শিরোনাম

‘যারা যে খেলায় ভালো করবেন সেটিকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘যারা যে খেলায় ভালো করবেন সেটিকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ কার্যালয়ে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ছবি: পিএমও

সোমবার (৩০ মার্চ) প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ ভাতার আওতায় ও সাফল্যের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ক্রিকেট বাদে অন্য সকল খেলার জাতীয় খেলোয়াড়রা বেতনের আওতায় আসবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তেজগাঁওয়ে নিজের কার্যালয়ে ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ভাতার আওতায় আসা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে মাসে ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে।

ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু হতে যাচ্ছে।

  • প্রত্যেক খেলোয়াড় মাসে পাবে ১ লাখ টাকা করে
  • ৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে নতুন কুড়ি স্পোর্টস
  • ১২৯ জন এসেছে ভাতার আওতায়, পর্যায়ক্রমে মোট ৫০০ ক্রীড়াবিদ আসবে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেক বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

প্রধানমন্ত্রী তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে আইনস্টাইনের একটি কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি, সে আসলে কিছুই করেনি। তার মানে সে কোনো উদ্যোগই গ্রহণ করেনি, চেষ্টাই করেনি। আপনাকে জয়ী হতে হলে কিছু একটা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন বা শরীর চর্চার বিষয় নয় বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।’

তারেক রহমান বলেন, ‘যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তিনি যাতে তার পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের ও পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।’

বক্তৃতার শেষে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলোয়াড় বন্ধুরা, আপনাদের সবার প্রতি আমার একান্ত অনুরোধ- পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন এবং হবেন না। বরং ক্রীড়ানৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন, দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনবেন।’

/টিই/