ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে যা বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে যা বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক কথা বলেছেন ভারত সিরিজ নিয়ে।


বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট সম্পর্ক দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

খেলোয়াড় ও সংবাদকর্মীদের সুযোগ-সুবিধার বেহাল দশা তুলে ধরে তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের জন্য স্টেডিয়াম। ড্রেসিং রুমের পরিবেশ যাচ্ছেতাই। ওয়াশরুমও তাই। প্রেসবক্সের অবস্থাও যাচ্ছেতাই।

খেলাধুলাকে শুধু বিনোদন হিসেবে নয়, পেশা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও নানা সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গেল বুধবার (৫ আগস্ট) দিল্লিতে হওয়া ভার্চ্যুয়াল প্রেস কনফারেন্সে ছিলেন সাকিব।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক কথা বলেছেন ভারত সিরিজ নিয়ে।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, আগামী বছর থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে কোরআন তেলাওয়াত, সংগীত, বিতর্ক, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল ঝড়ে আক্রান্ত। দেশের প্রত্যেকটা মানুষ, বিশেষ করে আমাদের যুবসমাজ বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে আমেজটা বেশি।’

আগামী অর্থবছরে দেশের ৮টি বিভাগে ১০টি ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ করা হবে বলে জানিয়ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

আগামী জাতীয় শিক্ষাক্রমে খেলাধূলাকে বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শুরু করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় পাস করার জন্য মাঠে আসতে হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

এখন পরিবর্তনের হাওয়ায় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন খুঁজে নিতে চায় নতুন পথরেখা। সব মলিনতা মুছে যে পথে নির্মাণ করা যাবে সাফল্যের সোনালি সৌধ।

আবাহনী ক্লাবের ম্যানেজমেন্টকে নতুনভাবে সাজানোর মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য সকল ইভেন্টে ক্লাবের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন...

বর্তমান বিশ্বে আমরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

খেলাধুলাকে সামাজিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা ও উৎসবের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে।

খেলাধুলা কেবল শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে না, বরং মানুষের মধ্যে শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করে।

আসিফ মাহমুদের তদন্ত কমিটির মুখোমুখি না হওয়া প্রসঙ্গে আমিনুল বলেন, ‘ইতোমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের কাছে জমা হয়েছে। তিনি অংশগ্রহণ করেননি, নিশ্চয়ই তদন্ত প্রতিবেদনের মধ্যে তা রয়েছে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। সেই স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, ‘গতকাল আমি কক্সবাজার থেকে খেলা দেখছিলাম। মাহিন (গোলরক্ষক) যেভাবে সেভ করেছে, আমিও ২০০৩ সালের সাফ ফাইনালে টাইব্রেকারে সেভ করেছিলাম।’

বক্তৃতার শেষে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলোয়াড় বন্ধুরা, আপনাদের সবার প্রতি আমার একান্ত অনুরোধ- পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন এবং হবেন না। বরং ক্রীড়ানৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন, দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনবেন।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্রীড়াবিদের জন্য সরকারি সহযোগিতার অংশ হিসেবে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।

যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেছেন, ‘এশিয়া কাপের মতো বড় আসরে ভিয়েতনামকে হারিয়ে সোনা জয় করা আমাদের দেশের জন্য এক গৌরবময় অর্জন।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ক্রীড়াবিদদেরও গুরুত্ব দিয়েছে বর্তমান সরকার। প্যারা গেমসে পদক পাওয়া ক্রীড়াবিদরাও ৩০ মার্চ পুরস্কার পাবেন। এ নিয়ে তিনি বলেন, 'প্যারা গেমসে আমাদের অনেক অর্জন। তাদেরকেও আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। তারাও ভাতার আওতায় আসবে।'

প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এক অভিনন্দন বার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের ক্রিকেটারদের এই অদম্য স্পৃহা এবং লড়াকু মানসিকতায় আমি অত্যন্ত গর্বিত। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজ জয় আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।

দায়িত্ব নেওয়ার পর সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবার দেশের সকল ফেডারেশনের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেখানে বিসিবির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ ও বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরি সুজন।
