শিরোনাম

শর্ত পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশ, অতিরিক্ত শুল্ক বসাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

সিটিজেন ডেস্ক
শর্ত পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশ, অতিরিক্ত শুল্ক বসাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। শ্রমিকদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রায় ৬০টি অর্থনীতির বিরুদ্ধে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় (ইউএসটিআর) এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে বলে বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইউএসটিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে বিবেচিত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। কিছু দেশের ক্ষেত্রে এ শুল্কের হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্ত দেশগুলো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণত কোনো দেশের বাণিজ্যনীতি বা কার্যক্রমকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বৈষম্যমূলক বা ক্ষতিকর মনে হলে ওই ধারার আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের শুল্কনীতিকে নতুন কাঠামোয় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ক্ষমতায় ফিরে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর জরুরি ভিত্তিতে শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত সেই শুল্কব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করে।

আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ বা জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে নির্বিচারে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। পরে আদালতের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে ট্রাম্প প্রশাসন।

তবে আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও নতুন কৌশলে শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিয়ে এগোচ্ছে হোয়াইট হাউস।

ইউএসটিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্যের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

অন্যদিকে, তদন্তাধীন আরও ৪৫টি দেশের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও নাইজেরিয়াসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রির বলেন, ‘আমাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো যখন জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তখন তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে মার্কিন শ্রমিকদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, যা তাদের স্বার্থের পরিপন্থী।’

ইউএসটিআর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত শুল্ক ও অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করা হবে। এরপর ৭ জুলাই এ বিষয়ে একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

/এমআর/