শিরোনাম

কেন উত্তপ্ত ডিমের বাজার

কেন উত্তপ্ত ডিমের বাজার
কারওয়ান বাজারে ডিমের পসরা নিয়ে বসেছেন একজন খুচরা বিক্রেতা। ছবি: সংগৃহীত

ডিমের বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। একদিনের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ডজনে দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ।

খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করছেন, আড়তদারদের মজুদ ও সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে আড়তদারদের দাবি, খামার পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং সরকারি খাতে চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই দাম বেড়েছে। ফলে ডিমের বাজারে দোষারোপ আর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

খুচরা বিক্রেতাদের বক্তব্য

আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারণে ডিমের দাম বেড়েছে বলে মনে করছেন খুচরা বিক্রেতারা। তাদের মতে, যখন ডিমের দাম কম ছিল, তখন আড়তদাররা ডিম মজুদ করে রেখেছে। এখন দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা দাম বৃদ্ধি করে ফেলেছে। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে পারলে ডিমের দাম কমে যাবে বলে মনে করছেন তারা।

কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা নুর আলম বলেন, আজকে লাল ডিমের ডজন ১৫০ টাকা করে। আর সাদা ডিমের ডজন ১৩৫ টাকা করে। গতকাল লাল ডিমের ডজন ছিল ১৪০ টাকা করে আর সাদা ডিমের ডজন ছিল ১৩০ টাকা করে। একদিনের ব্যবধানে লাল ডিমের প্রতি ডজনে বেড়েছে ১০ টাকা আর সাদা ডিমের বেড়েছে ৫ টাকা করে।

তিনি জানান, পাইকারি মূল্যে লাল ডিম প্রতি পিসের দাম পড়েছে ১১ টাকা ৭০ পয়সা। আর সাদা ডিমের দাম পড়েছে ১০ টাকা ৭০ পয়সা টাকা।

পাইকারি মূল্য অনুযায়ী হিসাব করে দেখা গেছে, লাল ডিম প্রতি ১০০ পিসের দাম ১ হাজার ১৭০ টাকা এবং প্রতি ডজনের দাম পড়েছে ১৪০ দশমিক ৪ টাকা করে। এক হালি লাল ডিমের দাম পড়েছে ৪৬ দশমিক ৮ টাকা করে। আর সাদা ডিম প্রতি ১০০ পিসের দাম ১০৭০ টাকা এবং প্রতি ডজনের দাম ১২৮ দশমিক ৪ টাকা করে। এক হালি সাদা ডিমের দাম পড়েছে ৪২ দশমিক ৮ টাকা করে।

খুচরা বিক্রেতা নুর আলম বলেন, আমরা বর্তমানে লাল ডিম প্রতি পিস বিক্রি করছি সাড়ে ১২ টাকা করে, আর প্রতি ডজন বিক্রি করছি ১৫০ টাকা করে। এদিকে, সাদা ডিম প্রতি পিস বিক্রি করছি সাড়ে ১১ টাকা করে। প্রতি ডজন বিক্রি করছি ১৩৫ টাকা করে।

বর্তমান মূল্য অনুযায়ী হিসেব করে দেখা গেছে, লাল ডিমের প্রতি হালির দাম ৫০ টাকা আর সাদা ডিমের প্রতি হালির দাম ৪৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

আড়তদাররা বলছেন ভিন্ন কথা

তেজগাঁওয়ের ডিমের আড়তদার আল-আমীন ট্রেডার্সের মালিক মো. আল-আমীন জানান, সিন্ডিকেট করে ডিমের দাম বাড়ানো হয়নি এবং সিন্ডিকেট করার কোনো সুযোগ নেই। খামার থেকে দাম বাড়ানোর কারণেই তাদেরকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে দাম বাড়ানোর কোনো সুযোগই নেই। খামারিদের কাছ থেকে ডিম আনার পরপরই আমরা বিক্রি করে ফেলি। আমরা ডিম মজুদ করিনি।

ডিমের দাম বৃদ্ধি হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, স্কুলে টিফিনের সময় ডিম বরাদ্দ রাখার কারণে খামারে ডিমের চাহিদা বেড়েছে এবং অধিকাংশ ডিম সরকারি খাতে চলে যাওয়ায় আমরা ডিম কম পাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, এবছর ডিমের দাম অনেক কম থাকায় অনেক খামারি ডিম পাড়া মুরগী বিক্রি করে দিয়েছে। একারণেও বড় একটা সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

ডিম কত করে খামারি থেকে কেনা হচ্ছে, এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা লাল ডিম প্রতি পিস ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১১ টাকা করে ক্রয় করি। আর সাদা ডিম প্রতি পিস ৯ টাকা ৭০ পয়সা করে ক্রয় করি। এরপরে আমরা অল্প কিছু প্রফিট করে বিক্রি করি।

এদিকে পাইকারি-খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে লাল ডিম ১০০ পিস ১১০০ টাকা এবং সাদা ডিম ১ হাজার টাকা করে বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

ডিমের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের ক্ষোভ

ডিমের দাম বাড়তে থাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাধারণ ভোক্তা ও ক্রেতাদের মধ্যে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে মানিক নামের একজন ক্রেতা বলেন, এভাবে দাম বাড়লে কেমনে চলবে? সবজির পাশাপাশি এখন ডিমের দামও বেড়ে গেছে। আরও কত বাড়বে আল্লাহ জানে। এরকম দাম বাড়তে থাকলে সামনের দিকে ডিম খাওয়াও বাদ দিতে হবে।

/এমআর/