শিরোনাম

থামেনি বিবর্তন, বদলে চলেছে মানুষ!

সিটিজেন ডেস্ক
থামেনি বিবর্তন, বদলে চলেছে মানুষ!
প্রতীকী ছবি।

মানুষের বিবর্তন কি থেমে গেছে? দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের একাংশের ধারণা ছিল, আধুনিক মানুষ একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার পর আর উল্লেখযোগ্যভাবে বিবর্তিত হচ্ছে না। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই প্রচলিত ধারণাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

গবেষকদের দাবি, মানুষের শরীর ও জিনগত বৈশিষ্ট্যে এখনও পরিবর্তন ঘটছে এবং সেই বিবর্তন অব্যাহত রয়েছে।

বিখ্যাত ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ চার্লস ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্বের ভিত্তিতেই নতুন এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।

ডারউইনের মতে, প্রকৃতির সঙ্গে যারা সবচেয়ে ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তারাই টিকে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই উপযোগী বৈশিষ্ট্যগুলোই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে।

সম্প্রতি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ন্যাচারে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যায়ের একদল গবেষক। তাদের সঙ্গে ছিলেন ইরান ও অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানীরাও।

গবেষণায় মূলত পশ্চিম ইউরেশীয় জনগোষ্ঠীর জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গত ১০ হাজার বছরে ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী প্রায় ১৬ হাজার মানুষের ডিএনএ পরীক্ষা করেছেন গবেষকরা। সাত বছর ধরে চলা এই গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের শরীরে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ধীরে ধীরে স্থায়ী হয়ে উঠছে।

গবেষকদের মতে, লালচে চুল, পুরুষদের টাক পড়ার প্রবণতা কমে যাওয়া, ফর্সা ত্বক, মদ্যপানের প্রবণতা হ্রাস এবং সিলিয়াক রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির মতো বৈশিষ্ট্যগুলো প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে টিকে যাচ্ছে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্য সময়ের সঙ্গে মানুষের শরীরে বেশি করে ছড়িয়ে পড়ছে।

গবেষণায় আরও জানা গেছে, আগে ধারণা করা হতো মানুষের বিবর্তন ধীর হয়ে গেছে। কারণ, কিছু নির্দিষ্ট জিনগত রূপ মানবদেহে এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল যে অন্যান্য বৈশিষ্ট্য প্রকাশের সুযোগ কমে যায়। তবে নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ৪৭৯টি নতুন জিনগত রূপ করেছেন। যেগুলো এখনও মানুষের বিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

গবেষকদের দাবি, মানুষ যখন শিকার ও খাদ্য সংগ্রাহকের জীবন থেকে বেরিয়ে কৃষিকাজ শুরু করে এবং খাদ্য উৎপাদনকারী সমাজে রূপ নেয়, তখন থেকেই বিবর্তনের গতি আরও বাড়তে শুরু করেছে।

গবেষণার অন্যতম সদস্য ও জিনবিজ্ঞানী আলী আকবারী বলেন, মানুষের বিবর্তন কখনও থেমে যায়নি। এতদিন আমরা শুধু সেই পরিবর্তনের সঠিক সংকেত ধরতে পারিনি।

অন্যদিকে, কিংস কলেজ লন্ডন-এর নৃবিজ্ঞানী মাইকেল বার্থোম বলেন, অনেকেই মনে করেন বর্তমান মানুষই বিবর্তনের চূড়ান্ত রূপ। কিন্তু বাস্তবে মানুষ একটি জীবন্ত প্রজাতি হিসেবে সবসময় পরিবর্তিত হতে থাকবে।

তবে এই গবেষণা নিয়ে একমত নন সব বিজ্ঞানীরা। কেউ কেউ নতুন এই তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবুও তারা স্বীকার করছেন, মানব জিন ও বিবর্তন নিয়ে এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও রোগ নিরাময়ের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের বিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন প্রাণী প্রজাতির ওপর আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

/এসবি/

বিষয়:

মানুষটেক