সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ যুবদল নেতার
নিজস্ব প্রতিবেদক

সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ যুবদল নেতার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১৮: ৫৯

সাবেক মেজর জেনারেল সরোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকীকে আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাজির করা হয়েছে সাবেক তিন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে। ‘চিফ প্রসিকিউটর বনাম শেখ হাসিনা ও অন্যান্য’ শীর্ষক এই মামলায় আজ সোমবার (১১ মে) ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন গুম ও নির্যাতনের শিকার মনিরামপুর পৌরসভা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নাজিমউদ্দীন।
আদালতে হাজির করা তিন কর্মকর্তা হলেন- সাবেক মেজর জেনারেল সরোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী। আজ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার এবং বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষ্য প্রদানকালে নাজিমউদ্দীন জানান, ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার ও ভারতের বিপক্ষে লেখালেখি করার কারণে ২০১৬ সালের ২৫ মে তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একটি অন্ধকার রুমে তাকে গুম করে রাখা হয়েছিল। নাজিমউদ্দীন বলেন, ‘সেই রুমের দেয়ালে মানুষের নাম, ফোন নম্বর ও আর্তনাদ লেখা ছিল। দেয়ালে স্পষ্ট লেখা ছিল এটি ডিজিএফআই-এর হেডকোয়ার্টার জেআইসি সেল।’
তিনি আরও জানান, সেখানে তাকে কাগজ-কলম দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজের জীবনবৃত্তান্ত লিখতে বাধ্য করা হতো। সময়মতো লিখতে না পারলে চলত অমানুষিক নির্যাতন এবং তাকে ঘুমাতে দেওয়া হতো না।
নাজিমউদ্দীন বর্ণনা করেন, একদিন গভীর রাতে চোখ ও হাত বেঁধে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন গোয়েন্দারা তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিল, ‘বাইরে কি বস্তাবন্দি লাশ বা রেললাইনে মৃত মানুষ দেখেননি? আবার এমন করলে আপনার অবস্থাও তেমন হবে।’
এরপর তাকে র্যাব-৭ ও র্যাব-১০ এর হেফাজতে রাখা হয়। সেখানে লোহার শিকের দরজা দেওয়া বাথরুমে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ বন্দিদশা শেষে ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর ভোরে তাকে আকবর শাহ্ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পিস্তল ও গুলি সামনে রেখে ছবি তুলে তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে সাজিয়ে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয় এবং আকবর শাহ্ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
নাজিমউদ্দীন জানান, ১৮ মাস জেল খাটার পর ২০১৮ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্যাতনে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
আদালতের কাছে বিচার প্রার্থনা করে তিনি বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার চাই। ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এভাবে গুম ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার না হয়, এটাই আমার একমাত্র প্রত্যাশা।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাজির করা হয়েছে সাবেক তিন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে। ‘চিফ প্রসিকিউটর বনাম শেখ হাসিনা ও অন্যান্য’ শীর্ষক এই মামলায় আজ সোমবার (১১ মে) ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন গুম ও নির্যাতনের শিকার মনিরামপুর পৌরসভা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নাজিমউদ্দীন।
আদালতে হাজির করা তিন কর্মকর্তা হলেন- সাবেক মেজর জেনারেল সরোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী। আজ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার এবং বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষ্য প্রদানকালে নাজিমউদ্দীন জানান, ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার ও ভারতের বিপক্ষে লেখালেখি করার কারণে ২০১৬ সালের ২৫ মে তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একটি অন্ধকার রুমে তাকে গুম করে রাখা হয়েছিল। নাজিমউদ্দীন বলেন, ‘সেই রুমের দেয়ালে মানুষের নাম, ফোন নম্বর ও আর্তনাদ লেখা ছিল। দেয়ালে স্পষ্ট লেখা ছিল এটি ডিজিএফআই-এর হেডকোয়ার্টার জেআইসি সেল।’
তিনি আরও জানান, সেখানে তাকে কাগজ-কলম দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজের জীবনবৃত্তান্ত লিখতে বাধ্য করা হতো। সময়মতো লিখতে না পারলে চলত অমানুষিক নির্যাতন এবং তাকে ঘুমাতে দেওয়া হতো না।
নাজিমউদ্দীন বর্ণনা করেন, একদিন গভীর রাতে চোখ ও হাত বেঁধে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন গোয়েন্দারা তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিল, ‘বাইরে কি বস্তাবন্দি লাশ বা রেললাইনে মৃত মানুষ দেখেননি? আবার এমন করলে আপনার অবস্থাও তেমন হবে।’
এরপর তাকে র্যাব-৭ ও র্যাব-১০ এর হেফাজতে রাখা হয়। সেখানে লোহার শিকের দরজা দেওয়া বাথরুমে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ বন্দিদশা শেষে ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর ভোরে তাকে আকবর শাহ্ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পিস্তল ও গুলি সামনে রেখে ছবি তুলে তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে সাজিয়ে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয় এবং আকবর শাহ্ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
নাজিমউদ্দীন জানান, ১৮ মাস জেল খাটার পর ২০১৮ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্যাতনে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
আদালতের কাছে বিচার প্রার্থনা করে তিনি বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার চাই। ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এভাবে গুম ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার না হয়, এটাই আমার একমাত্র প্রত্যাশা।’

সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ যুবদল নেতার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১৮: ৫৯

সাবেক মেজর জেনারেল সরোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকীকে আদালতে হাজির করা হয়। ছবি: সিটিজেন জার্নাল
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাজির করা হয়েছে সাবেক তিন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাকে। ‘চিফ প্রসিকিউটর বনাম শেখ হাসিনা ও অন্যান্য’ শীর্ষক এই মামলায় আজ সোমবার (১১ মে) ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন গুম ও নির্যাতনের শিকার মনিরামপুর পৌরসভা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নাজিমউদ্দীন।
আদালতে হাজির করা তিন কর্মকর্তা হলেন- সাবেক মেজর জেনারেল সরোয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবর রহমান সিদ্দিকী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী। আজ বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার এবং বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষ্য প্রদানকালে নাজিমউদ্দীন জানান, ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকার ও ভারতের বিপক্ষে লেখালেখি করার কারণে ২০১৬ সালের ২৫ মে তাকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। একটি অন্ধকার রুমে তাকে গুম করে রাখা হয়েছিল। নাজিমউদ্দীন বলেন, ‘সেই রুমের দেয়ালে মানুষের নাম, ফোন নম্বর ও আর্তনাদ লেখা ছিল। দেয়ালে স্পষ্ট লেখা ছিল এটি ডিজিএফআই-এর হেডকোয়ার্টার জেআইসি সেল।’
তিনি আরও জানান, সেখানে তাকে কাগজ-কলম দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজের জীবনবৃত্তান্ত লিখতে বাধ্য করা হতো। সময়মতো লিখতে না পারলে চলত অমানুষিক নির্যাতন এবং তাকে ঘুমাতে দেওয়া হতো না।
নাজিমউদ্দীন বর্ণনা করেন, একদিন গভীর রাতে চোখ ও হাত বেঁধে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন গোয়েন্দারা তাকে হুমকি দিয়ে বলেছিল, ‘বাইরে কি বস্তাবন্দি লাশ বা রেললাইনে মৃত মানুষ দেখেননি? আবার এমন করলে আপনার অবস্থাও তেমন হবে।’
এরপর তাকে র্যাব-৭ ও র্যাব-১০ এর হেফাজতে রাখা হয়। সেখানে লোহার শিকের দরজা দেওয়া বাথরুমে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ বন্দিদশা শেষে ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর ভোরে তাকে আকবর শাহ্ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পিস্তল ও গুলি সামনে রেখে ছবি তুলে তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে সাজিয়ে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয় এবং আকবর শাহ্ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
নাজিমউদ্দীন জানান, ১৮ মাস জেল খাটার পর ২০১৮ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পেলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্যাতনে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
আদালতের কাছে বিচার প্রার্থনা করে তিনি বলেন, ‘আমি ন্যায়বিচার চাই। ভবিষ্যতে আর কেউ যেন এভাবে গুম ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার না হয়, এটাই আমার একমাত্র প্রত্যাশা।’
/এমআর/




