শেখ হাসিনার প্লটে সরকারি অর্থ ব্যয় করা প্রকৌশলীরা ফেঁসে যাচ্ছেন

শেখ হাসিনার প্লটে সরকারি অর্থ ব্যয় করা প্রকৌশলীরা ফেঁসে যাচ্ছেন
সেলিনা আক্তার

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ৬০ কাঠা জমি বরাদ্দ হয়। সেখানে সরকারি অর্থে অর্থাৎ প্রকল্প অংশের টাকায় ৬০ কাঠা প্লটে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, গেট নির্মাণ, নিচু ভূমি ভরাট, বৃক্ষরোপণসহ নানা কার্যক্রম করেছেন পূর্বাচাল প্রকল্পের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা। বেশ গোপনীয়তার সঙ্গে রাজউকের শীর্ষ মহল থেকে বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় শেষ করার পর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলীরা বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েছেন। এ ঘটনায় রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান, এস্টেট শাখার সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে আদালত কর্তৃক বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে জেলে থাকলেও উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকসহ ৮ প্রকৌশলী এবার আলোচনায় এসেছেন। সূত্র বলছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত প্লটে সরকারি অর্থ ব্যয় করা প্রকৌশলীদের তথ্য সংগ্রহে নেমেছে দায়িত্বশীল সংস্থা।
রাজউক সূত্র বলছে, ২০২২ সালে প্লট বরাদ্দের পর সেখানে যারা উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েছেন তাদের মধ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ছিলেন মো. মনিরুল হক (বর্তমানে পরিচালক, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১), প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ বদিউল আলম ও মো. আবু ছাইদ খন্দকার (বর্তমানে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী, পূর্ত সার্কেল-১)। সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. আশরাফুল ইসলাম (বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে অবস্থান করছেন) ও সাদ্দাম হোসাইন। উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে ছিলেন বিজন কুমার সাহা, ওয়াহেদুজ্জামান ও আলতাফ হোসেন সরকার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্লট বরাদ্দের আবেদন যাচাই, নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন এবং দখল হস্তান্তরের বিভিন্ন ধাপে কার কী ভূমিকা ছিল, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
রাজউক সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ৩ আগস্ট সংরক্ষিত কোটার আওতায় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ছয় সদস্যের নামে ১০ কাঠা করে মোট ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তৎকালীন রাজউক চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান মিঞা ও সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) নুরুল ইসলামের মেয়াদকালে বরাদ্দপত্রগুলো ইস্যু করা হয়। বরাদ্দের পর মো. আবু কাওছার মল্লিক (পরিচালক, অর্থ ও হিসাব) রাজউকের কোষাগারে নির্ধারিত ফি জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের পিডি মনিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা তড়িঘড়ি করে সেখানে সব ধরনের উন্নয়ন কাজ করেছেন। এসব প্লটে আরসিসি ঢালাইয়ের পর ব্রিক ওয়ালের কাজ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শেখ হাসিনার নামে ৯ নম্বর, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে ১৫ নম্বর, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে ১৭ নম্বর, শেখ রেহানার নামে ১৩ নম্বর, রিদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নামে ১১ নম্বর এবং আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর নামে ১৯ নম্বর প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই বছর এসব প্লটের দখলও হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।
পরে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শেখ হাসিনা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বরে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। সেই রায়ে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী) বিজন কুমার সাহা বলেন, ‘আমি উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে দায়িত্বরত থাকলেও উন্নয়ন সেক্টরে ছিলাম না। যারা দায়িত্বরত ছিলেন তারাই ভালো বলতে পারবেন।’
পূর্বাচলের আরেক সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন সরকার দায়িত্বে থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালে পূর্বাচলের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি।’
রাজউকের পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আবু কাওছার মল্লিক বলেন, ‘প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা অর্থ ছাড় করতে বললে আমি সেটা করি। এক জায়গার কথা বলে অন্য জায়গায় উন্নয়ন করা হলে সেটা তো আমি বলতে পারবো না। কাগজে কলমে এই ধরনের কাজের কোনো তথ্য নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সাবেক পরিচালক (বর্তমানে পরিচালক, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক সোমবার রাতে (৩১ আগস্ট) বলেন, ‘পূর্বাচল প্রকল্পে ব্যক্তিগতভাবে বরাদ্দ পাওয়া কোনো প্লটে সরকারি অর্থে উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। এমন কিছু হয়ে থাকলে নথিপত্র থাকার কথা।’

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ৬০ কাঠা জমি বরাদ্দ হয়। সেখানে সরকারি অর্থে অর্থাৎ প্রকল্প অংশের টাকায় ৬০ কাঠা প্লটে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, গেট নির্মাণ, নিচু ভূমি ভরাট, বৃক্ষরোপণসহ নানা কার্যক্রম করেছেন পূর্বাচাল প্রকল্পের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা। বেশ গোপনীয়তার সঙ্গে রাজউকের শীর্ষ মহল থেকে বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় শেষ করার পর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলীরা বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েছেন। এ ঘটনায় রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান, এস্টেট শাখার সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে আদালত কর্তৃক বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে জেলে থাকলেও উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকসহ ৮ প্রকৌশলী এবার আলোচনায় এসেছেন। সূত্র বলছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত প্লটে সরকারি অর্থ ব্যয় করা প্রকৌশলীদের তথ্য সংগ্রহে নেমেছে দায়িত্বশীল সংস্থা।
রাজউক সূত্র বলছে, ২০২২ সালে প্লট বরাদ্দের পর সেখানে যারা উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েছেন তাদের মধ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ছিলেন মো. মনিরুল হক (বর্তমানে পরিচালক, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১), প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ বদিউল আলম ও মো. আবু ছাইদ খন্দকার (বর্তমানে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী, পূর্ত সার্কেল-১)। সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. আশরাফুল ইসলাম (বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে অবস্থান করছেন) ও সাদ্দাম হোসাইন। উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে ছিলেন বিজন কুমার সাহা, ওয়াহেদুজ্জামান ও আলতাফ হোসেন সরকার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্লট বরাদ্দের আবেদন যাচাই, নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন এবং দখল হস্তান্তরের বিভিন্ন ধাপে কার কী ভূমিকা ছিল, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
রাজউক সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ৩ আগস্ট সংরক্ষিত কোটার আওতায় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ছয় সদস্যের নামে ১০ কাঠা করে মোট ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তৎকালীন রাজউক চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান মিঞা ও সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) নুরুল ইসলামের মেয়াদকালে বরাদ্দপত্রগুলো ইস্যু করা হয়। বরাদ্দের পর মো. আবু কাওছার মল্লিক (পরিচালক, অর্থ ও হিসাব) রাজউকের কোষাগারে নির্ধারিত ফি জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের পিডি মনিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা তড়িঘড়ি করে সেখানে সব ধরনের উন্নয়ন কাজ করেছেন। এসব প্লটে আরসিসি ঢালাইয়ের পর ব্রিক ওয়ালের কাজ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শেখ হাসিনার নামে ৯ নম্বর, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে ১৫ নম্বর, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে ১৭ নম্বর, শেখ রেহানার নামে ১৩ নম্বর, রিদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নামে ১১ নম্বর এবং আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর নামে ১৯ নম্বর প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই বছর এসব প্লটের দখলও হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।
পরে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শেখ হাসিনা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বরে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। সেই রায়ে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী) বিজন কুমার সাহা বলেন, ‘আমি উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে দায়িত্বরত থাকলেও উন্নয়ন সেক্টরে ছিলাম না। যারা দায়িত্বরত ছিলেন তারাই ভালো বলতে পারবেন।’
পূর্বাচলের আরেক সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন সরকার দায়িত্বে থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালে পূর্বাচলের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি।’
রাজউকের পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আবু কাওছার মল্লিক বলেন, ‘প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা অর্থ ছাড় করতে বললে আমি সেটা করি। এক জায়গার কথা বলে অন্য জায়গায় উন্নয়ন করা হলে সেটা তো আমি বলতে পারবো না। কাগজে কলমে এই ধরনের কাজের কোনো তথ্য নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সাবেক পরিচালক (বর্তমানে পরিচালক, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক সোমবার রাতে (৩১ আগস্ট) বলেন, ‘পূর্বাচল প্রকল্পে ব্যক্তিগতভাবে বরাদ্দ পাওয়া কোনো প্লটে সরকারি অর্থে উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। এমন কিছু হয়ে থাকলে নথিপত্র থাকার কথা।’

শেখ হাসিনার প্লটে সরকারি অর্থ ব্যয় করা প্রকৌশলীরা ফেঁসে যাচ্ছেন
সেলিনা আক্তার

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ৬০ কাঠা জমি বরাদ্দ হয়। সেখানে সরকারি অর্থে অর্থাৎ প্রকল্প অংশের টাকায় ৬০ কাঠা প্লটে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, গেট নির্মাণ, নিচু ভূমি ভরাট, বৃক্ষরোপণসহ নানা কার্যক্রম করেছেন পূর্বাচাল প্রকল্পের তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা। বেশ গোপনীয়তার সঙ্গে রাজউকের শীর্ষ মহল থেকে বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় শেষ করার পর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলীরা বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে সেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েছেন। এ ঘটনায় রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান, এস্টেট শাখার সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে আদালত কর্তৃক বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় ধরে জেলে থাকলেও উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকসহ ৮ প্রকৌশলী এবার আলোচনায় এসেছেন। সূত্র বলছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের ব্যক্তিগত প্লটে সরকারি অর্থ ব্যয় করা প্রকৌশলীদের তথ্য সংগ্রহে নেমেছে দায়িত্বশীল সংস্থা।
রাজউক সূত্র বলছে, ২০২২ সালে প্লট বরাদ্দের পর সেখানে যারা উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়েছেন তাদের মধ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ছিলেন মো. মনিরুল হক (বর্তমানে পরিচালক, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১), প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ বদিউল আলম ও মো. আবু ছাইদ খন্দকার (বর্তমানে তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশলী, পূর্ত সার্কেল-১)। সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. আশরাফুল ইসলাম (বর্তমানে শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে অবস্থান করছেন) ও সাদ্দাম হোসাইন। উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে ছিলেন বিজন কুমার সাহা, ওয়াহেদুজ্জামান ও আলতাফ হোসেন সরকার।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্লট বরাদ্দের আবেদন যাচাই, নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন এবং দখল হস্তান্তরের বিভিন্ন ধাপে কার কী ভূমিকা ছিল, তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
রাজউক সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ৩ আগস্ট সংরক্ষিত কোটার আওতায় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ছয় সদস্যের নামে ১০ কাঠা করে মোট ছয়টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তৎকালীন রাজউক চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান মিঞা ও সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) নুরুল ইসলামের মেয়াদকালে বরাদ্দপত্রগুলো ইস্যু করা হয়। বরাদ্দের পর মো. আবু কাওছার মল্লিক (পরিচালক, অর্থ ও হিসাব) রাজউকের কোষাগারে নির্ধারিত ফি জমা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের পিডি মনিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা তড়িঘড়ি করে সেখানে সব ধরনের উন্নয়ন কাজ করেছেন। এসব প্লটে আরসিসি ঢালাইয়ের পর ব্রিক ওয়ালের কাজ করা হয়েছে বলে জানা যায়।
বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে শেখ হাসিনার নামে ৯ নম্বর, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামে ১৫ নম্বর, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে ১৭ নম্বর, শেখ রেহানার নামে ১৩ নম্বর, রিদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির নামে ১১ নম্বর এবং আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীর নামে ১৯ নম্বর প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই বছর এসব প্লটের দখলও হস্তান্তর করা হয় বলে জানা গেছে।
পরে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ সামনে এলে ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শেখ হাসিনা, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বরে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। সেই রায়ে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী) বিজন কুমার সাহা বলেন, ‘আমি উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে দায়িত্বরত থাকলেও উন্নয়ন সেক্টরে ছিলাম না। যারা দায়িত্বরত ছিলেন তারাই ভালো বলতে পারবেন।’
পূর্বাচলের আরেক সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন সরকার দায়িত্বে থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালে পূর্বাচলের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি।’
রাজউকের পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) আবু কাওছার মল্লিক বলেন, ‘প্রকল্পের ডিপিপি অনুযায়ী দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা অর্থ ছাড় করতে বললে আমি সেটা করি। এক জায়গার কথা বলে অন্য জায়গায় উন্নয়ন করা হলে সেটা তো আমি বলতে পারবো না। কাগজে কলমে এই ধরনের কাজের কোনো তথ্য নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সাবেক পরিচালক (বর্তমানে পরিচালক, উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক সোমবার রাতে (৩১ আগস্ট) বলেন, ‘পূর্বাচল প্রকল্পে ব্যক্তিগতভাবে বরাদ্দ পাওয়া কোনো প্লটে সরকারি অর্থে উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। এমন কিছু হয়ে থাকলে নথিপত্র থাকার কথা।’

আ.লীগ আমলে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম খুঁজতে কমিটি নিলো ৩১ লাখ টাকা
আ.লীগ আমলে পাওয়া সোহেল তাজের প্লট বাতিল করছে সরকার
কার স্বার্থে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে নিষ্কণ্টক জমির তালিকা
ভুয়া কিস্তির রশিদে প্লট ছাড়লো রাজউক 







