এক মণ ধানের দাম ৬০০, শ্রমিকের মজুরি ১৫০০ টাকা

এক মণ ধানের দাম ৬০০, শ্রমিকের মজুরি ১৫০০ টাকা
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা

'এক মণ ধান বিক্রির টাকার সঙ্গে আরও ৯০০ টাকা যোগ কইরা শ্রমিকের মজুরি দিতেছি। সব জিনিসের দাম বাড়ে, বাড়ে না শুধু কৃষকের ধানের দাম। আমরা বাঁচমু কীভাবে?' আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেছেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দর্গাহাটি গ্রামের বেরিবাঁধ এলাকার কৃষক আব্দুল হেলিম।
শুক্রবার নিজের জমির ২০ মণ ধান বিক্রি করেন তিনি। প্রতি মণ ধানের দাম পান ৬০০ টাকা। তিনি জানান, তার উৎপাদন খরচ হয়েছে ১ হাজার টাকার বেশি। তার ওপর আছে শ্রমিকের মজুরি। এমন অবস্থা জেলার হাওর অঞ্চলের সব কৃষকের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ৬৩ হাজার ৬৮১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১১ লাখ ৯৫ হাজার ২৯ মেট্রিক টন ধান।
ধানের দাম কমে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন করিমগঞ্জ উপজেলার পুরান চামড়া গ্রামের কৃষক শাফায়েত। তিনি বলেন, ধারদেনা করে ধান চাষ করছি। অহন ধানের দাম নাই, ঋণের টাকা শোধ করাই কঠিন হয়ে যাবে। তাই দুশ্চিন্তায় আছি।

অপর এক কৃষক মমতাজ উদ্দিন জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আগে যেখানে আটশো থেকে এক হাজার টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেতো, এখন সেখানে দেড় থেকে দুই হাজার টাকাও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেরাই ধান কাটছেন।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাদিকুর রহমান বলেন, হাওরাঞ্চলের জন্য ৩৬৭টি কম্বাইন হারভেস্টার দেওয়া হয়েছে, যার ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে এই সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। প্রতি একর ধান কাটার জন্য ছয় হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নিচু ও পানিবদ্ধ জমিতে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দুর্যোগকে পুঁজি করে অস্বাভাবিক ভাড়া নেওয়া উচিত নয়।
এদিকে, শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকেই রোদের দেখা মিলেছে হাওর অঞ্চলে। এরফলে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে হাওরের কৃষকদের মধ্যে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন,পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

'এক মণ ধান বিক্রির টাকার সঙ্গে আরও ৯০০ টাকা যোগ কইরা শ্রমিকের মজুরি দিতেছি। সব জিনিসের দাম বাড়ে, বাড়ে না শুধু কৃষকের ধানের দাম। আমরা বাঁচমু কীভাবে?' আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেছেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দর্গাহাটি গ্রামের বেরিবাঁধ এলাকার কৃষক আব্দুল হেলিম।
শুক্রবার নিজের জমির ২০ মণ ধান বিক্রি করেন তিনি। প্রতি মণ ধানের দাম পান ৬০০ টাকা। তিনি জানান, তার উৎপাদন খরচ হয়েছে ১ হাজার টাকার বেশি। তার ওপর আছে শ্রমিকের মজুরি। এমন অবস্থা জেলার হাওর অঞ্চলের সব কৃষকের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ৬৩ হাজার ৬৮১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১১ লাখ ৯৫ হাজার ২৯ মেট্রিক টন ধান।
ধানের দাম কমে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন করিমগঞ্জ উপজেলার পুরান চামড়া গ্রামের কৃষক শাফায়েত। তিনি বলেন, ধারদেনা করে ধান চাষ করছি। অহন ধানের দাম নাই, ঋণের টাকা শোধ করাই কঠিন হয়ে যাবে। তাই দুশ্চিন্তায় আছি।

অপর এক কৃষক মমতাজ উদ্দিন জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আগে যেখানে আটশো থেকে এক হাজার টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেতো, এখন সেখানে দেড় থেকে দুই হাজার টাকাও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেরাই ধান কাটছেন।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাদিকুর রহমান বলেন, হাওরাঞ্চলের জন্য ৩৬৭টি কম্বাইন হারভেস্টার দেওয়া হয়েছে, যার ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে এই সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। প্রতি একর ধান কাটার জন্য ছয় হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নিচু ও পানিবদ্ধ জমিতে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দুর্যোগকে পুঁজি করে অস্বাভাবিক ভাড়া নেওয়া উচিত নয়।
এদিকে, শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকেই রোদের দেখা মিলেছে হাওর অঞ্চলে। এরফলে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে হাওরের কৃষকদের মধ্যে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন,পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এক মণ ধানের দাম ৬০০, শ্রমিকের মজুরি ১৫০০ টাকা
কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা

'এক মণ ধান বিক্রির টাকার সঙ্গে আরও ৯০০ টাকা যোগ কইরা শ্রমিকের মজুরি দিতেছি। সব জিনিসের দাম বাড়ে, বাড়ে না শুধু কৃষকের ধানের দাম। আমরা বাঁচমু কীভাবে?' আক্ষেপ করে কথাগুলো বলেছেন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দর্গাহাটি গ্রামের বেরিবাঁধ এলাকার কৃষক আব্দুল হেলিম।
শুক্রবার নিজের জমির ২০ মণ ধান বিক্রি করেন তিনি। প্রতি মণ ধানের দাম পান ৬০০ টাকা। তিনি জানান, তার উৎপাদন খরচ হয়েছে ১ হাজার টাকার বেশি। তার ওপর আছে শ্রমিকের মজুরি। এমন অবস্থা জেলার হাওর অঞ্চলের সব কৃষকের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর এবং নন-হাওর এলাকায় ৬৩ হাজার ৬৮১ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৬ মেট্রিক টন চাল এবং ১১ লাখ ৯৫ হাজার ২৯ মেট্রিক টন ধান।
ধানের দাম কমে যাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন করিমগঞ্জ উপজেলার পুরান চামড়া গ্রামের কৃষক শাফায়েত। তিনি বলেন, ধারদেনা করে ধান চাষ করছি। অহন ধানের দাম নাই, ঋণের টাকা শোধ করাই কঠিন হয়ে যাবে। তাই দুশ্চিন্তায় আছি।

অপর এক কৃষক মমতাজ উদ্দিন জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। আগে যেখানে আটশো থেকে এক হাজার টাকায় শ্রমিক পাওয়া যেতো, এখন সেখানে দেড় থেকে দুই হাজার টাকাও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজেরাই ধান কাটছেন।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাদিকুর রহমান বলেন, হাওরাঞ্চলের জন্য ৩৬৭টি কম্বাইন হারভেস্টার দেওয়া হয়েছে, যার ৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে এই সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। প্রতি একর ধান কাটার জন্য ছয় হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নিচু ও পানিবদ্ধ জমিতে কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দুর্যোগকে পুঁজি করে অস্বাভাবিক ভাড়া নেওয়া উচিত নয়।
এদিকে, শুক্রবার (৮ মে) সকাল থেকেই রোদের দেখা মিলেছে হাওর অঞ্চলে। এরফলে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে হাওরের কৃষকদের মধ্যে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন,পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।




