যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা
সিজেডএন ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জবাবে ইরানে সামরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার টানা ষষ্ঠ রাতের মতো হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এদিকে ইরান বলেছে, তারা শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে দুপক্ষের সংঘাত এখন নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে তারা টানা আরেক রাত হামলা চালিয়েছে। এতে কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসের আশপাশের এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বন্দর আব্বাসে ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং দেশটির সবচেয়ে বড় বন্দরের অবস্থান।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় তারা যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করেছে।
ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় পাঁচটি সেতু, উপকূলীয় শহর বন্দর খামিরের রেলস্টেশন ও দক্ষিণ-পূর্বে ইরানশাহর বিমানবন্দর নিশানা করা হয়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা বলেছে, বন্দর খামিরের সেতুগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এর মধ্যে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিও আছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ওমানের ঘানিম অঞ্চলে একটি মার্কিন বিমান নিয়ন্ত্রণ রাডার এবং হরমুজ প্রণালিতে স্থাপিত একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ রাডার ধ্বংস করেছে।
এছাড়া কুয়েতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের ডিপো এবং দুটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
টেলিযোগাযোগ ও রেল নেটওয়ার্কসহ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
ভোরে কাতারের রাজধানী দোহায়ও হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, কাতারের রাজধানী দোহায় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিস্ফোরণে উড়ে আসা ধাতব টুকরো লেগে এক শিশু আহত হয়েছে।
এছাড়া প্রথমবারের মতো সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে এই হামলার বিষয়ে সিরীয় সরকার বা মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ওই স্থাপনা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
দুই দেশের এই সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। সপ্তাহান্তে তেলের দাম ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
ওয়াশিংটন গত বুধবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। তেহরানও হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
রয়টার্সকে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে তেহরান ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত আরেক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে পারে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাকি রেখেছিল তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা ইরানের প্রদর্শিত পথ এড়িয়ে ওমান উপকূল দিয়ে বিকল্প রুটে জাহাজ চলাচল শুরু করে। ফলে ওই জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালায় ইরানের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান জাহাজে হামলা করে সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এর পর যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই বলে ঘোষণা করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেবেন না। ইরানকে যেন এর পরিণতি ভোগ করতে হয় তাও নিশ্চিত করবেন।’
তবে লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একইসঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আন্তরিক আছেন।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জবাবে ইরানে সামরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার টানা ষষ্ঠ রাতের মতো হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এদিকে ইরান বলেছে, তারা শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে দুপক্ষের সংঘাত এখন নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে তারা টানা আরেক রাত হামলা চালিয়েছে। এতে কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসের আশপাশের এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বন্দর আব্বাসে ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং দেশটির সবচেয়ে বড় বন্দরের অবস্থান।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় তারা যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করেছে।
ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় পাঁচটি সেতু, উপকূলীয় শহর বন্দর খামিরের রেলস্টেশন ও দক্ষিণ-পূর্বে ইরানশাহর বিমানবন্দর নিশানা করা হয়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা বলেছে, বন্দর খামিরের সেতুগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এর মধ্যে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিও আছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ওমানের ঘানিম অঞ্চলে একটি মার্কিন বিমান নিয়ন্ত্রণ রাডার এবং হরমুজ প্রণালিতে স্থাপিত একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ রাডার ধ্বংস করেছে।
এছাড়া কুয়েতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের ডিপো এবং দুটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
টেলিযোগাযোগ ও রেল নেটওয়ার্কসহ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
ভোরে কাতারের রাজধানী দোহায়ও হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, কাতারের রাজধানী দোহায় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিস্ফোরণে উড়ে আসা ধাতব টুকরো লেগে এক শিশু আহত হয়েছে।
এছাড়া প্রথমবারের মতো সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে এই হামলার বিষয়ে সিরীয় সরকার বা মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ওই স্থাপনা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
দুই দেশের এই সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। সপ্তাহান্তে তেলের দাম ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
ওয়াশিংটন গত বুধবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। তেহরানও হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
রয়টার্সকে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে তেহরান ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত আরেক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে পারে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাকি রেখেছিল তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা ইরানের প্রদর্শিত পথ এড়িয়ে ওমান উপকূল দিয়ে বিকল্প রুটে জাহাজ চলাচল শুরু করে। ফলে ওই জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালায় ইরানের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান জাহাজে হামলা করে সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এর পর যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই বলে ঘোষণা করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেবেন না। ইরানকে যেন এর পরিণতি ভোগ করতে হয় তাও নিশ্চিত করবেন।’
তবে লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একইসঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আন্তরিক আছেন।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা
সিজেডএন ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার জবাবে ইরানে সামরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার টানা ষষ্ঠ রাতের মতো হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এদিকে ইরান বলেছে, তারা শুক্রবার (১৭ জুলাই) উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মাসে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে দুপক্ষের সংঘাত এখন নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলায় রূপ নিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল করতে তারা টানা আরেক রাত হামলা চালিয়েছে। এতে কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসের আশপাশের এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বন্দর আব্বাসে ইরানের নৌবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি এবং দেশটির সবচেয়ে বড় বন্দরের অবস্থান।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা কেন্দ্র, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অবকাঠামো এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাসংশ্লিষ্ট কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় তারা যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করেছে।
ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলায় পাঁচটি সেতু, উপকূলীয় শহর বন্দর খামিরের রেলস্টেশন ও দক্ষিণ-পূর্বে ইরানশাহর বিমানবন্দর নিশানা করা হয়।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা বলেছে, বন্দর খামিরের সেতুগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এর মধ্যে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিও আছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ওমানের ঘানিম অঞ্চলে একটি মার্কিন বিমান নিয়ন্ত্রণ রাডার এবং হরমুজ প্রণালিতে স্থাপিত একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ রাডার ধ্বংস করেছে।
এছাড়া কুয়েতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার, বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের ডিপো এবং দুটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
টেলিযোগাযোগ ও রেল নেটওয়ার্কসহ ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।
ভোরে কাতারের রাজধানী দোহায়ও হামলা চালিয়েছে ইরান। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, কাতারের রাজধানী দোহায় কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিস্ফোরণে উড়ে আসা ধাতব টুকরো লেগে এক শিশু আহত হয়েছে।
এছাড়া প্রথমবারের মতো সিরিয়ার আল-তানফ সামরিক ঘাঁটিতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিশেষ অভিযান কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে এই হামলার বিষয়ে সিরীয় সরকার বা মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ওই স্থাপনা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র।
দুই দেশের এই সংঘাত বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। সপ্তাহান্তে তেলের দাম ১২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
ওয়াশিংটন গত বুধবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নতুন করে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। তেহরানও হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
রয়টার্সকে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে তেহরান ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুতিদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত আরেক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে পারে।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাকি রেখেছিল তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা ইরানের প্রদর্শিত পথ এড়িয়ে ওমান উপকূল দিয়ে বিকল্প রুটে জাহাজ চলাচল শুরু করে। ফলে ওই জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালায় ইরানের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান জাহাজে হামলা করে সমঝোতা চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এর পর যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই বলে ঘোষণা করেন তিনি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেবেন না। ইরানকে যেন এর পরিণতি ভোগ করতে হয় তাও নিশ্চিত করবেন।’
তবে লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একইসঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও আন্তরিক আছেন।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বাড়লো তেলের দাম
সিরিয়ায় মার্কিন কমান্ড সেন্টারে হামলা ইরানের
বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনায় হামলার দাবি ইরানের






