শিরোনাম

মমতার তৃণমূলে ভাঙনের সুর, বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত

সিটিজেন ডেস্ক
মমতার তৃণমূলে ভাঙনের সুর, বিরোধীদলীয় নেতা ঋতব্রত
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কোলাজ: সিটিজেন গ্রাফিক্স

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে তাকে এই দায়িত্বে চেয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দেওয়া হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তত ৫৮ জন বিধায়ক চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তা অনুমোদন করে ঋতব্রতকে বিরোধীদলীয় নেতার স্বীকৃতি দেন স্পিকার। পরে বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতার ঘরও খুলে দেওয়া হয়।

এই পরিস্থিতিতে দলটি ভাঙনের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে রাজনৈতিক মহল। এরইমধ্যে রাজ্যের সব কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের কারণে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস, সংখ্যালঘু সেলসহ সব কমিটি, সব সংগঠনই ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে ঋতব্রত বলেন, আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা করব। তৃণমূূল দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, আমরা আপাতত ৫৮ জনের একটা টিম। পরে আরও ২ জন যোগ দিতে পারেন।

ঋতব্রত বলেন, আমি একটা কথা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। আমরা চাই, তিনিই আমাদের পরামর্শদাতা হোন। আমাদের পরিষদীয় দলকে পরামর্শ দিন। মার্গদর্শকের (পথপ্রদর্শক) ভূমিকায় থাকুন। তিনি থাকলে আমরা ভালো কাজ করতে পারব। অষ্টাদশ বিধানসভার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদূরান্তে কোনও সম্পর্ক নেই।

তিনি আরও বলেন, মানুষ রায় দিয়েছে আমাদের বিরোধী আসনের জন্য। সেটা মেনে নিতে হবে। আমি বস নই। আমি বসিংয়ে বিশ্বাসী নই। আমি আমরায় বিশ্বাস করি। সব সিদ্ধান্ত আলোচনা করে নেব আমরা।

বিধানসভায় জাল স্বাক্ষর বিতর্কে দুইদিন আগেই ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। তাদের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ ছিল। অবশেষে সেই ঋতব্রত এবং সন্দীপনের নেতৃত্বে তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক একজোট হয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রাহ্য’ করলেন।

মমতা বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধীদলীয় নেতা, অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে চিফ হুইপ চেয়েছিলেন।

তবে ৫৮ বিধায়ক আজ বৈঠক করে তাদের দলনেতা হিসেবে ঋতব্রতকে নির্বাচিত করার পাশাপাশি বিধানসভায় বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) হিসেবে সাবেক মন্ত্রী ও মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক আখরুজ্জামানকে নির্বাচিত করেন। একই সঙ্গে আখতারুজ্জামানের ডেপুটি হিসেবে বিধায়ক জাভেদ খান, শিউলি সাহা ও সন্দীপন সাহার নাম ঠিক হয়েছে।

শুধু তা-ই নয়, স্পিকারের কাছে বিদ্রোহী বিধায়কদের দেওয়া চিঠিতে মমতার নামও দলনেত্রী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

শিউলি সাহা বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আমাদের দলনেত্রী। তারই সৈনিক ছিলাম, আছি এবং থাকবো। কিন্তু দলটা যখন অন্য কেউ দখল করে নেয়, সেটা তো মেনে নেব না। আমরা দলে একটা সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চাইছিলাম।

গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে ভরাডুবি হয় দেড় দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের। দলটি ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ৮০টি আসন পায়।

/এফসি/