হামের বিস্তারে বিপর্যস্ত জাতি

হামের বিস্তারে বিপর্যস্ত জাতি
আয়নাল হোসেন

এ বছর হামের প্রার্দুভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাবা-মায়েরা সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। চিকিৎসক ও নার্সরা চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এক কথায় বলতে গেলে হামের কারণে বিপর্যস্ত পুরো জাতি।
হামে একের পর এক শিশু মারা যাওয়ায় অনেকেই ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। এসব স্ট্যাটাস পড়ে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। অনেকে হাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং টিকার ব্যবস্থা করতে না পারায় স্বাস্থ্য বিভাগের কঠোর সমালোচনা করছেন।
এক ব্যক্তি হামের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন. ‘একটা মা হয়তো এখনো সন্তানের জামাটা বুকে চেপে বসে আছে। একটা বাবা হয়তো হাসপাতালে শেষবারের মতো সন্তানের নাম ধরে ডেকেছিল। হাম শুধু রোগ না, এটা অসংখ্য পরিবারের আজীবনের কান্না।’
অপর এক ব্যক্তি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘টিকার গুরুত্ব যারা এখনো বোঝেন না, তারা শিশুদের কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। হয়তো তখন বুঝবেন একটি ছোট অবহেলার মূল্য কত ভয়ংকর হতে পারে।’
আরেকজন তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘একটা শিশুর মৃত্যু শুধু একটা পরিবারের ক্ষতি না, পুরো দেশের ব্যর্থতা। হাম-যে রোগ টিকা দিলে প্রতিরোধ করা যায়-সেই রোগে একের পর এক শিশু মারা যাচ্ছে। এই খবরগুলো পড়ার পর নিজের সন্তানকে জড়িয়ে ধরতেও ভয় লাগে।’
ফেসবুক খুললেই হামে ও উপসর্গে শিশুর মৃত্যু নিয়ে এরকম অনেক স্ট্যাটাস দেখা যায়। এসব স্ট্যাটাস দেখে অনেক অভিভাবক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। তার সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে আতঙ্কে থাকেন।
হামে মৃত্যু ও সংক্রমণের হার কেন বেশি
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এবার শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হামের প্রার্দুভাব বেড়ে যাওয়া পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের টিকা নেওয়ার হার কম হওয়া, অপুষ্টি, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না পাওয়া এবং রোগের ধরন পরিবর্তন হওয়া। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে যথাযথ চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকাও হামে মৃত্যুর একটি বড় কারণ।
সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর ইনফেকসাস ডিজিজেস নামের একটি চিকিৎসা সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হামের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০২০ সালে হামের টিকা দেওয়া হয়েছিল ৯০ শতাংশ শিশুর। আর ২০২৫ সালে মাত্র ৫৭ শতাংশ শিশুকে এই টিকা দেওয়া হয়। এছাড়া পুষ্টির অভাবে অনেক শিশু আক্রান্তের পর আরও নানা জটিলতায় ভুগছে। এক সময়ে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে গত বুধবার এক শিশু মারা যায়। হামের উপসর্গ নিয়ে রাফসান আয়ার নামের দেড় বছরের ওই শিশুটিকে তার মা-বাবা গত মাসে ভর্তি করে। এখানে পিআইসিইউ না থাকায় সে মারা যায়। রাফসান আয়ার গাজীপুরের শ্রীপুরের পারভেজ মোশাররফ ও রুপা আক্তার দম্পতির সন্তান।
গত বুধবার ঢাকা মেডিকেলে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় রাইসা নামের এক শিশু। তার মৃত্যুর ঘটনা আরও মর্মান্তিক। বুধবারই ফরিদপুর থেকে রাইসাকে তার বাবা-বাবা ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। রাইসার যমজ বোন রুমাইসাও হামে আক্রান্ত। তাকে একই হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাইসাকে বাঁচানো যায়নি। রাইসার বাবা কামরুজ্জামান জানালেন, সকালে তারা ফরিদপুর সদর হাসপাতাল থেকে অসুস্থ দুই মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। বেলা ১১ টায় রাইসা মারা যায়। ফরিদপুরে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় তারা দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় আসেন।
দেশে হামে রাফসান ও রাইসার মতো প্রতিদিন অনেক শিশু মারা যাচ্ছে। তবে ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে থেকে আসা শিশুদের এই রোগে মারা যাওয়ার হার অনেক বেশি।
ঢাকায় রোগী আসার পেছনে অন্যতম কারণ দেশে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার উপযোগী নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (পিআইসিইউ) তীব্র সংকট। এ বিষয়ে বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে–নজীর আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ঢাকার বাইরে থেকে যেসব রোগী আসছে তারা রেফার হয়ে আসছে। এজন্য দেরিতে চিকিৎসা পাওয়ায় মৃত্যুর ঘটনা বেশি।
সারা দেশে এনআইসিইউ না থাকার বিষয়ে বে–নজীর আহমেদ বলেন, আইসিইউতে পরিচালনায় প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স প্রয়োজন। কিন্তু দেশের জেলাগুলোতে আইসিইউ পরিচালনার মধ্যে দক্ষ জনবল এই মুহূর্তে নেই। রাতারাতি এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে এজন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হগ্রহন করার আহবান জানান তিনি।
হামের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত
স্বাস্থ্যবিভাগে প্রায় ৪৫ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রতি চার বছর অন্তর দেশব্যাপী একটি টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু গত বছর সেটি করা হয়নি। এ কারণে অনেক শিশুই টিকা পায়নি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন ব্যাহত হয়। ২০২৪ সালে ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টিকা কেনা নিয়ে শুরু হয় কমিশন বাণিজ্য। এসব টিকা ইউনিসেফ থেকে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু টিকা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তবর্তীকারীন সরকার। শেষ পর্যন্ত টিকা আর কেনা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে মাঠ কর্মীরা সময়মতো বেতন না এবং তাদের চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় সব কাজ বন্ধ করে দয়। ফলে দেশব্যাপী টিকার সংকট তৈরি হয়।
জেলায় চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকামুখী মানুষ
হাম সন্দেহে চার মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালে আসেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার গাড়িচালক সুমন মিয়া ও স্ত্রী লাকি বেগম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হয় তাদের সঙ্গে। তারা বলেন, বাচ্চার প্রচণ্ড জ্বর ছিল। এরপর শরীরে ফুসকুড়ি ওঠায় চিকিৎসকের কাছে যান। ওষুধ দেওয়ার পরও জ্বর না কমায় তারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে তারা ঢাকায় ছুটে আসেন।

এ হাসপাতালে কথা হয় ভোলা থেকে আসা ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু রোগীর স্বজনদের সঙ্গে। তারা বলেন, শিশুটির জ্বর শুরু হওয়ার পর পাশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু জ্বর না কমায় জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পরও জ্বর কমছিল না, বরং সঙ্গে বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তারা ঢাকায় আনার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
মহাখালী সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এফ এ আসমা খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, এই হাসপাতালের বেশির ভাগ রোগী আসছে ঢাকার বাইরে থেকে। ঢাকায় আসার পথেই অনেক শিশুর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। আক্রান্তদের বয়স ছয় মাসের কম। হামে মারা যাওয়া বেশির ভাগ শিশুই ঢাকার বাইরের।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বৃহস্পতিবার চব্বিশ ঘন্টায় ১০ জন রোগী আসে। তাদের মধ্যে সাতজনকে ভর্তি নেওয়া হয়। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে ৫২ জন রোগী ছিল। ১৫ মার্চ থেকে এ হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গে ৪৭ শিশু মারা গেছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে হামে আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬১টি জেলাতেই হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ঢাকা বিভাগে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগেও সংক্রমণ তীব্র।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত, জেলা সদর এবং জেনারেল হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৩৭২টি সাধারণ আইসিইউ শয্যা রয়েছে। তবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউ এবং পিআইসিইউ শয্যার কোনো আলাদা পূর্ণাঙ্গ বা কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান নেই। দেশের কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই শিশুদের জন্য এনআইসিইউ বা পিআইসিইউ শয্যা নেই। এ কারণে ঢাকার বাইরে হামে আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক সময় শেষ মুহূর্তে ঢাকায় নিয়ে আসার পর হামে আক্রান্ত হওয়া শিশুরা বেশি মারা যাচ্ছে।

এ বছর হামের প্রার্দুভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাবা-মায়েরা সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। চিকিৎসক ও নার্সরা চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এক কথায় বলতে গেলে হামের কারণে বিপর্যস্ত পুরো জাতি।
হামে একের পর এক শিশু মারা যাওয়ায় অনেকেই ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। এসব স্ট্যাটাস পড়ে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। অনেকে হাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং টিকার ব্যবস্থা করতে না পারায় স্বাস্থ্য বিভাগের কঠোর সমালোচনা করছেন।
এক ব্যক্তি হামের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন. ‘একটা মা হয়তো এখনো সন্তানের জামাটা বুকে চেপে বসে আছে। একটা বাবা হয়তো হাসপাতালে শেষবারের মতো সন্তানের নাম ধরে ডেকেছিল। হাম শুধু রোগ না, এটা অসংখ্য পরিবারের আজীবনের কান্না।’
অপর এক ব্যক্তি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘টিকার গুরুত্ব যারা এখনো বোঝেন না, তারা শিশুদের কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। হয়তো তখন বুঝবেন একটি ছোট অবহেলার মূল্য কত ভয়ংকর হতে পারে।’
আরেকজন তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘একটা শিশুর মৃত্যু শুধু একটা পরিবারের ক্ষতি না, পুরো দেশের ব্যর্থতা। হাম-যে রোগ টিকা দিলে প্রতিরোধ করা যায়-সেই রোগে একের পর এক শিশু মারা যাচ্ছে। এই খবরগুলো পড়ার পর নিজের সন্তানকে জড়িয়ে ধরতেও ভয় লাগে।’
ফেসবুক খুললেই হামে ও উপসর্গে শিশুর মৃত্যু নিয়ে এরকম অনেক স্ট্যাটাস দেখা যায়। এসব স্ট্যাটাস দেখে অনেক অভিভাবক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। তার সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে আতঙ্কে থাকেন।
হামে মৃত্যু ও সংক্রমণের হার কেন বেশি
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এবার শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হামের প্রার্দুভাব বেড়ে যাওয়া পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের টিকা নেওয়ার হার কম হওয়া, অপুষ্টি, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না পাওয়া এবং রোগের ধরন পরিবর্তন হওয়া। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে যথাযথ চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকাও হামে মৃত্যুর একটি বড় কারণ।
সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর ইনফেকসাস ডিজিজেস নামের একটি চিকিৎসা সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হামের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০২০ সালে হামের টিকা দেওয়া হয়েছিল ৯০ শতাংশ শিশুর। আর ২০২৫ সালে মাত্র ৫৭ শতাংশ শিশুকে এই টিকা দেওয়া হয়। এছাড়া পুষ্টির অভাবে অনেক শিশু আক্রান্তের পর আরও নানা জটিলতায় ভুগছে। এক সময়ে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে গত বুধবার এক শিশু মারা যায়। হামের উপসর্গ নিয়ে রাফসান আয়ার নামের দেড় বছরের ওই শিশুটিকে তার মা-বাবা গত মাসে ভর্তি করে। এখানে পিআইসিইউ না থাকায় সে মারা যায়। রাফসান আয়ার গাজীপুরের শ্রীপুরের পারভেজ মোশাররফ ও রুপা আক্তার দম্পতির সন্তান।
গত বুধবার ঢাকা মেডিকেলে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় রাইসা নামের এক শিশু। তার মৃত্যুর ঘটনা আরও মর্মান্তিক। বুধবারই ফরিদপুর থেকে রাইসাকে তার বাবা-বাবা ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। রাইসার যমজ বোন রুমাইসাও হামে আক্রান্ত। তাকে একই হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাইসাকে বাঁচানো যায়নি। রাইসার বাবা কামরুজ্জামান জানালেন, সকালে তারা ফরিদপুর সদর হাসপাতাল থেকে অসুস্থ দুই মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। বেলা ১১ টায় রাইসা মারা যায়। ফরিদপুরে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় তারা দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় আসেন।
দেশে হামে রাফসান ও রাইসার মতো প্রতিদিন অনেক শিশু মারা যাচ্ছে। তবে ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে থেকে আসা শিশুদের এই রোগে মারা যাওয়ার হার অনেক বেশি।
ঢাকায় রোগী আসার পেছনে অন্যতম কারণ দেশে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার উপযোগী নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (পিআইসিইউ) তীব্র সংকট। এ বিষয়ে বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে–নজীর আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ঢাকার বাইরে থেকে যেসব রোগী আসছে তারা রেফার হয়ে আসছে। এজন্য দেরিতে চিকিৎসা পাওয়ায় মৃত্যুর ঘটনা বেশি।
সারা দেশে এনআইসিইউ না থাকার বিষয়ে বে–নজীর আহমেদ বলেন, আইসিইউতে পরিচালনায় প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স প্রয়োজন। কিন্তু দেশের জেলাগুলোতে আইসিইউ পরিচালনার মধ্যে দক্ষ জনবল এই মুহূর্তে নেই। রাতারাতি এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে এজন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হগ্রহন করার আহবান জানান তিনি।
হামের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত
স্বাস্থ্যবিভাগে প্রায় ৪৫ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রতি চার বছর অন্তর দেশব্যাপী একটি টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু গত বছর সেটি করা হয়নি। এ কারণে অনেক শিশুই টিকা পায়নি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন ব্যাহত হয়। ২০২৪ সালে ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টিকা কেনা নিয়ে শুরু হয় কমিশন বাণিজ্য। এসব টিকা ইউনিসেফ থেকে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু টিকা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তবর্তীকারীন সরকার। শেষ পর্যন্ত টিকা আর কেনা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে মাঠ কর্মীরা সময়মতো বেতন না এবং তাদের চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় সব কাজ বন্ধ করে দয়। ফলে দেশব্যাপী টিকার সংকট তৈরি হয়।
জেলায় চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকামুখী মানুষ
হাম সন্দেহে চার মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালে আসেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার গাড়িচালক সুমন মিয়া ও স্ত্রী লাকি বেগম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হয় তাদের সঙ্গে। তারা বলেন, বাচ্চার প্রচণ্ড জ্বর ছিল। এরপর শরীরে ফুসকুড়ি ওঠায় চিকিৎসকের কাছে যান। ওষুধ দেওয়ার পরও জ্বর না কমায় তারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে তারা ঢাকায় ছুটে আসেন।

এ হাসপাতালে কথা হয় ভোলা থেকে আসা ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু রোগীর স্বজনদের সঙ্গে। তারা বলেন, শিশুটির জ্বর শুরু হওয়ার পর পাশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু জ্বর না কমায় জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পরও জ্বর কমছিল না, বরং সঙ্গে বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তারা ঢাকায় আনার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
মহাখালী সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এফ এ আসমা খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, এই হাসপাতালের বেশির ভাগ রোগী আসছে ঢাকার বাইরে থেকে। ঢাকায় আসার পথেই অনেক শিশুর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। আক্রান্তদের বয়স ছয় মাসের কম। হামে মারা যাওয়া বেশির ভাগ শিশুই ঢাকার বাইরের।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বৃহস্পতিবার চব্বিশ ঘন্টায় ১০ জন রোগী আসে। তাদের মধ্যে সাতজনকে ভর্তি নেওয়া হয়। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে ৫২ জন রোগী ছিল। ১৫ মার্চ থেকে এ হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গে ৪৭ শিশু মারা গেছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে হামে আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬১টি জেলাতেই হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ঢাকা বিভাগে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগেও সংক্রমণ তীব্র।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত, জেলা সদর এবং জেনারেল হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৩৭২টি সাধারণ আইসিইউ শয্যা রয়েছে। তবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউ এবং পিআইসিইউ শয্যার কোনো আলাদা পূর্ণাঙ্গ বা কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান নেই। দেশের কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই শিশুদের জন্য এনআইসিইউ বা পিআইসিইউ শয্যা নেই। এ কারণে ঢাকার বাইরে হামে আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক সময় শেষ মুহূর্তে ঢাকায় নিয়ে আসার পর হামে আক্রান্ত হওয়া শিশুরা বেশি মারা যাচ্ছে।

হামের বিস্তারে বিপর্যস্ত জাতি
আয়নাল হোসেন

এ বছর হামের প্রার্দুভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বাবা-মায়েরা সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। চিকিৎসক ও নার্সরা চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এক কথায় বলতে গেলে হামের কারণে বিপর্যস্ত পুরো জাতি।
হামে একের পর এক শিশু মারা যাওয়ায় অনেকেই ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। এসব স্ট্যাটাস পড়ে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। অনেকে হাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় এবং টিকার ব্যবস্থা করতে না পারায় স্বাস্থ্য বিভাগের কঠোর সমালোচনা করছেন।
এক ব্যক্তি হামের ভয়াবহ পরিস্থিতি তুলে ধরে ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন. ‘একটা মা হয়তো এখনো সন্তানের জামাটা বুকে চেপে বসে আছে। একটা বাবা হয়তো হাসপাতালে শেষবারের মতো সন্তানের নাম ধরে ডেকেছিল। হাম শুধু রোগ না, এটা অসংখ্য পরিবারের আজীবনের কান্না।’
অপর এক ব্যক্তি ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘টিকার গুরুত্ব যারা এখনো বোঝেন না, তারা শিশুদের কবরের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। হয়তো তখন বুঝবেন একটি ছোট অবহেলার মূল্য কত ভয়ংকর হতে পারে।’
আরেকজন তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘একটা শিশুর মৃত্যু শুধু একটা পরিবারের ক্ষতি না, পুরো দেশের ব্যর্থতা। হাম-যে রোগ টিকা দিলে প্রতিরোধ করা যায়-সেই রোগে একের পর এক শিশু মারা যাচ্ছে। এই খবরগুলো পড়ার পর নিজের সন্তানকে জড়িয়ে ধরতেও ভয় লাগে।’
ফেসবুক খুললেই হামে ও উপসর্গে শিশুর মৃত্যু নিয়ে এরকম অনেক স্ট্যাটাস দেখা যায়। এসব স্ট্যাটাস দেখে অনেক অভিভাবক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। তার সন্তানও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে বলে আতঙ্কে থাকেন।
হামে মৃত্যু ও সংক্রমণের হার কেন বেশি
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এবার শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হামের প্রার্দুভাব বেড়ে যাওয়া পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের টিকা নেওয়ার হার কম হওয়া, অপুষ্টি, সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না পাওয়া এবং রোগের ধরন পরিবর্তন হওয়া। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে যথাযথ চিকিৎসাব্যবস্থা না থাকাও হামে মৃত্যুর একটি বড় কারণ।
সম্প্রতি প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর ইনফেকসাস ডিজিজেস নামের একটি চিকিৎসা সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের হামের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০২০ সালে হামের টিকা দেওয়া হয়েছিল ৯০ শতাংশ শিশুর। আর ২০২৫ সালে মাত্র ৫৭ শতাংশ শিশুকে এই টিকা দেওয়া হয়। এছাড়া পুষ্টির অভাবে অনেক শিশু আক্রান্তের পর আরও নানা জটিলতায় ভুগছে। এক সময়ে তারা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামে গত বুধবার এক শিশু মারা যায়। হামের উপসর্গ নিয়ে রাফসান আয়ার নামের দেড় বছরের ওই শিশুটিকে তার মা-বাবা গত মাসে ভর্তি করে। এখানে পিআইসিইউ না থাকায় সে মারা যায়। রাফসান আয়ার গাজীপুরের শ্রীপুরের পারভেজ মোশাররফ ও রুপা আক্তার দম্পতির সন্তান।
গত বুধবার ঢাকা মেডিকেলে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় রাইসা নামের এক শিশু। তার মৃত্যুর ঘটনা আরও মর্মান্তিক। বুধবারই ফরিদপুর থেকে রাইসাকে তার বাবা-বাবা ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। রাইসার যমজ বোন রুমাইসাও হামে আক্রান্ত। তাকে একই হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাইসাকে বাঁচানো যায়নি। রাইসার বাবা কামরুজ্জামান জানালেন, সকালে তারা ফরিদপুর সদর হাসপাতাল থেকে অসুস্থ দুই মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। বেলা ১১ টায় রাইসা মারা যায়। ফরিদপুরে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় তারা দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় আসেন।
দেশে হামে রাফসান ও রাইসার মতো প্রতিদিন অনেক শিশু মারা যাচ্ছে। তবে ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে থেকে আসা শিশুদের এই রোগে মারা যাওয়ার হার অনেক বেশি।
ঢাকায় রোগী আসার পেছনে অন্যতম কারণ দেশে জেলা বা বিভাগীয় পর্যায়ে শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার উপযোগী নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (পিআইসিইউ) তীব্র সংকট। এ বিষয়ে বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বে–নজীর আহমেদ সিটিজেন জার্নালকে বলেন, ঢাকার বাইরে থেকে যেসব রোগী আসছে তারা রেফার হয়ে আসছে। এজন্য দেরিতে চিকিৎসা পাওয়ায় মৃত্যুর ঘটনা বেশি।
সারা দেশে এনআইসিইউ না থাকার বিষয়ে বে–নজীর আহমেদ বলেন, আইসিইউতে পরিচালনায় প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স প্রয়োজন। কিন্তু দেশের জেলাগুলোতে আইসিইউ পরিচালনার মধ্যে দক্ষ জনবল এই মুহূর্তে নেই। রাতারাতি এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তবে এজন্য দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হগ্রহন করার আহবান জানান তিনি।
হামের টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত
স্বাস্থ্যবিভাগে প্রায় ৪৫ শতাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রতি চার বছর অন্তর দেশব্যাপী একটি টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু গত বছর সেটি করা হয়নি। এ কারণে অনেক শিশুই টিকা পায়নি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন ব্যাহত হয়। ২০২৪ সালে ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টিকা কেনা নিয়ে শুরু হয় কমিশন বাণিজ্য। এসব টিকা ইউনিসেফ থেকে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু টিকা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে কেনার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তবর্তীকারীন সরকার। শেষ পর্যন্ত টিকা আর কেনা সম্ভব হয়নি। অপরদিকে মাঠ কর্মীরা সময়মতো বেতন না এবং তাদের চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় সব কাজ বন্ধ করে দয়। ফলে দেশব্যাপী টিকার সংকট তৈরি হয়।
জেলায় চিকিৎসা না পেয়ে ঢাকামুখী মানুষ
হাম সন্দেহে চার মাস বয়সী শিশুকে নিয়ে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালে আসেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার গাড়িচালক সুমন মিয়া ও স্ত্রী লাকি বেগম। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কথা হয় তাদের সঙ্গে। তারা বলেন, বাচ্চার প্রচণ্ড জ্বর ছিল। এরপর শরীরে ফুসকুড়ি ওঠায় চিকিৎসকের কাছে যান। ওষুধ দেওয়ার পরও জ্বর না কমায় তারা চিন্তিত হয়ে পড়েন। পরে তারা ঢাকায় ছুটে আসেন।

এ হাসপাতালে কথা হয় ভোলা থেকে আসা ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশু রোগীর স্বজনদের সঙ্গে। তারা বলেন, শিশুটির জ্বর শুরু হওয়ার পর পাশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু জ্বর না কমায় জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পরও জ্বর কমছিল না, বরং সঙ্গে বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তারা ঢাকায় আনার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
মহাখালী সংক্রমক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এফ এ আসমা খান সিটিজেন জার্নালকে বলেন, এই হাসপাতালের বেশির ভাগ রোগী আসছে ঢাকার বাইরে থেকে। ঢাকায় আসার পথেই অনেক শিশুর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। আক্রান্তদের বয়স ছয় মাসের কম। হামে মারা যাওয়া বেশির ভাগ শিশুই ঢাকার বাইরের।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বৃহস্পতিবার চব্বিশ ঘন্টায় ১০ জন রোগী আসে। তাদের মধ্যে সাতজনকে ভর্তি নেওয়া হয়। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে ৫২ জন রোগী ছিল। ১৫ মার্চ থেকে এ হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গে ৪৭ শিশু মারা গেছে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে হামে আক্রান্তদের মধ্যে ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৬১টি জেলাতেই হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ঢাকা বিভাগে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগেও সংক্রমণ তীব্র।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত, জেলা সদর এবং জেনারেল হাসপাতাল মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৩৭২টি সাধারণ আইসিইউ শয্যা রয়েছে। তবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউ এবং পিআইসিইউ শয্যার কোনো আলাদা পূর্ণাঙ্গ বা কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান নেই। দেশের কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই শিশুদের জন্য এনআইসিইউ বা পিআইসিইউ শয্যা নেই। এ কারণে ঢাকার বাইরে হামে আক্রান্ত রোগীদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। অনেক সময় শেষ মুহূর্তে ঢাকায় নিয়ে আসার পর হামে আক্রান্ত হওয়া শিশুরা বেশি মারা যাচ্ছে।




