শিরোনাম

টানা বৃষ্টিতে অস্থির সবজির বাজার, বিপাকে নগরবাসী

শেখ শাহরিয়ার হোসেন
টানা বৃষ্টিতে অস্থির সবজির বাজার, বিপাকে নগরবাসী
রায়সাহেব বাজারে সবজির পসরা সাজিয়ে ক্রেতার অপেক্ষায় দোকানি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে আবারও বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে সবজির বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতিতে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বাজারে ১০০ টাকার নিচে সবজি মিলছে খুব কম। একই সঙ্গে ডিম ও পেঁয়াজের দাম বাড়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর সূত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার ও গেন্ডারিয়া এলাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিক্রেতারা বলছেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সবজির দাম বেড়েছে। এছাড়া মৌসুমি উৎপাদন কম থাকায় দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে না।

বাজারে প্রতি কেজি শশা ৯০ থেকে ১১০ টাকা, বরবটি ৮৫ থেকে ১০০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮৫ টাকা এবং বেগুন ৮০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া কচুর লতি ও কচুমুখী ৮০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ঝিঙা, ধুন্দুল ও চিচিঙ্গার দামও বেড়েছে। এসব সবজি ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ও ঢেঁড়শের দামও কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।

সবজির পাশাপাশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দামও। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে প্রায় ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯৫ টাকা এবং লাউয়ের দামও আগের তুলনায় বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

মাছের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, পাঙাস ১৯০ থেকে ২১০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং কাতল ৩২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিংড়ি, কই, পাবদা ও শিং মাছের দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

তবে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকা এবং সোনালি ৩৪০ থেকে ৩৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পেঁয়াজের দামও আবার বাড়তে শুরু করেছে। ভালো মানের দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগেও ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। মহল্লার খুচরা দোকানে আরও বেশি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

পুরান ঢাকার সবচেয়ে বড় সবজির খুচরা বাজার রায়সাহেব বাজারের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, এই সময় বাজারে ঠিকমতো সবজি আসতেছে না, তাই দামেরও ঠিক নাই। গরমের সময় এমনিতেই সবজির উৎপাদন কম থাকে, তার ওপর বৃষ্টির জন্য অনেক জায়গা থেইকা ঠিকমতো সবজি তুলতে পারতেছে না কৃষকরা। আমরাও চাই বাজার একটু স্বাভাবিক থাকুক। দাম বেশি থাকলে মানুষ কম কিনে, এতে ক্রেতারও কষ্ট হয় আবার আমাদের বিক্রিও কমে যায়।

লক্ষ্মীবাজার এলাকার সবজি বিক্রেতা সোহেল মিয়া বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির কারণে ক্ষেত থেকে পর্যাপ্ত সবজি আসছে না। ফলে আড়তে দাম বাড়ছে, যার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়ছে।

সবজির উচ্চমূল্যের কারণে ডিমের চাহিদাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বর্তমানে বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪০ থেকে ১৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও ডিমের দাম তুলনামূলক কম ছিল।

লক্ষ্মীবাজারের ডিম ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, সবজির দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন ডিম বেশি কিনছেন। চাহিদা বাড়ায় পাইকারিতেও দাম বেড়েছে, ফলে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করতে রায়সাহেব বাজারে আসা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী শেখ শাহিনুর ইসলাম বলেন, এখন মনে হয় সবকিছুর দাম যেন নাগালের বাইরে। আগে এক হাজার টাকায় কয়েকদিনের বাজার হয়ে যেত, এখন একদিনেই শেষ হয়ে যায়। সবজির এমন দাম হলে সাধারণ মানুষ চলবে কীভাবে?

তিনি আরও বলেন, আগে এক কেজি করে সবজি কিনলেও এখন অল্প অল্প করে কিনতে হচ্ছে। বাজারে তদারকির অভাব থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

একই বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী আম্বিয়া বেগম বলেন, একসময় সংসারের বাজেটের মধ্যে থেকে সবকিছু সামাল দেওয়া গেলেও এখন সেটি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আগে ৫০০ বা ৬০০ টাকার বাজারে কয়েকদিন চলত, এখন একদিনের প্রয়োজন মেটাতেও কষ্ট হচ্ছে। মাছ-মাংস তো অনেক আগেই কেনা কমিয়ে দিয়েছি। এখন সবজির দামও এত বেশি যে কোনটা রেখে কোনটা কিনব বুঝে উঠতে পারি না। বাধ্য হয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনতে হচ্ছে।

/এমআর/