ ছিল অনেক দোকান। এমনকি রাজধানীর অন্যতম প্রধান পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারেও এক ধরনের ক্রেতাশূন্যতা দেখা গেছে। বেশির ভাগ দোকান বন্ধ। কিছু দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা ছিল হাতে গোনা। একই অবস্থা দেখা গেছে মতিঝিল এজিবি কলোনী কাচা বাজারের মতো এলাকাভিত্তিক ছোট বাজারগুলোতেও।

বাজারগুলোতে কিছু সবজির দোকান খোলা ছিল। তবে সেগুলোতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্রেতা কম দেখা গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়েছে সবজি, পেঁয়াজ ও মুরগির দামে।

বলতে গেলে ক্রেতাশূন্য ঢাকার বাজার
বলতে গেলে ক্রেতাশূন্য ঢাকার বাজার

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভোটের আগের তুলনায় প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকা। প্রতি পিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ টাকা (বড় সাইজের)। শিম, মুলা ও পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড করলা ও মটরশুটির দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছেছে। তবে প্রকারভেদে প্রতি কেজি আলুর দাম শিথিল রয়েছে; ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচে ঝাঁজ না বাড়লেও কেজি প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান নির্বাচনের সময় যানবাহন চলাচলে কড়াকড়ির কারণে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে পণ্য পরিবহনে সমস্যা হয়েছে এবং ভাড়াও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এজিবি কলোনী কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী নাসির আলী বলেন, নির্বাচন ঘিরে সবাই বাড়িতে গেছে। ঢাকায় সবজির সরবরাহ কম। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম বেড়েছে। এছাড়া কয়েকদিন পরেই রমজান মাস শুরু। এর প্রভাবও যুক্ত হয়েছে।

পেঁয়াজের বাজারেও স্বস্তি নেই। পুরোনো দেশি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ মানভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২১০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন খামার থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

নির্বাচনের পর বাজার আবার স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা। মতিঝিল এজিবি কলোনী কাঁচা বাজারের বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক নুর হোসেন বলেন, বাজারে পণ্যের কোনো সংকট নেই। চাল-ডালসহ সব ধরনের নিত্যপণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত এবং দামও মোটামুটি স্বাভাবিক। কিন্তু ক্রেতা না থাকায় বাজার স্থবির হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, অন্য বছরগুলোতে রমজানের আগে যে পরিমাণ বেচাকেনা হয়, এবার তার তুলনায় বিক্রি অনেক কম। ব্যবসায়ীরা এখন নতুন সরকারের অপেক্ষায় আছেন। সবারই প্রত্যাশা, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

/টিই/