শিরোনাম

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার সুষ্ঠু বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার সুষ্ঠু বিচার দাবি
রামপুরায় নারী উন্নয়ন শক্তির কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় সংগঠনের সদস্যরা। ছবি: সিটিজেন জার্নাল

দেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নারী উন্নয়ন শক্তি নামের একটি সংগঠন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর রামপুরায় নারী উন্নয়ন শক্তির কার্যালয়ে এক সভায় এই দাবি জানানো হয়। খিলগাঁও এলাকার সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম, ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট এবং ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক ও সভাপতি ড. আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে, যা মানবাধিকার পরিস্থিতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বিভিন্ন প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্ষণ মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ শিশু। প্রতিদিন গড়ে নারী ও শিশুরা যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, বিচারহীনতা, সামাজিক নীরবতা, কুসংস্কার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার এসব অপরাধ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। অনেক ঘটনা ভয়ে বা সামাজিক চাপের কারণে প্রকাশই পায় না বলেও তারা মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সহ-সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে হবে।

ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান নুসরাত সুলতানা আফরোজ বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে উন্নয়নের কোনো অর্থ নেই। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

ফোরাম ফর কালচার অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের সভাপতি সাহিদা ওয়াহাব বলেন, কুসংস্কার ও ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ না হলে এ ধরনের অপরাধ কমবে না।

সভায় বক্তারা নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা নিষ্পত্তি, ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা কমিটি সক্রিয় করার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ বিষয়ে সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

/এসএ/