শিরোনাম

ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, আট মাসে ১০২ মৃত্যু

ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু, আট মাসে ১০২ মৃত্যু
ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু। গত বছরের তুলনায় এবার মৃত্যু প্রায় কাছাকাছি। তবে শনাক্তের হার গত বছরকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সামনের পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পাঠানো সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছিল ১২২ জনের। আর চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১০২ জনের। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৩২ হাজার ২৬ জন। আর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৭ হাজার ১৭০ জন। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ১৪৪ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, মৃত্যুর তালিকায় ঢাকার দুই সিটিতে ৪৯ জন। এরপরে মৃত্যুতে দ্বিতীয় অবস্থানে খুলনা বিভাগে ১৮ জন, ময়মনসিংহে ১০ জন, বরিশালে ৯ জন, রাজশাহীতে চারজন, ঢাকা বিভাগে তিনজন এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে। রোগী শনাক্তের দিক থেকেও শীর্ষে রাজধানী ঢাকা। দুই সিটিতে আক্রান্ত ৯ হাজার ৪০৪ জন। এরপরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত বরিশাল বিভাগে ৫ হাজার ৯৫৯ জন। খুলনা বিভাগে মোট ৫ হাজার ৮১৫ জন, চট্টগ্রামে ৫ হাজার ৫৭৭ জন, ঢাকায় ৫ হাজার ৩৫৮ জন, রাজশাহীতে এক হাজার ৯৮১ জন, ময়মনসিংহে এক হাজার ৯৭৮ জন, রংপুরে ৯২৭ জন এবং সিলেটে ১৭১ জন।

গবেষকরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে এডিস মশার পরিমাণ কমানোর বিকল্প নেই। আর মৃত্যু কমাতে হলে দ্রুত শনাক্ত এবং চিকিৎসালয়ে যেতে হবে। তাহলে ডেঙ্গু রোগী এবং মৃত্যু কমাতে ভূমিকা রাখবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, এডিস মশার জন্ম নিচ্ছে মানুষের বাড়িঘর ও আশপাশে। বিশেষ করে বালতি, গ্যারেজ, আন্ডারগ্রাউন্ড ও পানি রড্রামে এডিসের লার্ভা ৭০ শতাংশ পাওয়া গেছে। এসব জায়গা ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গু ৭০ ভাগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু মশা মারার সঙ্গে জড়িতরা রাস্তাঘাটে ফগিং করলে মশা কমবে না। আর মৃত্যু কমাতে হলে দ্রুত ডায়াগনস্টিকের মাধ্যমে শনাক্ত এবং দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এটি করতে পারলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসবে। এজন্য সঠিক জায়গায় আঘাত হানতে পারলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে গত ২৩ জুন ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম জোরদার করতে ১৯ সদস্যের জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটি গঠিত হয়। কমিটিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, সিটি করপোরেশনগুলোর প্রশাসক ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, ঢাকা মহানগর পুলিশ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রয়েছে।

মশা নিধন ওষুধের কার্যকারিতা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য কমিটিতে যুক্ত রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রতিনিধি, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থা, ঢাকা ওয়াসা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে হলে এডিস মশার সংখ্যা কমাতে হবে। কিন্তু ডেঙ্গু এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে। ডেঙ্গু রোগী বাড়লে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়বে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব রেজাউল করিম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার যৌথভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে মশক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার বিভাগ কার্যক্রম জোরদার করেছে। ওষুধে মশা মরছে কি-না, তা উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে যাচাই করা হয়। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কর্নার খোলা হয়েছে।

/এমআর/