
সিটিজেন ডেস্ক


মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত পাঁচটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার জন্য ইরানকে দায়ী করা হচ্ছে। এসব হামলার ফলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শনিবারই (২৮ মার্চ) তারা সবচেয়ে তীব্র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে। আবুধাবিতে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম (ইজিএ) জানায়, তাদের প্রধান উৎপাদন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা হয়েছে। এতে স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
একই সময়ে বাহরাইনেও আঘাত হানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। দেশটির অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন (আলবা) কারখানায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যা বৈশ্বিক অ্যালুমিনিয়াম বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎপাদন কেন্দ্র।
কুয়েতেও বড় ধরনের হামলার খবর মিলেছে। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, ওমানের দক্ষিণাঞ্চলের সালালাহ বন্দরে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। এতে একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১০টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই দাবি করা হয়।
সাম্প্রতিক এসব হামলার ধারাবাহিকতায় উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় আঞ্চলিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: বিবিসি