শিরোনাম

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার আকাশসীমা খুললো কুয়েত

সিটিজেন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবার আকাশসীমা খুললো কুয়েত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজেদের আকাশসীমা পুনরায় খুলে দিয়েছে কুয়েত। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আকাশসীমা উন্মুক্ত করে দেয়। কুয়েতের বার্তাসংস্থা কুনার বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক হামৌদ মুবারক জানান, আঞ্চলিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করা হয়েছিল। বিমানবন্দরকে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আকাশসীমা উন্মুক্ত করার আজকের এ পদক্ষেপকে একটি সুচিন্তিত ও প্রথম উদ্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

মূলত ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘ দুই দশকের দ্বন্দ্বের জেরে এ যুদ্ধের সূত্রপাত। গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলা দীর্ঘ সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর পরের দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইসরায়েলও ইরানে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামের সামরিক অভিযান চালায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।

জবাবে তেহরানও পাল্টা হামলা চালায়। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশ- সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগ পর্যন্ত কুয়েতের বিমানবন্দরেও বেশ কয়েকবার ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামৌদ মুবারক নিশ্চিত করেছেন, ইরানি হামলায় বিমানবন্দরের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা যাচাই ও নথিবদ্ধ করার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সংকটকালীন এ সময়ে কুয়েতের বিমানগুলোকে নিজেদের বিমানবন্দরে নিরাপদে রাখার অনুমতি দেওয়ায় সৌদি আরবের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

/এমএকে/