ধনীদের লাগাম টানতে এবার আসছে ‘সম্পদ কর’

ধনীদের লাগাম টানতে এবার আসছে ‘সম্পদ কর’
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সম্পদ কর চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন নির্দেশনা দিয়েছেন।
সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে সম্পদ করের প্রস্তাব এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। এর মাধ্যমে উচ্চ আয়ের গোষ্ঠীকে আরও কঠোর নজরদারির মধ্যে আনতে হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীকে যতটা সম্ভব কম কষ্ট দেওয়া।
আগামী অর্থবছরের বাজেট হতে যাচ্ছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আসন্ন জাতীয় বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার সর্বোচ্চ ১ শতাংশ হারে সম্পদ কর পুনরায় চালুর কথা বিবেচনা করছে। বর্তমানে চালু থাকা সম্পদ সারচার্জ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে এই নতুন করব্যবস্থা চালু করলে অতিরিক্ত প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য অর্জন করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন বাজেটের আয়কর কাঠামো নিয়ে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবেই প্রস্তাবিত এই সম্পদ কর বিষয়টি উঠে এসেছে। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তাদের মধ্যে সোমবার (১১ মে) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, করদাতাদের ঘোষিত নিট সম্পদের ওপর বর্তমান সারচার্জ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে সরাসরি সম্পদের ওপর কর আরোপ করা হবে। তবে সম্পদের মূল্য নির্ধারণের জটিলতার কারণে প্রাথমিকভাবে করদাতার ট্যাক্স ফাইলে ঘোষিত নিট সম্পদের ভিত্তিতেই এই কর নির্ধারণ করা হতে পারে।
বাংলাদেশে প্রথম ১৯৬৩ সালে ‘ওয়েল্থ ট্যাক্স অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে এ কর ব্যবস্থা চালু হলেও মূল্যায়ন জটিলতা ও দ্বৈত করের আশঙ্কায় ১৯৯৯ সালে তা বাতিল করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সংস্থা ক্রমবর্ধমান বৈষম্য কমাতে আবারও সম্পদ কর চালুর সুপারিশ করেছে।
বর্তমানে একজন করদাতার নিট পরিসম্পদের মূল্যমান ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত সারচার্জ শূন্য। ৪ কোটি টাকা অতিক্রম করলে ১০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে সারচার্জের পরিমাণ ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া একাধিক গাড়ি থাকলে সিসিভেদে ২৫ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পরিবেশ সারচার্জ নেওয়া হয়।
তবে আগামী বাজেটে বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে ৪ কোটির বেশি, তবে ১০ কোটির কম সম্পদ থাকলে তাকে সম্পদমূল্যের ০ দশমিক ৫০ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ দিতে হবে। ১০ কোটির বেশি তবে ২০ কোটি কম হলে ১ শতাংশ, ২০ কোটির বেশি অথচ ৫০ কোটির কম হলে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটির বেশি হলে ২ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ নির্ধারণের পরিকল্পনা আছে সরকারের। তবে এই সম্পদ কর কোনোভাবেই করদাতার প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হবে না।
এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান সম্পদ সারচার্জ পদ্ধতিতে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় সম্ভব হচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্যক্তির ১০০ কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও যদি তার বার্ষিক আয়কর ২০ লাখ টাকা হয়, তাহলে বর্তমান ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সারচার্জ দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ টাকা। কিন্তু সরাসরি ১ শতাংশ সম্পদ কর চালু হলে একই সম্পদের ওপর কর দিতে হবে ১ কোটি টাকা।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১১ হাজারের কিছু বেশি করদাতা এই সারচার্জ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন। তবে তথ্য আদান-প্রদান এবং করদাতা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা গেলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ সম্পদ বণ্টনে উচ্চ বৈষম্যের দিকে এগোচ্ছে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। এমন পরিস্থিতিতে সম্পদের সুষম বণ্টন ও ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য কমাতে বাড়তি সম্পদের ওপর কর আরোপ করার উদ্যোগ যৌক্তিক।
বিদ্যমান সম্পদ সারচার্জ ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে নয়। অনেক দেশ আয়করের সঙ্গে যুক্ত সারচার্জের পরিবর্তে সরাসরি সম্পদ কর আরোপ করে। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সম্পদের মূল্যায়ন বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সম্পদ কর চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন নির্দেশনা দিয়েছেন।
সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে সম্পদ করের প্রস্তাব এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। এর মাধ্যমে উচ্চ আয়ের গোষ্ঠীকে আরও কঠোর নজরদারির মধ্যে আনতে হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীকে যতটা সম্ভব কম কষ্ট দেওয়া।
আগামী অর্থবছরের বাজেট হতে যাচ্ছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আসন্ন জাতীয় বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার সর্বোচ্চ ১ শতাংশ হারে সম্পদ কর পুনরায় চালুর কথা বিবেচনা করছে। বর্তমানে চালু থাকা সম্পদ সারচার্জ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে এই নতুন করব্যবস্থা চালু করলে অতিরিক্ত প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য অর্জন করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন বাজেটের আয়কর কাঠামো নিয়ে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবেই প্রস্তাবিত এই সম্পদ কর বিষয়টি উঠে এসেছে। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তাদের মধ্যে সোমবার (১১ মে) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, করদাতাদের ঘোষিত নিট সম্পদের ওপর বর্তমান সারচার্জ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে সরাসরি সম্পদের ওপর কর আরোপ করা হবে। তবে সম্পদের মূল্য নির্ধারণের জটিলতার কারণে প্রাথমিকভাবে করদাতার ট্যাক্স ফাইলে ঘোষিত নিট সম্পদের ভিত্তিতেই এই কর নির্ধারণ করা হতে পারে।
বাংলাদেশে প্রথম ১৯৬৩ সালে ‘ওয়েল্থ ট্যাক্স অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে এ কর ব্যবস্থা চালু হলেও মূল্যায়ন জটিলতা ও দ্বৈত করের আশঙ্কায় ১৯৯৯ সালে তা বাতিল করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সংস্থা ক্রমবর্ধমান বৈষম্য কমাতে আবারও সম্পদ কর চালুর সুপারিশ করেছে।
বর্তমানে একজন করদাতার নিট পরিসম্পদের মূল্যমান ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত সারচার্জ শূন্য। ৪ কোটি টাকা অতিক্রম করলে ১০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে সারচার্জের পরিমাণ ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া একাধিক গাড়ি থাকলে সিসিভেদে ২৫ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পরিবেশ সারচার্জ নেওয়া হয়।
তবে আগামী বাজেটে বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে ৪ কোটির বেশি, তবে ১০ কোটির কম সম্পদ থাকলে তাকে সম্পদমূল্যের ০ দশমিক ৫০ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ দিতে হবে। ১০ কোটির বেশি তবে ২০ কোটি কম হলে ১ শতাংশ, ২০ কোটির বেশি অথচ ৫০ কোটির কম হলে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটির বেশি হলে ২ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ নির্ধারণের পরিকল্পনা আছে সরকারের। তবে এই সম্পদ কর কোনোভাবেই করদাতার প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হবে না।
এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান সম্পদ সারচার্জ পদ্ধতিতে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় সম্ভব হচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্যক্তির ১০০ কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও যদি তার বার্ষিক আয়কর ২০ লাখ টাকা হয়, তাহলে বর্তমান ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সারচার্জ দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ টাকা। কিন্তু সরাসরি ১ শতাংশ সম্পদ কর চালু হলে একই সম্পদের ওপর কর দিতে হবে ১ কোটি টাকা।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১১ হাজারের কিছু বেশি করদাতা এই সারচার্জ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন। তবে তথ্য আদান-প্রদান এবং করদাতা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা গেলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ সম্পদ বণ্টনে উচ্চ বৈষম্যের দিকে এগোচ্ছে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। এমন পরিস্থিতিতে সম্পদের সুষম বণ্টন ও ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য কমাতে বাড়তি সম্পদের ওপর কর আরোপ করার উদ্যোগ যৌক্তিক।
বিদ্যমান সম্পদ সারচার্জ ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে নয়। অনেক দেশ আয়করের সঙ্গে যুক্ত সারচার্জের পরিবর্তে সরাসরি সম্পদ কর আরোপ করে। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সম্পদের মূল্যায়ন বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।

ধনীদের লাগাম টানতে এবার আসছে ‘সম্পদ কর’
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সম্পদ কর চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সচিবালয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন নির্দেশনা দিয়েছেন।
সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে সম্পদ করের প্রস্তাব এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন। এর মাধ্যমে উচ্চ আয়ের গোষ্ঠীকে আরও কঠোর নজরদারির মধ্যে আনতে হবে। সরকারের উদ্দেশ্য হচ্ছে নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীকে যতটা সম্ভব কম কষ্ট দেওয়া।
আগামী অর্থবছরের বাজেট হতে যাচ্ছে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের চেয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি। আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আসন্ন জাতীয় বাজেটে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার সর্বোচ্চ ১ শতাংশ হারে সম্পদ কর পুনরায় চালুর কথা বিবেচনা করছে। বর্তমানে চালু থাকা সম্পদ সারচার্জ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে এই নতুন করব্যবস্থা চালু করলে অতিরিক্ত প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য অর্জন করা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন বাজেটের আয়কর কাঠামো নিয়ে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবেই প্রস্তাবিত এই সম্পদ কর বিষয়টি উঠে এসেছে। এ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তাদের মধ্যে সোমবার (১১ মে) অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, করদাতাদের ঘোষিত নিট সম্পদের ওপর বর্তমান সারচার্জ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে সরাসরি সম্পদের ওপর কর আরোপ করা হবে। তবে সম্পদের মূল্য নির্ধারণের জটিলতার কারণে প্রাথমিকভাবে করদাতার ট্যাক্স ফাইলে ঘোষিত নিট সম্পদের ভিত্তিতেই এই কর নির্ধারণ করা হতে পারে।
বাংলাদেশে প্রথম ১৯৬৩ সালে ‘ওয়েল্থ ট্যাক্স অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে এ কর ব্যবস্থা চালু হলেও মূল্যায়ন জটিলতা ও দ্বৈত করের আশঙ্কায় ১৯৯৯ সালে তা বাতিল করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সংস্থা ক্রমবর্ধমান বৈষম্য কমাতে আবারও সম্পদ কর চালুর সুপারিশ করেছে।
বর্তমানে একজন করদাতার নিট পরিসম্পদের মূল্যমান ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত সারচার্জ শূন্য। ৪ কোটি টাকা অতিক্রম করলে ১০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে সারচার্জের পরিমাণ ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া একাধিক গাড়ি থাকলে সিসিভেদে ২৫ হাজার থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পরিবেশ সারচার্জ নেওয়া হয়।
তবে আগামী বাজেটে বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে ৪ কোটির বেশি, তবে ১০ কোটির কম সম্পদ থাকলে তাকে সম্পদমূল্যের ০ দশমিক ৫০ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ দিতে হবে। ১০ কোটির বেশি তবে ২০ কোটি কম হলে ১ শতাংশ, ২০ কোটির বেশি অথচ ৫০ কোটির কম হলে ১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটির বেশি হলে ২ শতাংশ ‘সম্পদ কর’ নির্ধারণের পরিকল্পনা আছে সরকারের। তবে এই সম্পদ কর কোনোভাবেই করদাতার প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হবে না।
এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান সম্পদ সারচার্জ পদ্ধতিতে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় সম্ভব হচ্ছে না। উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্যক্তির ১০০ কোটি টাকার সম্পদ থাকলেও যদি তার বার্ষিক আয়কর ২০ লাখ টাকা হয়, তাহলে বর্তমান ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ সারচার্জ দাঁড়ায় প্রায় ৭ লাখ টাকা। কিন্তু সরাসরি ১ শতাংশ সম্পদ কর চালু হলে একই সম্পদের ওপর কর দিতে হবে ১ কোটি টাকা।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১১ হাজারের কিছু বেশি করদাতা এই সারচার্জ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছেন। তবে তথ্য আদান-প্রদান এবং করদাতা শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা গেলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ সম্পদ বণ্টনে উচ্চ বৈষম্যের দিকে এগোচ্ছে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। এমন পরিস্থিতিতে সম্পদের সুষম বণ্টন ও ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য কমাতে বাড়তি সম্পদের ওপর কর আরোপ করার উদ্যোগ যৌক্তিক।
বিদ্যমান সম্পদ সারচার্জ ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে নয়। অনেক দেশ আয়করের সঙ্গে যুক্ত সারচার্জের পরিবর্তে সরাসরি সম্পদ কর আরোপ করে। তবে তিনি স্বীকার করেন, বিরোধ ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সম্পদের মূল্যায়ন বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে।

রাজস্ব বাড়াতে করের চাপ, কঠিন বাস্তবতায় নাগরিক জীবন


