মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা মরদেহ ইসরায়েলি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য বিক্রি

মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা মরদেহ ইসরায়েলি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য বিক্রি
সিটিজেন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের খ্যাতনামা দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা গবেষণার উদ্দেশ্যে দান করা মানবদেহ ইসরায়েলি সামরিক শল্যচিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহারের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শিক্ষানবিশ সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং আল জাজিরার তথ্যচিত্রে গোপন চুক্তির বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর দাতা পরিবারগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া (ইউএসসি) এবং ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, স্যান ডিয়েগো (ইউসিএসডি) এ মানবদেহ সরবরাহের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। ২০১৮ সাল থেকে একটি চুক্তির আওতায় ইউএসসি অন্তত ৮৯টি তাজা মৃতদেহ মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে। পরবর্তীতে সেগুলো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সম্মুখ সমরের চিকিৎসকদের ৪ দিনব্যাপী ‘কমব্যাট ট্রমা সার্জারি স্কিলস কোর্স’-এ ব্যবহৃত হয়। একটি চিকিৎসা বিষয়ক গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, ‘পারফিউশন’ নামক একটি বিশেষ পদ্ধতিতে মৃতদেহগুলোতে কৃত্রিম রক্ত প্রবাহিত করে সেগুলোকে জীবিত মানুষের মতো সচল করা হতো। যুদ্ধক্ষেত্রে বুকে বা পায়ে গুলির আঘাত এবং হাতে তৈরি বিস্ফোরক (আইইডি) বিস্ফোরণে আহত সৈন্যদের রক্তক্ষরণের বাস্তব পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতেই এমনটি করা হতো বলে গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে এ যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ২০১৩ সাল থেকেই চলে আসছে বলে নথিপত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি এ তথ্য সামনে আসার পর অনেক দাতা পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। মিরিয়াম ভলপিন নামের এক মেডিকেল কেস ম্যানেজার জানান, তার ১০১ বছর বয়সী মা জ্যানেট ২০২১ সালে মারা যাওয়ার পর বিজ্ঞানের কল্যাণের জন্য ইউএসসিতে দেহদান করেছিলেন। মিরিয়াম এখন আশঙ্কা করছেন, তার মায়ের মরদেহ হয়তো গাজায় চলমান সংঘাতের মতো যুদ্ধে ইসরায়েলি সার্জনদের প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। একইভাবে ২০১২ সালে ইউসিএসডিতে দেহদান করেছিলেন জিন ম্যাকনিল। তার নাতনি জেনিফার গোমেজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো দেশের সামরিক বাহিনী বা যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত বাহিনীর হাত শক্তিশালী করার জন্য তার নানি দেহদান করেননি। এ বিতর্কের জেরে ওয়েন্ডি স্মিথ নামে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ইংরেজি অধ্যাপক ও তার স্বামী ইউসিএসডিতে তাদের মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইউএসসি এক ইমেইলে এ প্রশিক্ষণকে কোনো সামরিক কর্মসূচি নয়, বরং শিক্ষামূলক"দাবি করে বলেছে, অংশগ্রহণকারী ইসরায়েলিরা অসামরিক ব্যক্তি ছিলেন। অন্যদিকে ইউসিএসডি এ প্রক্রিয়াকে সামরিক প্রশিক্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এটিকে তথ্যের ভুল উপস্থাপন বলে অভিহিত করেছে। শিক্ষানবিশ সাংবাদিকদের প্রতিবেদনটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চাহিদাপূরণে ইউএসসি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউসিএসডির শরণাপন্ন হয় এবং ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত ইউসিএসডি থেকে ইউএসসিতে প্রায় ১২৪টি মৃতদেহ স্থানান্তর করা হয়। আল জাজিরার প্রাপ্ত ইসরায়েলি সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সম্মুখ সমরে সার্জনদের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ প্রশিক্ষণের চাহিদা আরও বেড়েছে।
দাতা পরিবারগুলোর অজান্তেই তাদের প্রিয়জনদের শরীর নিয়ে এমন কর্মকাণ্ড চালানোর পরও নথিতে এর কোনো উল্লেখ ছিল না। ইউএসসি-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডক্টর মোহাম্মদ রাদ দাতাদের সম্মতি না নেওয়ার এ নৈতিক দিকটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তীব্র বিতর্কের মুখে ইউসিএসডি হেলথের মূল নেটওয়ার্ক ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া হেলথ তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদ করেছে। তারা স্বীকার করেছে, দান করা মৃতদেহ অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে ভাগ করা এবং সামরিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে মূল বিশ্ববিদ্যালয় দুটি এখনো কোনো তথ্য পরিবর্তন আনেনি। এদিকে তীব্র আপত্তির পরেও মার্কিন নৌবাহিনী অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত ইউএসসির সঙ্গে এ কর্মসূচির চুক্তি নবায়নের পরিকল্পনা করছে, যা দাতা পরিবার ও সচেতন মহলে গভীর আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের খ্যাতনামা দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা গবেষণার উদ্দেশ্যে দান করা মানবদেহ ইসরায়েলি সামরিক শল্যচিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহারের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শিক্ষানবিশ সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং আল জাজিরার তথ্যচিত্রে গোপন চুক্তির বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর দাতা পরিবারগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া (ইউএসসি) এবং ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, স্যান ডিয়েগো (ইউসিএসডি) এ মানবদেহ সরবরাহের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। ২০১৮ সাল থেকে একটি চুক্তির আওতায় ইউএসসি অন্তত ৮৯টি তাজা মৃতদেহ মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে। পরবর্তীতে সেগুলো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সম্মুখ সমরের চিকিৎসকদের ৪ দিনব্যাপী ‘কমব্যাট ট্রমা সার্জারি স্কিলস কোর্স’-এ ব্যবহৃত হয়। একটি চিকিৎসা বিষয়ক গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, ‘পারফিউশন’ নামক একটি বিশেষ পদ্ধতিতে মৃতদেহগুলোতে কৃত্রিম রক্ত প্রবাহিত করে সেগুলোকে জীবিত মানুষের মতো সচল করা হতো। যুদ্ধক্ষেত্রে বুকে বা পায়ে গুলির আঘাত এবং হাতে তৈরি বিস্ফোরক (আইইডি) বিস্ফোরণে আহত সৈন্যদের রক্তক্ষরণের বাস্তব পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতেই এমনটি করা হতো বলে গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে এ যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ২০১৩ সাল থেকেই চলে আসছে বলে নথিপত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি এ তথ্য সামনে আসার পর অনেক দাতা পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। মিরিয়াম ভলপিন নামের এক মেডিকেল কেস ম্যানেজার জানান, তার ১০১ বছর বয়সী মা জ্যানেট ২০২১ সালে মারা যাওয়ার পর বিজ্ঞানের কল্যাণের জন্য ইউএসসিতে দেহদান করেছিলেন। মিরিয়াম এখন আশঙ্কা করছেন, তার মায়ের মরদেহ হয়তো গাজায় চলমান সংঘাতের মতো যুদ্ধে ইসরায়েলি সার্জনদের প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। একইভাবে ২০১২ সালে ইউসিএসডিতে দেহদান করেছিলেন জিন ম্যাকনিল। তার নাতনি জেনিফার গোমেজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো দেশের সামরিক বাহিনী বা যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত বাহিনীর হাত শক্তিশালী করার জন্য তার নানি দেহদান করেননি। এ বিতর্কের জেরে ওয়েন্ডি স্মিথ নামে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ইংরেজি অধ্যাপক ও তার স্বামী ইউসিএসডিতে তাদের মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইউএসসি এক ইমেইলে এ প্রশিক্ষণকে কোনো সামরিক কর্মসূচি নয়, বরং শিক্ষামূলক"দাবি করে বলেছে, অংশগ্রহণকারী ইসরায়েলিরা অসামরিক ব্যক্তি ছিলেন। অন্যদিকে ইউসিএসডি এ প্রক্রিয়াকে সামরিক প্রশিক্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এটিকে তথ্যের ভুল উপস্থাপন বলে অভিহিত করেছে। শিক্ষানবিশ সাংবাদিকদের প্রতিবেদনটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চাহিদাপূরণে ইউএসসি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউসিএসডির শরণাপন্ন হয় এবং ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত ইউসিএসডি থেকে ইউএসসিতে প্রায় ১২৪টি মৃতদেহ স্থানান্তর করা হয়। আল জাজিরার প্রাপ্ত ইসরায়েলি সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সম্মুখ সমরে সার্জনদের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ প্রশিক্ষণের চাহিদা আরও বেড়েছে।
দাতা পরিবারগুলোর অজান্তেই তাদের প্রিয়জনদের শরীর নিয়ে এমন কর্মকাণ্ড চালানোর পরও নথিতে এর কোনো উল্লেখ ছিল না। ইউএসসি-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডক্টর মোহাম্মদ রাদ দাতাদের সম্মতি না নেওয়ার এ নৈতিক দিকটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তীব্র বিতর্কের মুখে ইউসিএসডি হেলথের মূল নেটওয়ার্ক ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া হেলথ তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদ করেছে। তারা স্বীকার করেছে, দান করা মৃতদেহ অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে ভাগ করা এবং সামরিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে মূল বিশ্ববিদ্যালয় দুটি এখনো কোনো তথ্য পরিবর্তন আনেনি। এদিকে তীব্র আপত্তির পরেও মার্কিন নৌবাহিনী অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত ইউএসসির সঙ্গে এ কর্মসূচির চুক্তি নবায়নের পরিকল্পনা করছে, যা দাতা পরিবার ও সচেতন মহলে গভীর আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা মরদেহ ইসরায়েলি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য বিক্রি
সিটিজেন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের খ্যাতনামা দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা গবেষণার উদ্দেশ্যে দান করা মানবদেহ ইসরায়েলি সামরিক শল্যচিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহারের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। শিক্ষানবিশ সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং আল জাজিরার তথ্যচিত্রে গোপন চুক্তির বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর দাতা পরিবারগুলোর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া (ইউএসসি) এবং ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, স্যান ডিয়েগো (ইউসিএসডি) এ মানবদেহ সরবরাহের প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত। ২০১৮ সাল থেকে একটি চুক্তির আওতায় ইউএসসি অন্তত ৮৯টি তাজা মৃতদেহ মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে। পরবর্তীতে সেগুলো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সম্মুখ সমরের চিকিৎসকদের ৪ দিনব্যাপী ‘কমব্যাট ট্রমা সার্জারি স্কিলস কোর্স’-এ ব্যবহৃত হয়। একটি চিকিৎসা বিষয়ক গবেষণাপত্র থেকে জানা যায়, ‘পারফিউশন’ নামক একটি বিশেষ পদ্ধতিতে মৃতদেহগুলোতে কৃত্রিম রক্ত প্রবাহিত করে সেগুলোকে জীবিত মানুষের মতো সচল করা হতো। যুদ্ধক্ষেত্রে বুকে বা পায়ে গুলির আঘাত এবং হাতে তৈরি বিস্ফোরক (আইইডি) বিস্ফোরণে আহত সৈন্যদের রক্তক্ষরণের বাস্তব পরিবেশ ফুটিয়ে তুলতেই এমনটি করা হতো বলে গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে এ যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ২০১৩ সাল থেকেই চলে আসছে বলে নথিপত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি এ তথ্য সামনে আসার পর অনেক দাতা পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। মিরিয়াম ভলপিন নামের এক মেডিকেল কেস ম্যানেজার জানান, তার ১০১ বছর বয়সী মা জ্যানেট ২০২১ সালে মারা যাওয়ার পর বিজ্ঞানের কল্যাণের জন্য ইউএসসিতে দেহদান করেছিলেন। মিরিয়াম এখন আশঙ্কা করছেন, তার মায়ের মরদেহ হয়তো গাজায় চলমান সংঘাতের মতো যুদ্ধে ইসরায়েলি সার্জনদের প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। একইভাবে ২০১২ সালে ইউসিএসডিতে দেহদান করেছিলেন জিন ম্যাকনিল। তার নাতনি জেনিফার গোমেজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোনো দেশের সামরিক বাহিনী বা যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত বাহিনীর হাত শক্তিশালী করার জন্য তার নানি দেহদান করেননি। এ বিতর্কের জেরে ওয়েন্ডি স্মিথ নামে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ইংরেজি অধ্যাপক ও তার স্বামী ইউসিএসডিতে তাদের মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ইউএসসি এক ইমেইলে এ প্রশিক্ষণকে কোনো সামরিক কর্মসূচি নয়, বরং শিক্ষামূলক"দাবি করে বলেছে, অংশগ্রহণকারী ইসরায়েলিরা অসামরিক ব্যক্তি ছিলেন। অন্যদিকে ইউসিএসডি এ প্রক্রিয়াকে সামরিক প্রশিক্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এটিকে তথ্যের ভুল উপস্থাপন বলে অভিহিত করেছে। শিক্ষানবিশ সাংবাদিকদের প্রতিবেদনটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চাহিদাপূরণে ইউএসসি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউসিএসডির শরণাপন্ন হয় এবং ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত ইউসিএসডি থেকে ইউএসসিতে প্রায় ১২৪টি মৃতদেহ স্থানান্তর করা হয়। আল জাজিরার প্রাপ্ত ইসরায়েলি সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সম্মুখ সমরে সার্জনদের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ প্রশিক্ষণের চাহিদা আরও বেড়েছে।
দাতা পরিবারগুলোর অজান্তেই তাদের প্রিয়জনদের শরীর নিয়ে এমন কর্মকাণ্ড চালানোর পরও নথিতে এর কোনো উল্লেখ ছিল না। ইউএসসি-সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডক্টর মোহাম্মদ রাদ দাতাদের সম্মতি না নেওয়ার এ নৈতিক দিকটি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তীব্র বিতর্কের মুখে ইউসিএসডি হেলথের মূল নেটওয়ার্ক ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া হেলথ তাদের ওয়েবসাইটের তথ্য হালনাগাদ করেছে। তারা স্বীকার করেছে, দান করা মৃতদেহ অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে ভাগ করা এবং সামরিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে মূল বিশ্ববিদ্যালয় দুটি এখনো কোনো তথ্য পরিবর্তন আনেনি। এদিকে তীব্র আপত্তির পরেও মার্কিন নৌবাহিনী অন্তত ২০২৯ সাল পর্যন্ত ইউএসসির সঙ্গে এ কর্মসূচির চুক্তি নবায়নের পরিকল্পনা করছে, যা দাতা পরিবার ও সচেতন মহলে গভীর আস্থার সংকট তৈরি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান হচ্ছেন আবাসন কর্মকর্তা
ইরানের বৃহত্তম ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জসহ ৩ প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের 

