কুয়েতে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা
কুয়েতে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সশস্ত্র বাহিনী অতিরিক্ত পাঁচটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবু এই হামলায় বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেমে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।


কুয়েতের পাশাপাশি বাহরাইনেও হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘ইরানের আগ্রাসনের কারণে একটি কোম্পানির অবকাঠামোতে আগুন লেগেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ করছেন।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লক্ষ্য এক নয়। ফলে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য পূরণ করলে, তারা কি ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে এনে যুদ্ধ থামাতে পারবে?

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, কুয়েত রাষ্ট্রের ওপর ইরানের চলমান আগ্রাসনের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে দূতাবাসের এবারের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান হচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছে কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস।
কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সশস্ত্র বাহিনী অতিরিক্ত পাঁচটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবু এই হামলায় বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেমে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব পড়েছে দেশের এভিয়েশন খাত, প্রবাসী কর্মীর জীবনসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৪৭৫টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ‘ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে’।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন। এ হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে তাদের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে গত কয়েকদিনে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের কমপক্ষে ১৫৩টি শহরে হামলা করেছে। এর মধ্যে ৫০৪ টি স্থানে এক হাজার ৩০৯ বার হামলা হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত হামলায় ৭৮৭ জন নিহত বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত তিন দিনে ইরান থেকে ছোড়া ১৭৮টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৮০টিরও বেশি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করেছে কুয়েতের সেনাবাহিনী।
