‘ইরান যুদ্ধকে হাতিয়ার বানিয়েছেন নেতানিয়াহু’
সিটিজেন ডেস্ক

‘ইরান যুদ্ধকে হাতিয়ার বানিয়েছেন নেতানিয়াহু’
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১৯: ৩০

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি। ছবি: আল জাজিরা
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বর্তমান সংঘাত কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি নীল নকশার অংশ বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি।
আল-জাজিরার ‘আল-মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। থানি বলেন, এ যুদ্ধের মাধ্যমে শুরু হওয়া ভূরাজনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে দৃশ্যমান হবে। তার মতে, বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতা। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বৃহত্তর ইসরায়েল গড়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে সতর্ক করেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ দাবি করেন, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো কয়েক দশক ধরেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে নেতানিয়াহু নব্বইয়ের দশকে বিল ক্লিনটন প্রশাসনের সময় থেকেই তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি বলেন, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো সরাসরি সংঘাত এড়াতে চাইলেও নেতানিয়াহু এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি বিভ্রম দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে এ বিশ্বাস জোগাতে পেরেছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেহরান সরকারের পতন ঘটবে। আমেরিকার সামরিক শক্তিনির্ভর নীতির সমালোচনা করে শেখ হামাদ বলেন, ওয়াশিংটনের প্রকৃত শক্তি সামরিক বলপ্রয়োগের মধ্যে নয়, বরং তা এড়ানোর সক্ষমতার মাঝে নিহিত ছিল। তবে যুদ্ধের ভয়াবহতা শেষ পর্যন্ত সব পক্ষকেই আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করেছে। তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় যে আলোচনা চলছিল, তাকে আর মাত্র দুই সপ্তাহ সময় দিলে হয়তো এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো।
ইরানের বর্তমান কৌশল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠার পর তেহরান বুঝতে পেরেছে হরমুজ প্রণালিকে মোক্ষম কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এর ফলে ইরান এখন এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে তাদের নিজস্ব সার্বভৌম অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হামাদ অভিযোগ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধের বিপক্ষে থাকা সত্ত্বেও ইরান তাদের জ্বালানি ও শিল্প স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে এ অঞ্চলে ইরানের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভৌগোলিক বাস্তবতা মেনে নিয়ে তিনি ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি খোলামেলা ও সম্মিলিত সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান বা ইসরায়েলের চেয়েও বড় হুমকি হলো এ অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ অনৈক্য। এ সংকট কাটাতে তিনি গালফ ন্যাটো ধরনের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক জোট গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি মনে করেন, সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে সমমনা দেশগুলো নিয়ে এ জোটের যাত্রা শুরু হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন এশিয়া ও চীনের দিকে সরে যাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে এবং সেক্ষেত্রে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে।
গাজা ইস্যু ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে শেখ হামাদ ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা হিসেবে ইসরায়েল অর্থের প্রলোভন পর্যন্ত দেখাচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ছাড়া হামাসকে নিরস্ত্র করার কোনো আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না। এই প্রসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের শর্তে অনড় থাকা সৌদি আরবের বর্তমান অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বাশার আল-আসাদের পতনে স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং জানান যে গৃহযুদ্ধের শুরুতেই তিনি আসাদকে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি ১৯৯০-এর দশকের একটি অজানা কূটনৈতিক তথ্য প্রকাশ করে জানান, ক্লিনটন প্রশাসনের একটি গোপন বার্তা নিয়ে তিনি তেহরান গিয়েছিলেন, যেখানে ইরানের প্রাথমিক পারমাণবিক কর্মসূচি রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার বা আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বর্তমান সংঘাত কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি নীল নকশার অংশ বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি।
আল-জাজিরার ‘আল-মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। থানি বলেন, এ যুদ্ধের মাধ্যমে শুরু হওয়া ভূরাজনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে দৃশ্যমান হবে। তার মতে, বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতা। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বৃহত্তর ইসরায়েল গড়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে সতর্ক করেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ দাবি করেন, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো কয়েক দশক ধরেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে নেতানিয়াহু নব্বইয়ের দশকে বিল ক্লিনটন প্রশাসনের সময় থেকেই তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি বলেন, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো সরাসরি সংঘাত এড়াতে চাইলেও নেতানিয়াহু এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি বিভ্রম দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে এ বিশ্বাস জোগাতে পেরেছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেহরান সরকারের পতন ঘটবে। আমেরিকার সামরিক শক্তিনির্ভর নীতির সমালোচনা করে শেখ হামাদ বলেন, ওয়াশিংটনের প্রকৃত শক্তি সামরিক বলপ্রয়োগের মধ্যে নয়, বরং তা এড়ানোর সক্ষমতার মাঝে নিহিত ছিল। তবে যুদ্ধের ভয়াবহতা শেষ পর্যন্ত সব পক্ষকেই আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করেছে। তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় যে আলোচনা চলছিল, তাকে আর মাত্র দুই সপ্তাহ সময় দিলে হয়তো এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো।
ইরানের বর্তমান কৌশল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠার পর তেহরান বুঝতে পেরেছে হরমুজ প্রণালিকে মোক্ষম কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এর ফলে ইরান এখন এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে তাদের নিজস্ব সার্বভৌম অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হামাদ অভিযোগ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধের বিপক্ষে থাকা সত্ত্বেও ইরান তাদের জ্বালানি ও শিল্প স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে এ অঞ্চলে ইরানের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভৌগোলিক বাস্তবতা মেনে নিয়ে তিনি ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি খোলামেলা ও সম্মিলিত সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান বা ইসরায়েলের চেয়েও বড় হুমকি হলো এ অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ অনৈক্য। এ সংকট কাটাতে তিনি গালফ ন্যাটো ধরনের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক জোট গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি মনে করেন, সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে সমমনা দেশগুলো নিয়ে এ জোটের যাত্রা শুরু হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন এশিয়া ও চীনের দিকে সরে যাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে এবং সেক্ষেত্রে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে।
গাজা ইস্যু ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে শেখ হামাদ ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা হিসেবে ইসরায়েল অর্থের প্রলোভন পর্যন্ত দেখাচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ছাড়া হামাসকে নিরস্ত্র করার কোনো আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না। এই প্রসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের শর্তে অনড় থাকা সৌদি আরবের বর্তমান অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বাশার আল-আসাদের পতনে স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং জানান যে গৃহযুদ্ধের শুরুতেই তিনি আসাদকে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি ১৯৯০-এর দশকের একটি অজানা কূটনৈতিক তথ্য প্রকাশ করে জানান, ক্লিনটন প্রশাসনের একটি গোপন বার্তা নিয়ে তিনি তেহরান গিয়েছিলেন, যেখানে ইরানের প্রাথমিক পারমাণবিক কর্মসূচি রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার বা আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র: আল জাজিরা

‘ইরান যুদ্ধকে হাতিয়ার বানিয়েছেন নেতানিয়াহু’
সিটিজেন ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১৯: ৩০

কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি। ছবি: আল জাজিরা
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বর্তমান সংঘাত কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি ইসরায়েলি নীল নকশার অংশ বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি।
আল-জাজিরার ‘আল-মুকাবালা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। থানি বলেন, এ যুদ্ধের মাধ্যমে শুরু হওয়া ভূরাজনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে দৃশ্যমান হবে। তার মতে, বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতা। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বৃহত্তর ইসরায়েল গড়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে সতর্ক করেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হামাদ দাবি করেন, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো কয়েক দশক ধরেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে নেতানিয়াহু নব্বইয়ের দশকে বিল ক্লিনটন প্রশাসনের সময় থেকেই তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধ বাধানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি বলেন, আগের মার্কিন প্রশাসনগুলো সরাসরি সংঘাত এড়াতে চাইলেও নেতানিয়াহু এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি বিভ্রম দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। নেতানিয়াহু ওয়াশিংটনকে এ বিশ্বাস জোগাতে পেরেছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তেহরান সরকারের পতন ঘটবে। আমেরিকার সামরিক শক্তিনির্ভর নীতির সমালোচনা করে শেখ হামাদ বলেন, ওয়াশিংটনের প্রকৃত শক্তি সামরিক বলপ্রয়োগের মধ্যে নয়, বরং তা এড়ানোর সক্ষমতার মাঝে নিহিত ছিল। তবে যুদ্ধের ভয়াবহতা শেষ পর্যন্ত সব পক্ষকেই আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করেছে। তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় যে আলোচনা চলছিল, তাকে আর মাত্র দুই সপ্তাহ সময় দিলে হয়তো এই বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো।
ইরানের বর্তমান কৌশল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ওঠার পর তেহরান বুঝতে পেরেছে হরমুজ প্রণালিকে মোক্ষম কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। এর ফলে ইরান এখন এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে তাদের নিজস্ব সার্বভৌম অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেখ হামাদ অভিযোগ করেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধের বিপক্ষে থাকা সত্ত্বেও ইরান তাদের জ্বালানি ও শিল্প স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার ফলে এ অঞ্চলে ইরানের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ভৌগোলিক বাস্তবতা মেনে নিয়ে তিনি ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি খোলামেলা ও সম্মিলিত সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরান বা ইসরায়েলের চেয়েও বড় হুমকি হলো এ অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ অনৈক্য। এ সংকট কাটাতে তিনি গালফ ন্যাটো ধরনের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক জোট গঠনের প্রস্তাব দেন। তিনি মনে করেন, সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে সমমনা দেশগুলো নিয়ে এ জোটের যাত্রা শুরু হওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন এশিয়া ও চীনের দিকে সরে যাওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে এবং সেক্ষেত্রে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে।
গাজা ইস্যু ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে শেখ হামাদ ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে বিতাড়িত করার পরিকল্পনা হিসেবে ইসরায়েল অর্থের প্রলোভন পর্যন্ত দেখাচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ছাড়া হামাসকে নিরস্ত্র করার কোনো আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না। এই প্রসঙ্গে তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের শর্তে অনড় থাকা সৌদি আরবের বর্তমান অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বাশার আল-আসাদের পতনে স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং জানান যে গৃহযুদ্ধের শুরুতেই তিনি আসাদকে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি ১৯৯০-এর দশকের একটি অজানা কূটনৈতিক তথ্য প্রকাশ করে জানান, ক্লিনটন প্রশাসনের একটি গোপন বার্তা নিয়ে তিনি তেহরান গিয়েছিলেন, যেখানে ইরানের প্রাথমিক পারমাণবিক কর্মসূচি রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার বা আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র: আল জাজিরা
/এমএকে/

বিশ্ব শান্তির সবচেয়ে বড় হুমকি যুক্তরাষ্ট্র: ইরান
শান্তি প্রস্তাব নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে ওয়াশিংটন-তেহরান


